ইসাবেল স্যান্ডোয়াল পরিচালিত নতুন চলচ্চিত্র ‘মুনগ্লো’ রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বড় স্ক্রিন প্রতিযোগিতায় প্রদর্শিত হয়েছে। ফিলিপাইনের ১৯৭৯ সালের ফার্দিনান্দ মারকোস শাসনের পটভূমিতে গড়ে ওঠা এই কাজটি পুরনো নোয়ার শৈলীর সঙ্গে আধুনিক রোমান্সের মিশ্রণ ঘটায়। চলচ্চিত্রের প্রধান চরিত্রে স্যান্ডোয়াল নিজেই, আর জোড়া অভিনেতা আরজো আতায়দে, ডেনিস মারাসিগান, পাউলো ও’হারা, বম্বি প্লাটা এবং অ্যাগট ইসিদ্রো উপস্থিত।
চিত্রটি শৈল্পিকভাবে সমৃদ্ধ, রঙের ব্যবহার ও ক্যামেরার কোণায় সূক্ষ্মতা দেখা যায়, যা ‘চায়না টাউন’ ও ‘ইন দ্য মুড ফর লাভ’ এর নোয়ারিক পরিবেশের স্মৃতি জাগায়। গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নিষিদ্ধ প্রেম, হত্যাকাণ্ড, ব্ল্যাকমেইল এবং ঘুষের জটিল জাল, যদিও গুলিবিদ্ধ দৃশ্য কেবল শেষের দিকে প্রকাশ পায়। এই উপাদানগুলো একত্রে ১৯৭৯ সালের রাজনৈতিক অশান্তি ও সামাজিক দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে।
‘মুনগ্লো’ তে রোমান্সের উষ্ণতা ও অপরাধের শীতলতা একে অপরের সঙ্গে টানাপোড়েন করে। প্রধান চরিত্রের মধ্যে গড়ে ওঠা অবৈধ সম্পর্ককে রাজনৈতিক দমনমূলক পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত করে, যা দর্শকের মধ্যে সময়ের গন্ধ ও ঐতিহাসিক চাপে নিমজ্জিত করে। তবে গল্পের মোড়গুলো পূর্বাভাসযোগ্য হওয়ায় উত্তেজনার মাত্রা কমে যায়, ফলে থ্রিলার হিসেবে প্রত্যাশিত তীব্রতা কমে যায়।
চিত্রের গতি ধীর, যা কিছু দর্শকের জন্য মনোযোগ ধরে রাখতে কঠিন হতে পারে। গল্পের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো দীর্ঘ সময়ের পরই প্রকাশ পায়, ফলে সাসপেন্সের অভাব স্পষ্ট হয়। তবে দৃশ্যমান সৌন্দর্য ও রঙের সমন্বয় চলচ্চিত্রকে একটি ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা বানিয়ে দেয়, যা নোয়ার শৈলীর প্রতি সম্মান জানায়।
অভিনয় ক্ষেত্রে, প্রধান অভিনেতাদের পারফরম্যান্স সংযত ও মিতব্যয়ী, যা চরিত্রের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ করে। তবে এই সংযততা কখনও কখনও দর্শকের আবেগকে উস্কে দিতে ব্যর্থ হয়, ফলে চূড়ান্ত মুহূর্তে উত্তেজনা কমে যায়। সামগ্রিকভাবে, চলচ্চিত্রের ভিজ্যুয়াল দিক শক্তিশালী হলেও নাটকীয় তীব্রতা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
রটারড্যাম ফেস্টিভ্যালে বড় স্ক্রিন প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে ‘মুনগ্লো’ উপস্থাপিত হওয়া স্যান্ডোয়ালের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির আরেকটি মাইলফলক। এই উৎসবে চলচ্চিত্রটি তার সূক্ষ্ম চিত্রনাট্য ও দৃশ্যমান নকশার জন্য প্রশংসা পেয়েছে, যদিও সমালোচকরা তীব্রতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। ফেস্টিভ্যালের দর্শক ও শিল্প পেশাজীবীরা চলচ্চিত্রের শৈল্পিক দিককে স্বীকৃতি দিয়ে, ভবিষ্যতে আরও টানটান গল্পের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।
ইসাবেল স্যান্ডোয়াল ফিলিপাইনে জন্মগ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা লাভ করেন। ২০১৯ সালে তার তৃতীয় ফিচার ‘লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা’ ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে রঙিন বিভাগে প্রথম ট্রান্স রঙের চলচ্চিত্র হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এরপর তিনি টেলিভিশন সিরিজ ‘আন্ডার দ্য ব্যানার অফ হেভেন’, ‘টেল মি লাইস’ এবং ‘দ্য সামার আই টার্নড প্রেটি’ এর এপিসোড পরিচালনা করেছেন, পাশাপাশি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় ও পরিচালনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
‘মুনগ্লো’ একটি ধীরগতির অপরাধ রোমান্স, যা ভিজ্যুয়াল সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক পটভূমি সমৃদ্ধ, তবে সাসপেন্সের ঘাটতি রয়েছে। স্যান্ডোয়ালের চিত্রনাট্য ও চিত্রশৈলীর প্রশংসা সত্ত্বেও, ভবিষ্যতে তিনি যদি গল্পের তীব্রতা বাড়াতে পারেন, তবে চলচ্চিত্রটি আরও শক্তিশালী থ্রিলার হিসেবে স্বীকৃত হতে পারে।



