24 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকউখিয়ায় শরণার্থী শিবিরের ছায়া ভোটের ওপর প্রভাব ফেলছে

উখিয়ায় শরণার্থী শিবিরের ছায়া ভোটের ওপর প্রভাব ফেলছে

কক্সবাজারের উখিয়া জেলায় শরণার্থী সংকটই এখন রাজনৈতিক আলোচনার প্রধান বিষয়। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা স্থানীয় জনসংখ্যার প্রায় তিন গুণ, যা দৈনন্দিন জীবন, নিরাপত্তা, আয় এবং আসন্ন নির্বাচনের ভোটদানের পদ্ধতিকে প্রভাবিত করছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে শত শত হাজার মানুষ পালিয়ে আসার নয় বছর পর, উখিয়া ও টেকনাফের প্রায় ১.৫ মিলিয়ন রোহিঙ্গা শরণার্থীর সঙ্গে স্থানীয়দের প্রাথমিক সহানুভূতি এখন ক্রোধ, ভয় এবং হতাশায় রূপান্তরিত হয়েছে।

এই পরিবর্তনের সবচেয়ে স্পষ্ট চিত্র দেখা যায় রাজাপালং ইউনিয়নের লাম্বাশিয়া গ্রামে, যা কুতুপালং শিবিরের সীমানার ঠিক পাশে অবস্থিত। বিশ্বের বৃহত্তম ও সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরের নিকটবর্তী এই গ্রামটির কিছু বাড়ি শিবিরের ভিতরে পড়ে, ফলে গ্রামবাসী ও শরণার্থীরা একই রাস্তা ভাগ করে চলেন, শিবিরের শিশুরা গ্রামবাড়ির উঠোনে খেলতে থাকে। বহিরাগতদের জন্য শিবিরের সীমানা ও গ্রামবাড়ির পার্থক্য স্পষ্টভাবে চেনা কঠিন।

লাম্বাশিয়ায় প্রবেশের পথে শিবিরের অংশ অতিক্রম করতে হয় এবং নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে থামা বাধ্যতামূলক। গাড়ি দু’বার সশস্ত্র পুলিশ ব্যাটালিয়নের (APBn) সদস্যদের দ্বারা থামানো হয়, যা তারা রুটিন চেক হিসেবে ব্যাখ্যা করে। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা শিবিরের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং স্থানীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলায় নেওয়া হয়েছে।

গ্রামটির একজন ইলেকট্রিশিয়ান মফিজের মতে, একসময় সবুজে ভরা এই গ্রামটি ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “এখানে সবাই একে অপরকে চেনে, কিন্তু এখন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে গেছে।” মফিজের পরিবার পূর্বে আম, জাম এবং পেয়ারা গাছের পাশাপাশি তেলাপাতা চাষ করত। তিনি জানান, “সবই শিবিরের জন্য চলে গেছে।” তিনি দাবি করেন, ২০১৭ সালে শিবিরের বিস্তারকালে তাদের পারিবারিক ‘খাস’ জমি সামরিক বাহিনীর আদেশে হস্তান্তর করা হয়। “সেনাবাহিনী আমাদেরকে কাগজপত্র দেখাতে বলেছিল, কিন্তু আমাদের কাছে কোনো নথি ছিল না। আমাদের পূর্বপুরুষদের শতাব্দী ধরে চাষ করা জমি নিয়ে আমরা কোনো কথা বলতে পারিনি; শেষ পর্যন্ত জমি আমাদের থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়,” তিনি বলেন।

এই জমি হস্তান্তরের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে এই বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। এক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, “যদি জমি স্বেচ্ছায় হস্তান্তর না হয়ে থাকে, তবে তা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।” অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেন, “শিবিরের নিরাপত্তা ও শরণার্থীদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে কিছু সময়ে জরুরি ব্যবস্থা নিতে হয়।”

উখিয়ার শরণার্থী সংকটের প্রভাব দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশেও স্পষ্ট। জাতীয় নির্বাচন আসন্ন, এবং শরণার্থীর উপস্থিতি ভোটের গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে। যদিও শরণার্থীরা ভোটদানের অধিকার পায় না, তবে তাদের সঙ্গে স্থানীয়দের পারস্পরিক সম্পর্ক, সম্পদ ভাগাভাগি এবং নিরাপত্তা উদ্বেগ ভোটারদের মনোভাব গঠন করে। রাজনৈতিক দলগুলো শিবিরের পরিচালনা, জমি পুনর্বণ্টন এবং স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যা নির্বাচনের মূল প্রতিযোগিতার বিষয় হয়ে উঠেছে।

আঞ্চলিকভাবে, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের জন্য চ্যালেঞ্জের সমান। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এশীয় প্রতিবেশী দেশগুলো বাংলাদেশকে শরণার্থী ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সহায়তা বাড়াতে আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে, মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় শরণার্থীদের স্বেচ্ছা প্রত্যাবর্তন ও নিরাপদ পুনর্বাসনের পথ খোঁজা হচ্ছে। এক কূটনীতিকের মতে, “শরণার্থী সংকটের সমাধান না হলে উখিয়ার মতো সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে সামাজিক উত্তেজনা বাড়বে এবং তা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করবে।”

শিবিরের সম্প্রসারণ ও জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার নজরে রয়েছে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (UNHCR) রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তবে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হয়েছে।

ভবিষ্যতে, উখিয়ার শরণার্থী শিবিরের সীমানা ও জমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আইনগত সিদ্ধান্ত, আন্তর্জাতিক তহবিলের প্রবাহ এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিবিধি একসাথে নির্ধারণ করবে যে এই অঞ্চলটি কীভাবে শরণার্থী ও স্থানীয়দের সহাবস্থানকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করবে। নির্বাচনের পরবর্তী মাসগুলোতে শিবিরের নিরাপত্তা, পুনর্বাসন নীতি এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে থাকবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments