অস্কার মনোনীত অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্রীস্টেন স্টুয়ার্ট লস এঞ্জেলেসের হাইল্যান্ড পার্কে অবস্থিত এক শতবর্ষী থিয়েটার অধিগ্রহণ করেছেন। 5604 N. ফিগুয়েরা স্ট্রিটে দাঁড়িয়ে থাকা হাইল্যান্ড থিয়েটারটি ২০২৪ সালের বসন্তে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। স্টুয়ার্ট এই খবরটি আর্কিটেকচারাল ডাইজেস্টের এক ফিচার প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছেন এবং মারকির উপরে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, থিয়েটার কেনার ইচ্ছা হঠাৎ করে উদ্ভূত হয় যখন তিনি এই পুরনো সিনেমা হলের কথা শোনেন। তখন তার মধ্যে এক ধরনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা জাগে এবং তিনি সম্পূর্ণ উদ্যমে তা অনুসরণ করেন। পুরনো, ক্ষয়প্রাপ্ত থিয়েটারের প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে এবং তিনি এ ধরনের স্থাপনার গোপন রহস্য জানার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
হাইল্যান্ড থিয়েটারটি ১৯২৫ সালে লুইস আর্থার স্মিথের নকশায় নির্মিত হয়। স্মিথ একই সময়ে লস এঞ্জেলেসের ভিস্তা থিয়েটার, এল পোর্টাল এবং প্যাসাডেনার রিয়াল্টো থিয়েটারসহ বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সিনেমা হলের নকশা করেন। শতবর্ষের বেশি সময়ে এই থিয়েটারটি শহরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল।
কোভিড-১৯ মহামারীর পরের বাজারের পরিবর্তন এই পুরনো থিয়েটারকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছিল। মালিক দান আকারাকিয়ান মার্চ ১, ২০২৪ তারিখে লস এঞ্জেলেস টাইমসকে জানান যে, ব্যবসা পূর্বের স্তরে ফিরে না আসায় তিনি দরজা বন্ধ করতে বাধ্য হন। থিয়েটারটি শেষবারের মতো মডাকা জনসনের “ম্যাডাম ওয়েব”, বব মার্লের জীবনীমূলক ছবি “ওয়ান লাভ” এবং হরর ফিল্ম “লিসা ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন” প্রদর্শন করে।
স্টুয়ার্টের মতে, এই ক্রয় এবং পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য একটি নতুন মিলনস্থল গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তিনি এটিকে একটি শিক্ষার কেন্দ্র এবং সৃজনশীল প্রক্রিয়ার পুনর্গঠন হিসেবে দেখছেন। এই প্রকল্পটি পরিবারিক পরিবেশে পরিচালিত হবে এবং শুধুমাত্র হোলিভুডের গৌরবময় সিনেমা প্রেমিকদের জন্য নয়।
তিনি থিয়েটারকে কর্পোরেট বাণিজ্যের অতিরিক্ত একটি বিকল্প হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে সিনেমা সংস্কৃতি কেবল বিক্রয় নয়, বরং ভাগাভাগি এবং স্বপ্নের স্থান হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এটি একটি সমাবেশের স্থান, যেখানে তারা একসাথে পরিকল্পনা, সৃজনশীলতা এবং স্বপ্ন ভাগ করতে পারবে। স্টুয়ার্টের লক্ষ্য হল এই পুরনো স্থাপনা দিয়ে নতুন প্রজন্মের জন্য একটি শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা।
হাইল্যান্ড থিয়েটারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আধুনিক প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যবাহী নকশার সমন্বয় থাকবে। পুনর্নির্মাণের সময় মূল স্থাপত্যের ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা হবে, তবে আধুনিক সাউন্ড ও লাইটিং সিস্টেম যুক্ত করা হবে। এতে করে দর্শকরা অতীতের গৌরব এবং বর্তমানের সুবিধা দুটোই উপভোগ করতে পারবে।
স্থানীয় ব্যবসা ও শিল্পী সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে থিয়েটারটি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ইভেন্টের আয়োজক হতে পারে। চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, থিয়েটার কর্মশালা, সঙ্গীত কনসার্ট এবং শিল্প প্রদর্শনী ইত্যাদি পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই ধরনের বহুমুখী ব্যবহার থিয়েটারকে শহরের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করবে।
স্টুয়ার্টের এই উদ্যোগটি লস এঞ্জেলেসের অন্যান্য বন্ধ হয়ে যাওয়া থিয়েটারগুলোর জন্যও একটি উদাহরণ হতে পারে। শহরের পুরনো সিনেমা হলগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি ও সংস্কৃতির পুনরায় উত্থান ঘটতে পারে। এই ধরনের বিনিয়োগ শহরের ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
হাইল্যান্ড থিয়েটারের নতুন মালিক হিসেবে স্টুয়ার্টের পরিকল্পনা সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেয়। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও শিল্পীদের মতামত শোনার জন্য একটি পরামর্শদাতা কমিটি গঠন করার কথা উল্লেখ করেছেন। এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে থিয়েটারকে সত্যিকারের জনগণের সম্পদ করে তুলবে।
প্রকল্পের আর্থিক দিকেও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহে দান, স্পনসরশিপ এবং স্থানীয় ব্যবসার সহায়তা নেওয়া হবে। স্টুয়ার্টের মতে, স্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের চাবিকাঠি।
থিয়েটারটি পুনরায় খোলার সময়সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে আগামী বছরগুলোর মধ্যে পুনর্নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পুনরায় উদ্বোধনের সময় স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই অনুষ্ঠানগুলোতে থিয়েটারের ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করা হবে।
স্টুয়ার্টের এই পদক্ষেপটি হাইল্যান্ড পার্কের সাংস্কৃতিক দৃশ্যকে সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুরনো থিয়েটারকে আধুনিক যুগের সঙ্গে সংযুক্ত করে তিনি শহরের শিল্প ও সংস্কৃতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চান। এই উদ্যোগটি স্থানীয় বাসিন্দা, শিল্পী এবং দর্শকদের জন্য একটি নতুন আশার আলো জ্বালাবে।
সারসংক্ষেপে, ক্রীস্টেন স্টুয়ার্টের হাইল্যান্ড থিয়েটার অধিগ্রহণ এবং পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা লস এঞ্জেলেসের পুরনো সিনেমা হলগুলোর পুনরুজ্জীবনের একটি মাইলফলক হতে পারে। তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহযোগিতা এই প্রকল্পকে সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে এই থিয়েটারটি শহরের সাংস্কৃতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে।



