কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যান্সার রোগীদের প্রায় অর্ধেকই তামাকজনিত ক্যান্সারে আক্রান্ত। এই তথ্য দেশের ক্যান্সার রোগের বৃদ্ধিতে তামাকের প্রভাবকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। গবেষণাটি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত হওয়ায় বর্তমান স্বাস্থ্যপরিস্থিতির সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বাংগাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (BMU) এই গবেষণার দায়িত্বে ছিল এবং হোসেনপুর উপজেলার ২.৩২ লক্ষ জনসংখ্যা অন্তর্ভুক্ত একটি জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যান্সার রেজিস্ট্রি তৈরি করেছে। রেজিস্ট্রি ২০১৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সংগ্রহ করা তথ্যের উপর ভিত্তি করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই পদ্ধতি রোগের ধরণ ও ঝুঁকি নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রদান করে।
রেজিস্ট্রি অনুযায়ী, মোট ক্যান্সার রোগীর ৪৬ শতাংশ তামাকের সঙ্গে যুক্ত ক্যান্সার হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। লিপ ও মুখগহ্বর, গলা, পেট ও ফুসফুসের ক্যান্সার এই গোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, যেখানে প্রতিটি রোগের অনুপাত যথাক্রমে প্রায় ১২, ১০, ৯ এবং ৮ শতাংশ। তামাকজনিত ক্যান্সার রোগীর মোট সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, পুরুষ রোগীদের মধ্যে ৭৩ শতাংশের ধূমপানের ইতিহাস রয়েছে, আর নারীদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ স্মোকলেস তামাক ব্যবহারকারী হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। তামাক ব্যবহারের পদ্ধতি অনুযায়ী এই পার্থক্য দেখা যায়, যেখানে পুরুষরা প্রধানত সিগারেট ও বিড়ি ধূমপান করে, আর নারীরা গুটকা, সুতি এবং চাবুকের মতো গুঁড়ো তামাক ব্যবহার করে। বয়সের দিক থেকে ৪৫ বছরের উপরে অধিকাংশ রোগী এই অভ্যাসের দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল ভোগ করছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সং



