ইন্টারিম সরকারের ব্যাংক ঋণ প্রথম সাত মাসে FY২০২৫-২৬ তে প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে, যখন ব্যয় রাজস্বের তুলনায় দ্রুত বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত অস্থায়ী তথ্য অনুযায়ী, ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকার মোট টাকার ঋণ ৪৮,৮১৯ কোটি টাকা পৌঁছেছে, যেখানে একই সময়ে গত বছর মাত্র ১০,৫৫৮ কোটি টাকা ছিল।
এই পরিমাণ ইতিমধ্যে পুরো বছরের ঋণ লক্ষ্য ১,০৪,০০০ কোটি টাকার প্রায় অর্ধেককে প্রতিনিধিত্ব করে।
সরকারি ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে কর সংগ্রহের গতি তা অনুসরণ করতে পারছে না।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুসারে, FY২৬ প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব সংগ্রহে ১৪ শতাংশের বৃদ্ধি পেয়ে ১,৮৫,২২৯ কোটি টাকা হয়েছে, তবু লক্ষ্য থেকে প্রায় ৪৬,০০০ কোটি টাকা কম।
গত বছরের একই সময়ে রাজস্ব ১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল, যা আগস্ট ২০২৪-এ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরের অশান্তির ফলে ঘটেছিল।
সিএপিডি-র নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন উল্লেখ করেন যে, বর্তমান আর্থিক অবস্থা টেকসই নয়।
তিনি বলেন, দেশীয় সম্পদ সংগ্রহের দুর্বলতা ঋণ বাড়িয়ে দেয় এবং দৈনন্দিন ব্যয় পরিচালনার জায়গা কমিয়ে দেয়।
কম ট্যাক্স‑টু‑GDP অনুপাতের ফলে সরকার ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে তুলেছে, যা ঋণ ও সুদের বোঝা বাড়িয়ে দেয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঋণ বুলেটিনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, FY২৫ সালে সুদ পরিশোধের খরচ রেকর্ড ১,৩২,৪৬০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের প্রায় এক-ভাগ।
বর্তমান আর্থিক বছরে সুদ ব্যয় ১,২২,০০০ কোটি টাকা অনুমান করা হয়েছে, যা বাজেটের ১৩ শতাংশ গঠন করে।
ঋণ সেবা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো মতো গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরের জন্য বরাদ্দ কমে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
ফাহমিদা খাতুনের মতে, কর সংগ্রহ দ্রুত না বাড়লে ঋণ চাপ আরও বাড়বে এবং আর্থিক নীতি প্রয়োগে সীমাবদ্ধতা দেখা দেবে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে ধারাবাহিক ঋণ গ্রহণ দেশের ঋণ‑টু‑GDP অনুপাত বাড়িয়ে তুলবে, বহিরাগত শক মোকাবেলায় দুর্বলতা সৃষ্টি করবে এবং নীতি নমনীয়তা সীমিত করবে।



