ঢাকা, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – জামাতের সরকার গঠনের সম্ভাবনা বাড়লে, মন্ত্রিসভায় নারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে দলটির ইশতেহার থেকে জানা যায়। ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শীর্ষ মন্ত্রিসভার পদে অন্তত অর্ধেক নারী থাকবে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বৃহৎ স্কেল নারীর প্রতিনিধিত্ব নির্দেশ করে।
ইশতেহারে উল্লেখিত এই পদক্ষেপের পাশাপাশি, জামাতের ৪১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে নারীর ক্ষমতায়নকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু নীতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তদুপরি, দলটি নারী কর্মসংস্থান বাড়াতে বিশেষ নীতি প্রণয়ন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে গৃহকর্মীদের জন্য ৫ ঘণ্টার কাজের সময়সূচি এবং সরকারি প্রকল্পে নারীর অংশগ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ।
দলটির মন্ত্রিসভার গঠন পরিকল্পনা অনুযায়ী, অর্থ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, এবং সামাজিক কল্যাণ ministries-এ নারীর নেতৃত্ব নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নারী মন্ত্রী নিয়োগের মাধ্যমে, নারীর স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে চায় দলটি। এই নীতি, দেশের পূর্বের মন্ত্রিসভায় নারীর অংশগ্রহণের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
ইশতেহারে উল্লেখিত অন্যান্য মূল প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে রয়েছে ৭ কোটি মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য, দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়সঙ্গত শাসন গড়ে তোলার অঙ্গীকার, এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ। বিশেষ করে, গৃহকর্মী ও সেবা খাতের কর্মীদের জন্য ৫ ঘণ্টার কাজের সময়সূচি বাস্তবায়ন করে, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত করার পরিকল্পনা দলটি তুলে ধরেছে।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই ইশতেহার সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না থাকলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নারীর বৃহৎ অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি ভোটারদের বিশেষ করে শহুরে ও তরুণ গোষ্ঠীর কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেতে পারে। একই সঙ্গে, এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাঠামো ও বাজেটের বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়, যা ভবিষ্যতে বিতর্কের বিষয় হতে পারে।
ইতিহাসে, বাংলাদেশ সরকারে নারীর মন্ত্রিসভা অংশগ্রহণ সর্বোচ্চ ২০ শতাংশের কাছাকাছি সীমায় সীমাবদ্ধ ছিল। জামাতের ইশতেহার অনুযায়ী, এই শতাংশকে ৫০ শতাংশের উপরে নিয়ে যাওয়া একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন, যা নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে, মন্ত্রিসভার গঠন প্রক্রিয়ায় পার্টির অভ্যন্তরীণ গঠন, কূটনৈতিক চাপ এবং নির্বাচনী ফলাফলের ওপর নির্ভরশীলতা এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
দলটির ইশতেহারে উল্লেখিত নারীর মন্ত্রিসভা গঠন পরিকল্পনা, দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে লিঙ্গ সমতা নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। যদি জামাত সরকার গঠন করে, তবে মন্ত্রিসভার কাঠামো ও নীতি নির্ধারণে নারীর ভূমিকা কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা দেশের ভবিষ্যৎ নীতি দিকনির্দেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
অবশেষে, জামাতের ইশতেহার থেকে স্পষ্ট যে, নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়িয়ে সরকার গঠন করা তাদের মূল নির্বাচনী কৌশলের অংশ। এই পদক্ষেপের বাস্তবায়ন কতটা সফল হবে, তা নির্বাচনের ফলাফল, পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং জনমত গঠনের ওপর নির্ভরশীল। ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভায় নারীর উপস্থিতি কতটা কার্যকরভাবে নীতি প্রণয়নে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



