24 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাচট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ, ১০ জাহাজ ও ১৩,০০০ কনটেইনার আটকে, রপ্তানি ক্ষতি ৮...

চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ, ১০ জাহাজ ও ১৩,০০০ কনটেইনার আটকে, রপ্তানি ক্ষতি ৮ হাজার কোটি টাকা

চট্টগ্রাম বন্দর আজকের কর্মবিরতির ফলে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে; জেটি, বন্দর চত্বর এবং বেসরকারি ডিপোতে মোট দশটি জাহাজ ও প্রায় তের হাজার কনটেইনার আটকে রয়েছে। এই অবস্থা দেশের রপ্তানি পণ্যের মূল্যকে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।

সাধারণত বন্দর থেকে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার কনটেইনার রপ্তানি হয়, যা দেশের বাণিজ্যিক প্রবাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে ধারাবাহিক কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ বুধবার, কোনো কনটেইনারই রপ্তানি করা সম্ভব হয়নি।

বিরতির সূচনা হয়েছিল গত শনিবার, যখন কর্মীদের আট ঘণ্টা সময়ের সীমিত ধর্মঘটের আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার থেকে তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ বন্ধ করে, এবং আজকের পর্যন্ত এই অবস্থা অব্যাহত রয়েছে। কর্মবিরতির মূল দাবি হল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা।

বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জেটি ও বন্দর চত্বরের পাশাপাশি বেসরকারি ডিপোতে প্রায় তের হাজার একক রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার আটকে আছে। এই কনটেইনারে থাকা পণ্যের মোট মূল্য আনুমানিক ষাট ছয় কোটি ডলার, যা প্রায় আট হাজার কোটি টাকার সমান।

এনসিটি-কে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অধীনে এই কর্মবিরতি চলছে। শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো এই লিজকে জাতীয় স্বার্থের বিপরীত বলে দাবি করে, এবং তা রোধের জন্য বন্দর বন্ধের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

গত অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানির ৯১ শতাংশই চট্টগ্রাম বন্দর থেকে হয়েছে; তাই এই ধরণের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধ দেশের বাণিজ্যিক স্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও পরিস্থিতি তীব্র, সরকারী কোনো সংস্থার দৃশ্যমান হস্তক্ষেপ এখনো দেখা যায়নি, যা রপ্তানি খাতের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী জানান, তৈরি পোশাক শিল্প রপ্তানি ও আমদানি উভয়েরই প্রধান অংশীদার, এবং বন্দর বন্ধ হলে এই সেক্টর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সময়মতো রপ্তানি না হলে বিদেশি ক্রেতারা মূল্যছাড়ের দাবি করতে পারে অথবা অর্ডার বাতিলের সম্ভাবনা থাকে। ইতিমধ্যে এই তথ্য বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে, যা তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বন্দরের বন্ধের ফলে কাঁচামাল সরবরাহে দেরি হবে, যা সরবরাহ শৃঙ্খলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং পোশাক উৎপাদনের সময়সীমা সংকুচিত করবে। উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপের জন্য সময়মতো কাঁচামাল প্রাপ্তি অপরিহার্য, আর এই দেরি পুরো শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতাকে কমিয়ে দিতে পারে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, যদি কর্মবিরতি দীর্ঘায়িত হয় তবে রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে এবং দেশের বাণিজ্যিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাই দ্রুত সমঝোতা ও সমস্যার সমাধান না হলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রপ্তানি কার্যক্রমের পুনরায় চালু হওয়া অনিশ্চিত রয়ে যাবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments