ওয়াশিংটন পোস্টের নির্বাহী সম্পাদক মেট মুরে বুধবার একটি অভ্যন্তরীণ কলের মাধ্যমে কর্মীদের জানিয়ে দেন যে, সংবাদপত্রের সব বিভাগে ব্যাপক ছাঁটাই শুরু হয়েছে। কলের রেকর্ডিং রয়টার্সের সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে এবং এতে আন্তর্জাতিক, সম্পাদনা, মেট্রো ও ক্রীড়া সহ বিভিন্ন ডেস্কের কর্মী প্রভাবিত হবে বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপটি ১৪৫ বছরেরও বেশি পুরনো প্রকাশনার আর্থিক চাপে নেওয়া হয়েছে; বিশেষ করে ২০২৬ শীতকালীন অলিম্পিকের কভারেজ হ্রাসের পর থেকে ক্ষতির পরিমাণ বাড়ে যাওয়ায় সংস্থার কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মুরে উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে প্রকাশনা একটি প্রায় একচেটিয়া স্থানীয় সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করছিল, যা আজকের ডিজিটাল যুগে আর টেকসই নয়। তিনি নতুন দিকনির্দেশনা ও শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, যাতে ভবিষ্যতে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায়।
একজন কর্মী, যিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন, এই ছাঁটাইকে “রক্তস্রাব” বলে বর্ণনা করেছেন, যা কর্মীসংখ্যা হ্রাসের তীব্রতা নির্দেশ করে।
প্রভাবিতদের মধ্যে রয়েছে আমাজনের ব্যবসা বিভাগে কাজ করা ক্যারোলিন ও’ডোনোভান, ক্যায়রো বুরো প্রধান ক্লেয়ার পার্কার এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রতিবেদক ও সম্পাদক। উভয়েরই টুইটারে প্রকাশিত পোস্টে এই সিদ্ধান্তের ব্যাপক প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
ওয়াশিংটন পোস্টের একটি অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, আজকের পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য কঠিন কিন্তু নির্ধারিত, এবং সংস্থার মূল লক্ষ্য হল অনন্য সাংবাদিকতা বজায় রেখে পাঠক ও গ্রাহকদের সঙ্গে সংযোগ শক্তিশালী করা।
ডিজিটাল যুগে সংবাদমাধ্যমের ব্যবসা মডেল দীর্ঘদিন ধরে সংকটে; ইন্টারনেটের উত্থান প্রচলিত বিজ্ঞাপন ও সাবস্ক্রিপশন আয়ের কাঠামোকে ব্যাহত করেছে। এই চ্যালেঞ্জের মুখে বেশিরভাগ প্রকাশনা সংস্থা টেকসই মডেল খুঁজতে সংগ্রাম করছে।
মুরে আরও জানান যে, সব বিভাগই প্রভাবিত হবে, তবে রাজনীতি ও সরকার বিষয়ক ডেস্ক সর্ববৃহৎ থাকবে এবং গ্রাহক বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে, বর্তমান রূপে ক্রীড়া বিভাগ বন্ধ করা হবে।
গত বছরও পোস্টের বিভিন্ন ব্যবসায়িক ফাংশনে পরিবর্তন আনা হয়েছিল, তবে সেই সময়ে newsroom-এ কোনো চাকরি কাটা হয়নি। প্রকাশনাটি আমাজন.com (আমাজন) প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের মালিকানাধীন, এবং তার আর্থিক নীতি ও কৌশল এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন।
এই ছাঁটাই সংবাদ কভারেজের পরিধি সংকুচিত করবে, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক রিপোর্টিংয়ে প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে, সাবস্ক্রাইবার বেস বজায় রাখতে এবং বিজ্ঞাপন আয় বাড়াতে পোস্টকে তার মূল শক্তি—রাজনীতি ও সরকার বিষয়ক বিশ্লেষণে মনোযোগ দিতে হবে।
ভবিষ্যতে, পোস্টের কাঠামোগত পুনর্গঠন কীভাবে বাজারের চাহিদা ও ডিজিটাল প্রতিযোগিতার সঙ্গে সামঞ্জস্য করবে, তা শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে দাঁড়াবে। সংস্থার আর্থিক স্বাস্থ্যের পুনরুদ্ধার এবং পাঠকের বিশ্বাস বজায় রাখতে এই পদক্ষেপগুলো কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



