লাস ভেগাসে বসবাসরত লামন্টে ম্যাকলেমোর, দ্য ফিফথ ডাইমেনশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, মঙ্গলবার স্বাভাবিক কারণে মৃত্যুবরণ করেন। ৯০ বছর বয়সে তিনি নিজের বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এবং তার মৃত্যু একটি প্রকাশক সংস্থা জানায়। কয়েক বছর আগে তিনি একটি স্ট্রোকের শিকার ছিলেন, তবে তা তার মৃত্যুর সরাসরি কারণ নয়।
ম্যাকলেমোরের ক্যারিয়ার ফটোগ্রাফি ক্ষেত্রেও সমানভাবে উজ্জ্বল ছিল। তিনি বহু বছর ধরে সেলিব্রিটি ও স্পোর্টস ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করেছেন এবং তার ছবি জেট ম্যাগাজিনের মতো জনপ্রিয় প্রকাশনায় প্রকাশ পেয়েছে। তার ক্যামেরা লেন্সের মাধ্যমে তিনি বহু আইকনিক মুহূর্তকে চিরস্থায়ী করেছেন, যা আজও স্মরণীয়।
১৯৩৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সেন্ট লুইস, মিসৌরিতে জন্ম নেওয়া ম্যাকলেমোরের শৈশবের বন্ধু ছিলেন ভবিষ্যৎ গায়ক বিলি ডেভিস জুনিয়র। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নেভিতে সেবা করেন, যেখানে এয়ারিয়াল ফটোগ্রাফার হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন। সামরিক সেবার পর তিনি লস এঞ্জেলেস ডজার্সের ফার্ম সিস্টেমে পেশাদার বেসবল খেলোয়াড়ের স্বপ্ন অনুসরণ করেন, তবে শেষ পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়ায় বসতি স্থাপন করে ফটোগ্রাফি ও সঙ্গীতের পথে এগিয়ে যান।
১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে ম্যাকলেমোর দ্য ফিফথ ডাইমেনশনের সঙ্গে যুক্ত হন, যেখানে বিলি ডেভিস জুনিয়র, ফ্লোরেন্স লারু, মারিলিন মাককু এবং রন টাউনসন ছিলেন সহ-সদস্য। দলটি পপ ও সোলের মিশ্রণকে আধুনিক রূপে উপস্থাপন করে, যা সময়ের সঙ্গীতপ্রেমীদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ম্যাকলেমোরের গরম বেস ভোকাল এবং স্বাভাবিক স্বভাব গ্রুপের সুরের সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দ্য ফিফথ ডাইমেনশনের সঙ্গীত শৈলী সূক্ষ্ম সুরের সমন্বয় এবং বিভিন্ন ধারার মিশ্রণকে সমন্বিত করে, যা ১৯৬০-এর শেষ এবং ১৯৭০-এর শুরুর আমেরিকান পপ দৃশ্যে নতুন রঙ যোগ করে। তাদের গানের বিন্যাসে জ্যাজ, পপ, সোল এবং রক উপাদান একত্রিত হয়ে একটি স্বতন্ত্র সাউন্ড তৈরি হয়, যা শোনার জন্য সহজ এবং একই সঙ্গে শিল্পগতভাবে সমৃদ্ধ।
দলটি ১৯৬৮ সালে “আপ, আপ অ্যান্ড অওয়ে” গানের মাধ্যমে রেকর্ড অফ দ্য ইয়ার গ্র্যামি জিতেছিল এবং ১৯৭০ সালে “অ্যাকোয়ারিয়াস/লেট দ্য সানশাইন ইন” গানের জন্য আবারও একই পুরস্কার অর্জন করে। এই দুটি গানের মাধ্যমে দ্য ফিফথ ডাইমেনশন সঙ্গীত জগতে শীর্ষস্থান অর্জন করে এবং গ্র্যামি ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য স্থান পায়।
