বারিশাল শহরে গতকাল অনুষ্ঠিত নির্বাচন র্যালিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান জামায়াত-এ-ইসলামি সমর্থকদের গোপন গোষ্ঠীকে নতুন দমনকারী হিসেবে চিহ্নিত করে ভোট চুরির সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্কতা জানান। তিনি র্যালি শুরুতেই উল্লেখ করেন, “যে গোষ্ঠীকে মানুষ গুপ্ত বলে চেনে, তারা বিভিন্ন স্থানে নকল সিল মুদ্রণ করছে”।
তারেক রহমান হেলিকপ্টার দিয়ে বারিশাল স্টেডিয়ামে অবতরণ করে গাড়িতে পরিবর্তন করে বেলস পার্ক মাঠে র্যালি ভেন্যুতে পৌঁছান। দুই দশকের পর তার এই সফর স্থানীয় নেতা ও কর্মীদের বিশাল সমাবেশকে আকৃষ্ট করে, যারা সকালবেলা থেকেই ভেন্যুর আশেপাশে জমায়েত হয়।
বক্তৃতার মধ্যে তিনি বলেন, “প্রিন্টিং প্রেসে তারা ভোটার তালিকার কাগজ, এনআইডি নম্বর এবং বিকাশ নম্বর সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে”। তিনি এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে ভোটের স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তার সরাসরি হুমকি হিসেবে তুলে ধরেন।
তারেক রহমান ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণকে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যদি কেউ আমাদের ভোট চুরি করে, তবে তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর আঘাত হানবে”। এ জন্য তিনি ভোটারদের পরিচয়পত্র ও আর্থিক তথ্য রক্ষা করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
র্যালিতে জামায়াত-এ-ইসলামি সম্পর্কিত অতীতের বিতর্কিত মন্তব্যের কথাও উঠে আসে। তিনি উল্লেখ করেন, “যে দল নারীর কাজের প্রতি অসম্মানজনক মন্তব্য করে, তার কোনো দেশপ্রেমিক নীতি নেই”। তিনি এ ধরনের মনোভাবকে দেশের অগ্রগতির বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন।
তারেক রহমানের বক্তব্যে একটি গোপন গোষ্ঠীর কুমিল্লা ভিত্তিক নেতার উক্তি উদ্ধৃত করা হয়। তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারি ১২ পর্যন্ত তারা মানুষের পা তলে বসে থাকবে, তবে তার পরের পাঁচ বছর মানুষ তাদের পা তলে বসে থাকবে”। এই মন্তব্যকে তিনি গোষ্ঠীর স্বার্থপরতা ও ক্ষমতার লোভের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
বক্তা আরও প্রশ্ন তোলেন, “এ ধরনের মানসিকতা কীভাবে দেশের স্বার্থে কাজ করতে পারে?” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যারা মায়ের ও বোনের মর্যাদা না জানে, তারা দেশের গৌরব বাড়াতে পারে না”। এভাবে তিনি গোষ্ঠীর নৈতিক অবনতিকে তুলে ধরেন।
র্যালিতে উপস্থিত ভক্ত ও কর্মীরা তারেকের কথা শোনার পর তালি ও উল্লাসে গর্জন করে। স্থানীয় নেতা ও কর্মীরা তারেকের সঙ্গে মিলে ভোটারদের সতর্কতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা করেন। র্যালি শেষে উপস্থিতির সংখ্যা ও উচ্ছ্বাসকে তিনি দেশের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির সূচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, তারেকের এই র্যালি এবং ভোট চুরির সতর্কতা দেশের নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি ভোটারদের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং গোপন গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপ রোধে সক্রিয় ভূমিকা নিতে আহ্বান জানান। আসন্ন নির্বাচনের আগে এ ধরনের রাজনৈতিক বার্তা ভোটারদের মনোভাব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
র্যালি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারেক রহমান আবার হেলিকপ্টার দিয়ে বিদায় নেন, তবে তার বক্তব্যের প্রভাব নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে চলমান আলোচনায় দীর্ঘস্থায়ী হবে।



