মার্কিন সরকার ট্রাম্পের নেতৃত্বে মিনেসোটা রাজ্য থেকে কেন্দ্রীয় অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নকারী ৭০০ জন কর্মকর্তা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত জানায়। হোয়াইট হাউসের অভিবাসন নীতি সমন্বয়কারী টম হোম্যানের মতে, এই পদক্ষেপের পরেও মধ্য‑পশ্চিমের এই রাজ্যে প্রায় দুই হাজার কর্মী সক্রিয় থাকবে।
মিনিয়াপোলিস ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবৈধ অভিবাসীদের আটক ও তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার জন্য ট্রাম্পের আদেশে হাজারো সশস্ত্র অভিবাসন কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়। এই বিশাল উপস্থিতি শহরের রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্থির করে তুলেছিল।
শহরের শেরিফের অতুলনীয় সহায়তা লক্ষ্য করে ফেডারেল কর্মকর্তাদের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমানো হচ্ছে। হোম্যান বুধবার রয়টার্সকে জানিয়ে বলেন, শেরিফের সহায়তা কার্যকর হওয়ায় কিছু সেনা ইউনিটের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পেয়েছে।
একই সংবাদ সম্মেলনে হোম্যান স্পষ্ট করে বলেন, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পুরোপুরি অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে প্রতিদিনই এই ধরনের অভিযান চালিয়ে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো ভিন্ন নির্দেশনা এখনো পাওয়া যায়নি।
রিপাবলিকান নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বারবার জোর দেওয়া হচ্ছে যে অবৈধ অভিবাসীদের অধিকাংশকে অবিলম্বে দেশ থেকে বের করে দেওয়া উচিত। তারা দাবি করে, এই গোষ্ঠী আর্থিক জালিয়াতি ও সহিংস অপরাধের মূল কারণ।
মিনেসোটা ডেমোক্র্যাট গভর্নরের অধীনে রাজ্য সরকার এই বিশাল সশস্ত্র মোতায়েনের বৈধতা নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছে। সরকার দাবি করে, ফেডারেল কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত উপস্থিতি রাজ্যের আইন ও মানবাধিকার নীতির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ।
মিনেসোটা জুড়ে কয়েক সপ্তাহব্যাপী প্রতিবাদে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুইজন আমেরিকান নাগরিকের মৃত্যু ঘটায়, যা পুরো দেশকে শোকাহত করে। এই ঘটনার পর ডেমোক্র্যাট এবং কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার কঠোরতা ও মানবিক দিক নিয়ে সমালোচনা প্রকাশ করে।
হোম্যানের মতে, জেলখানাগুলোকে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে আটককারীদের হেফাজতে রাখতে হবে। ইতিমধ্যে কিছু জেল অবৈধ অভিবাসীদের হেফাজত ফেডারেল এজেন্টদের কাছে হস্তান্তর করেছে, তবে মিনিয়াপোলিসের প্রধান জেলসহ কয়েকটি জেল এখনও সহযোগিতা করছে না।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ফেডারেল স্তরে অভিবাসন আইন প্রয়োগের তীব্রতা বজায় থাকবে এবং আইনি চ্যালেঞ্জের ফলে রাজ্য ও ফেডারেল স্তরে টানাপোড়েন বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে উভয় পার্টির মধ্যে তীব্র বিতর্কের সূত্রপাত করবে এবং ভবিষ্যতে নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা বাড়াবে।