“অ্যাকোয়ারিয়াস/লেট দ্য সানশাইন ইন” গানের শীতল গ্রীষ্মে ১৯৬৯ সালের বসন্তে বিলবোর্ড হট ১০০ তালিকায় ছয় সপ্তাহ শীর্ষে রইল, যা সেই সময়ের অন্যতম প্রতীকী রেকর্ড হিসেবে স্বীকৃত হয়। এছাড়া “ওয়েডিং বেল ব্লুজ” এবং “স্টোনড সোল পিকনিক” গানের মাধ্যমে দলটি অতিরিক্ত হিট অর্জন করে, যা চার্টে শীর্ষে উঠে।
দ্য ফিফথ ডাইমেনশনের রেকর্ড বিক্রিতে সাতটি সোনার অ্যালবাম এবং ছয়টি প্লাটিনাম সিঙ্গেল অন্তর্ভুক্ত, যা তাদের বাণিজ্যিক সাফল্যকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। এই অর্জনগুলো দলটির দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তা এবং সঙ্গীত শিল্পে তাদের প্রভাবকে নির্দেশ করে।
ম্যাকলেমোরের বেস ভোকাল দলটির সুরের ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করত এবং তার স্বাভাবিক স্বভাব গ্রুপের অভ্যন্তরে সাদৃশ্য বজায় রাখত। তার উপস্থিতি ও হাস্যরস দলীয় মঞ্চে উষ্ণতা যোগ করত, যা শোকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলত। এই গুণগুলোই তাকে সহ-সদস্যদের মধ্যে বিশেষভাবে সম্মানিত করে তুলেছিল।
দলীয় সহকর্মী ফ্লোরেন্স লারু প্রকাশ্যে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, উল্লেখ করে যে ম্যাকলেমোরের হাসি ও উচ্ছ্বাস কঠিন সময়ে তাদের শক্তি ও সান্ত্বনা দিত। তিনি বলেন, লামন্টের সঙ্গে গানের সঙ্গী হওয়া কেবল সঙ্গীতের অংশ নয়, বরং ভাইবোনের মতো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। তার অনুপস্থিতি এখনো তাদের হৃদয়ে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে।
লারু আরও যোগ করেন, লামন্টের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোতে তিনি তার প্রতি যে গভীর ভালবাসা অনুভব করতেন তা এখনো সম্পূর্ণভাবে উপলব্ধি করতে পারেন না। তার চলে যাওয়া তাদের জন্য এক অনন্য ক্ষতি, তবে তার স্মৃতি ও সঙ্গীতের মাধ্যমে তিনি চিরকাল জীবিত থাকবেন।
ম্যাকলেমোরের জীবনের শেষ অধ্যায়ে তিনি লাস ভেগাসে শান্তিপূর্ণভাবে সময় কাটিয়ে গেছেন, যেখানে তিনি পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতেন। তার মৃত্যুর পর সঙ্গীত জগতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তবে তার অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিল্পী ও ফটোগ্রাফারদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে রয়ে যাবে।
দ্য ফিফথ ডাইমেনশনের ইতিহাসে লামন্টে ম্যাকলেমোরের নাম সর্বদা গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হবে, কারণ তিনি শুধু গায়ক নয়, একজন চিত্রশিল্পী এবং সাংস্কৃতিক দৃষ্টান্তও ছিলেন। তার সৃষ্টিকর্ম ও সুরের মাধ্যমে তিনি শতাধিক মানুষের হৃদয়ে আনন্দ ও স্মৃতি জাগিয়ে তুলেছেন।
আজকের এই স্মরণীয় মুহূর্তে, তার পরিবার ও ভক্তরা তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একত্রিত হয়েছেন এবং তার জীবনের প্রতিটি দিককে সম্মান জানিয়ে স্মরণ করছেন। লামন্টে ম্যাকলেমোরের আত্মা শান্তিতে বিশ্রাম নিক, এবং তার সৃষ্টিগুলো চিরকাল মানুষের সঙ্গে থাকবে।



