সেনেটর রুবেন গ্যালেগো (ডি-এজ) ও বার্নি মোরেনো (আর-ওহ) বুধবার নতুন আইন প্রস্তাব করেন, যা অনলাইন সামাজিক নেটওয়ার্কগুলোকে প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে বাধ্য করবে। এই বিধানটি “সফeguarding Consumers from Advertising Misconduct” (SCAM) আইন নামে পরিচিত এবং ফেডারেল ট্রেড কমিশন (FTC) ও রাজ্য অ্যাটর্নি জেনারেলদেরকে আইনি পদক্ষেপ নিতে অনুমোদন দেবে।
SCAM আইন অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মগুলোকে যুক্তিসঙ্গত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যাতে তারা নিজস্ব আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা প্রতারণা বা ধোঁকাবাজি বিজ্ঞাপনগুলোকে সীমাবদ্ধ করতে পারে। এই দায়িত্ব পালন না করলে, FTC এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সিভিল মামলা দায়ের করার অধিকার থাকবে।
এই আইনের পেছনে রয়েছে রয়টার্সের নভেম্বর মাসের একটি প্রতিবেদন, যেখানে মেটা (Meta) জানিয়েছে ২০২৪ সালের মোট আয়ের প্রায় দশ শতাংশই স্ক্যাম বিজ্ঞাপন থেকে এসেছে। কোম্পানির হিসাব অনুযায়ী, ঐ বছরে স্ক্যাম বিজ্ঞাপন থেকে প্রাপ্ত আয় প্রায় ষোলো বিলিয়ন ডলার হতে পারে, যার মধ্যে জালিয়াতি ই-কমার্স, অবৈধ বিনিয়োগ স্কিম, অনলাইন ক্যাসিনো এবং নিষিদ্ধ চিকিৎসা পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন অন্তর্ভুক্ত।
মেটা (Meta) ছোট স্ক্যামারদের বিজ্ঞাপন আটবার ফ্ল্যাগ না করা পর্যন্ত ব্লক করতে অস্বীকার করেছে বলে জানা যায়। অন্যদিকে, বড় বাজেটের বিজ্ঞাপনদাতাদের ৫০০টি পর্যন্ত স্ট্রাইক পেয়ে থেকেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অভ্যন্তরীণভাবে, মেটা (Meta) পরিচালনাকারীরা এমন নির্দেশনা পেয়েছিলেন যে, কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের খরচ যদি কোম্পানির মোট আয়ের ০.১৫ শতাংশের বেশি হয়, তবে তা করা যাবে না।
FTC অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আমেরিকানদের মোট ক্ষতি প্রায় উনিশ বিলিয়ন ডলার, যা রিপোর্ট করা না হওয়া ঘটনার হিসাব যুক্ত করলে আরও বাড়তে পারে। এর মধ্যে প্রায় একশত একশো একশো পঞ্চাশ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি বয়স্ক নাগরিকদের থেকে হয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে।
সেনেটর গ্যালেগো আইন প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি দেন, বিজ্ঞাপন থেকে আয় করা কোনো কোম্পানির দায়িত্ব যে তাদের বিজ্ঞাপনগুলো জালিয়াতি না হয় তা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, এই দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগ সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে তাদের বিজ্ঞাপন নীতি মেনে চলতে বাধ্য করবে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করবে।
সেনেটর মোরেনোও একই রকম দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে, তিনি উল্লেখ করেন যে বর্তমান নিয়মাবলী যথেষ্ট কঠোর নয় এবং বড় টেক কোম্পানিগুলো লাভের জন্য ভোক্তাদের ক্ষতি স্বীকার করতে ইচ্ছুক নয়। নতুন আইনটি তাদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক হবে, যাতে তারা স্ক্যাম বিজ্ঞাপন থেকে দূরে থাকে।
আইনের প্রস্তাবের পর, কিছু শিল্প বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের বিধিনিষেধ টেক কোম্পানিগুলোর লাভের মার্জিনে প্রভাব ফেলতে পারে, তবে ভোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য এটি প্রয়োজনীয়। তারা আরও যোগ করেন, যদি আইনটি পার্লামেন্টে গৃহীত হয়, তবে FTC এবং রাজ্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দ্রুতই এই বিধান প্রয়োগে কাজ শুরু করবে।
মেটা (Meta) সহ অন্যান্য বড় প্ল্যাটফর্মের জন্য এই আইনটি একটি নতুন নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। পূর্বে কোম্পানি গুলো বিজ্ঞাপন ফিল্টারিংয়ের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবী নীতি অনুসরণ করলেও, এখন তাদেরকে আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে।
এই আইনটি যদি পার্লামেন্টে অনুমোদিত হয়, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইন বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। ভবিষ্যতে, অন্যান্য দেশও অনুরূপ নিয়মাবলী গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে, যা বৈশ্বিক ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিপক্ষীয় সমর্থন সত্ত্বেও, কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ শিল্পের উদ্ভাবনকে বাধা দিতে পারে। তবে গ্যালেগো ও মোরেনো উভয়ই জোর দিয়ে বলেছেন, ভোক্তা সুরক্ষা এবং ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য এই ধরনের আইন প্রয়োজন।
আইনটি এখন হাউস ও সেনেটের উভয় কমিটিতে আলোচনা হবে, এবং পরবর্তী সপ্তাহে সংশোধনী প্রস্তাবনা ও ভোটের সময়সূচি নির্ধারিত হবে। যদি সফল হয়, তবে FTC এবং রাজ্য অ্যাটর্নি জেনারেলরা দ্রুতই স্ক্যাম বিজ্ঞাপন দমন করার জন্য আইনি পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে।



