অস্ট্রেলিয়ান-আমেরিকান গায়িকা ম্যাডিসন বিয়ার, ২৬ বছর বয়স, তার তৃতীয় স্টুডিও অ্যালবাম “Locket” প্রকাশের পর শিল্পের বর্তমান অবস্থান এবং সামাজিক মিডিয়ার সঙ্গে তার জটিল সম্পর্ক সম্পর্কে স্পষ্ট মন্তব্য করেন। তিনি জানিয়েছেন যে, যদিও তার ক্যারিয়ার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলছে, তবুও কিছু মানুষ তাকে এখনও সফল হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছেন না। এই মন্তব্যটি তার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের মূল বিষয়বস্তু হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে।
“Locket” অ্যালবামটি ১৬ জানুয়ারি প্রকাশিত হওয়ার পর বিলবোর্ড ২০০ তালিকায় শীর্ষ দশের মধ্যে প্রবেশ করে, যা বিয়ারের জন্য প্রথমবারের মতো এই সাফল্য। একই সঙ্গে অ্যালবামের প্রধান গীত “Bittersweet” হট ১০০ তালিকায় তার প্রথম এন্ট্রি নিশ্চিত করে, যা তার সঙ্গীত যাত্রায় একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে গণ্য হয়। এই দুইটি সাফল্য তার পূর্বের রেকর্ড চুক্তি এবং ইউটিউব ভিত্তিক ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বিয়ার ১৩ বছর বয়সে জাস্টিন বিবারের সমর্থন পেয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রবেশ করেন; সেই সময়ের একটি ভাইরাল ভিডিওই তাকে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি এনে দেয়। এরপর তিনি দুইটি প্রধান রেকর্ড লেবেলে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ধারাবাহিকভাবে সিঙ্গেল ও অ্যালবাম প্রকাশ করেন, যা তাকে ইউটিউব থেকে শুরু করে নিউ ইয়ার্স রকিন’ ইভের মতো বড় ইভেন্টে পারফর্ম করার সুযোগ দেয়। দশ বছরের বেশি সময়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে তার সঙ্গীত শৈলীকে পরিশীলিত করে আসছেন, যদিও তার জনপ্রিয়তা সবসময় সমানভাবে স্বীকৃত হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মিডিয়ায় তার বিরুদ্ধে কিছু সমালোচনামূলক টিকটক ভিডিও দেখা যায়, যেখানে তাকে ‘সফল নয়’ বা ‘গুরুত্বহীন’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিয়ার এই ধরনের মন্তব্যকে ‘মজার’ বলে উল্লেখ করে, এবং তিনি জানান যে তিনি নিজের কাজ ও সাফল্য নিয়ে সন্তুষ্ট। তিনি আরও যোগ করেন, “আমি অন্যের দৃষ্টিতে না গিয়ে নিজের সন্তুষ্টিতে মনোযোগ দিই, তাই এই ধরনের সমালোচনা আমাকে প্রভাবিত করে না।” এই বক্তব্য তার আত্মবিশ্বাস এবং আত্মমর্যাদার প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিয়ারের সামাজিক মিডিয়ায় অনুসারীর সংখ্যা বর্তমানে ৪০ মিলিয়নেরও বেশি, যা তাকে ডিজিটাল যুগের অন্যতম প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর করে তুলেছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, এই বিশাল অনুসারী ভিত্তি তার জন্য একধরনের দ্বিমুখী তলোয়ার, কারণ তার শৈশব ও কৈশোরের বেশিরভাগ মুহূর্তই অনলাইনে সংরক্ষিত হয়েছে। এই পরিস্থিতি তাকে সামাজিক মিডিয়ার সঙ্গে জটিল সম্পর্ক গড়ে তুলতে বাধ্য করেছে, যেখানে তিনি কখনো কখনো নিজেকে অতিরিক্ত প্রকাশিত বোধ করেন।
বিয়ার বর্তমান পপ সংস্কৃতির প্রবণতাগুলোর প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে “Heated Rivalry” নামক জনপ্রিয় শোয়ের প্রতি তার উত্সাহ উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, “এই শোটি আমাকে বর্তমান পপ সংস্কৃতির সঙ্গে সংযুক্ত রাখে এবং আমি এর প্রতি আসক্ত।” এই ধরনের ব্যক্তিগত পছন্দ তার ফ্যানদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করে এবং তার অনলাইন উপস্থিতিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
দীর্ঘমেয়াদে তিনি শহরের আলো থেকে দূরে, কোনো গ্রাম্য পরিবেশে একটি ছোট ফার্মে বসবাসের স্বপ্ন দেখেন। “আমি একদিন কোনো এক সময়ে শহরের কোলাহল থেকে দূরে, প্রকৃতির মাঝে শান্তি খুঁজে পেতে চাই,” তিনি মন্তব্য করেন। এই ইচ্ছা তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ, যেখানে তিনি স্বীকার করেন যে, সর্বদা জনসমক্ষে উপস্থিত থাকা তার জন্য টেকসই নয়।
সঙ্গীত শিল্পে তার অবস্থানকে দৃঢ় করতে এবং নতুন সৃষ্টির পথে অগ্রসর হতে বিয়ার এখনো সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। “Locket” অ্যালবামের সাফল্য তাকে নতুন সঙ্গীত প্রকল্প এবং আন্তর্জাতিক ট্যুরের পরিকল্পনা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমি এখনো শিখতে এবং বেড়ে উঠতে চাই, এবং আমার সঙ্গীতের মাধ্যমে মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে চাই।” এই দৃষ্টিভঙ্গি তার ক্যারিয়ারের পরবর্তী ধাপের জন্য দৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করে।
বিয়ারের এই প্রকাশনা এবং তার নতুন অ্যালবামের সাফল্য দেখায় যে, তিনি এখনও শিল্পের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন, যদিও তার প্রতি সমালোচনার স্রোত কখনো থামে না। তার আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তাকে সঙ্গীত জগতে একটি স্থায়ী উপস্থিতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
সারসংক্ষেপে, ম্যাডিসন বিয়ার তার তৃতীয় অ্যালবাম “Locket” দিয়ে বিলবোর্ড ২০০-এ শীর্ষ দশে পৌঁছানোর পাশাপাশি হট ১০০-এ প্রথম এন্ট্রি নিশ্চিত করেছেন, এবং সামাজিক মিডিয়ার সঙ্গে তার জটিল সম্পর্ক সত্ত্বেও তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তার ক্যারিয়ারকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং শিল্পে তার অবদান ভবিষ্যতে আরও নতুন সাফল্যের সূচনা করবে।



