তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের জানানো তথ্য অনুযায়ী, শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরের বেশ কয়েকটি এলাকায় ২১ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহে স্বল্পচাপ দেখা যাবে। এই ব্যাঘাতের মূল কারণ হল তিতাস গ্যাসের অধীনে থাকা ২০ ইঞ্চি ব্যাসের সঞ্চালন পাইপলাইনটি বদলানোর কাজ, যা আদমজী ইপিজেডের ভেতরে অবস্থিত।
পাইপলাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দ্রুত মেরামত ও প্রতিস্থাপন করা জরুরি বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাজটি শুরু হবে বৃহস্পতিবার ৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টা থেকে এবং শেষ হবে শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত, মোট ২১ ঘণ্টা সময়ের জন্য গ্যাসের চাপ কমে যাবে।
এই সময়কালে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম দিকের নারায়ণগঞ্জ, পঞ্চবটি, মুক্তারপুর, মুন্সিগঞ্জ, জিনজিরা এবং শ্যামপুর (বিসিক) এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহক স্বল্পচাপের শিকার হবে। কিছু পার্শ্ববর্তী এলাকায় গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধের সম্ভাবনাও রয়েছে, যা স্থানীয় ব্যবসা ও গৃহস্থালির দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রভাব ফেলতে পারে।
গৃহস্থালিতে গ্যাসের স্বল্পচাপের ফলে রান্না, গরম পানি এবং হিটিংয়ে অসুবিধা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসা, রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলো গ্যাসের বিকল্প হিসেবে লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহার করতে বাধ্য হতে পারে, যা অতিরিক্ত খরচের সৃষ্টি করবে। শিল্পখাতে গ্যাস-চালিত বয়লার ও উৎপাদন লাইনগুলো সাময়িকভাবে কম ক্ষমতায় কাজ করতে পারে, ফলে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাবে।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্বল্পচাপের সময়কালীন গ্যাস চাহিদা হ্রাসের ফলে তিতাস গ্যাসের বিক্রয় আয় সাময়িকভাবে কমে যাবে। একই সঙ্গে, গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এলপিজি ও বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে, যা সংশ্লিষ্ট বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে তিতাস গ্যাসের শেয়ার মূল্যে কোনো তাত্ক্ষণিক প্রভাব পড়েনি, কারণ বাজারে এই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য পূর্বাভাসমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ঐতিহ্য রয়েছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এই ব্যাঘাতের জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং গ্যাসের ব্যবহার সংযমের আহ্বান জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, কাজ শেষ হওয়ার পর পাইপলাইনটির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যার ঝুঁকি কমাবে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, যদিও স্বল্পমেয়াদে গ্যাস সরবরাহে ব্যাঘাত ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে অবকাঠামো উন্নয়ন শিল্পের উৎপাদনশীলতা ও গ্রাহক সন্তুষ্টি বাড়াবে। তাই এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজকে একটি প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখা উচিত, যা ভবিষ্যতে গ্যাস লিকেজ ও অপ্রত্যাশিত বন্ধের ঝুঁকি হ্রাস করবে।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গৃহস্থালির জন্য এই সময়ে ব্যাকআপ জ্বালানি ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা জরুরি। বিশেষ করে গ্যাস-নির্ভর শিল্পগুলোকে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহকারী সঙ্গে চুক্তি পুনর্বিবেচনা করতে হবে, যাতে উৎপাদন বন্ধের ঝুঁকি কমে। একই সঙ্গে, গ্রাহকদের এলপিজি সিলিন্ডার সংরক্ষণ ও ব্যবহার পরিকল্পনা তৈরি করা উচিত, যাতে দৈনন্দিন কাজকর্মে কোনো বাধা না আসে।
সারসংক্ষেপে, তিতাস গ্যাসের শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে ২১ ঘণ্টা গ্যাস স্বল্পচাপের ব্যবস্থা সাময়িক অস্বস্তি সৃষ্টি করবে, তবে অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। গ্রাহক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সময়ে বিকল্প জ্বালানির প্রস্তুতি নিয়ে অপ্রয়োজনীয় ক্ষতি এড়াতে হবে।



