বুধবার বিকেলে পুরানা পল্টন, ঢাকার ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশ দলের কার্যালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দলের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম সেখানে জামায়াত-এ-ইসলামির প্রতিনিধিদের যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশকে উগ্রবাদী হিসেবে উপস্থাপন করার অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই ধরনের উপস্থাপন দেশের আন্তর্জাতিক চিত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল দলীয় ইশতেহার “জনপ্রত্যাশার ইশতেহার” ঘোষণার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া। ইশতেহার ঘোষণার সময় দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন এবং সকলকে এই নতুন ঘোষণার বিষয়বস্তু জানানো হয়। রেজাউল করিমের বক্তব্যের পর দলীয় সদস্যরা একমত স্বরে তার মন্তব্যকে সমর্থন জানায়।
রেজাউল করিমের মতে, জামায়াত-এ-ইসলামি যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে গোপন বৈঠক করে ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিত্রিত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এমন বৈঠকগুলোতে জামায়াত-এ-ইসলামি তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য তথ্য বিকৃতি করে থাকে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি দলীয় নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রতি সতর্কতা প্রকাশ করেন।
এছাড়া, রেজাউল করিম জানান, জামায়াত-এ-ইসলামি ভারতের সঙ্গে গোপন বৈঠকও করেছে এবং সেই বৈঠকে একই রকম তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভারতীয় পক্ষের স্পষ্ট মন্তব্যের পরেও এই গোপন বৈঠকের ধারাবাহিকতা রয়েছে। এই তথ্যগুলোকে তিনি দেশের স্বার্থের বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করেন।
জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতি রেজাউল করিমের সমালোচনা তীব্র। তিনি উল্লেখ করেন, জোটের মধ্যে ইসলামিক আদর্শের অভাব এবং ঐক্যের ঘাটতি রয়েছে। এ ধরনের রাজনৈতিক অবস্থানকে তিনি জাতির সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে বর্ণনা করেন এবং জোট থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে যুক্তি দেন।
রেজাউল করিম জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে কোনো দলীয় নেতা কখনো জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত হননি এবং এমন কোনো প্রচেষ্টা দেশের সুনামকে কলঙ্কিত করার উদ্দেশ্যে হতে পারে। তিনি দেশের স্বতন্ত্রতা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য এই ধরনের প্রচেষ্টা কঠোরভাবে নিন্দা করেন। তার মতে, জাতির স্বার্থে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষভাবে, রেজাউল করিম জামায়াত-এ-ইসলামির আমির আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের সাহেবকে লক্ষ্য করে বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশকে জঙ্গি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি দলীয় নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রতি সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের উপস্থাপন দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্বার্থের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।
রেজাউল করিমের মতে, জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃত্বাধীন জোটের রাজনৈতিক অবস্থান জাতির সঙ্গে প্রতারণার সমতুল্য। তিনি সতর্ক করেন, যদি ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশ এমন জোটের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে দেশের মানুষ ধোঁকায় পড়বে। তিনি ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে এমন জোট থেকে দূরে সরে যাওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই বিবৃতি দেওয়ার পর ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশ জামায়াত-এ-ইসলামি এবং অন্যান্য দশটি দলের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচনী জোট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে এসেছে। দলীয় ঘোষণায় বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপটি আদর্শগত স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। বেরিয়ে আসার মাধ্যমে দল তার রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে চায়।
বহির্গমন ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দলীয় কর্মীরা জোটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কারণ ব্যাখ্যা করেন। তারা বলেন, জোটের মধ্যে ইসলামী আদর্শের অভাব এবং রাজনৈতিক স্বার্থের অমিল রয়েছে, যা দলের নীতি ও লক্ষ্যকে ক্ষুণ্ন করে। তাই, দলটি এখন স্বাধীনভাবে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই বিচ্ছেদ দেশের বিরোধী গোষ্ঠীর গঠনকে পুনর্গঠন করতে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনে উভয় দলের ভোটের ভাগে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জামায়াত-এ-ইসলামি এবং ইসলামিক মুভমেন্ট বাংলাদেশ উভয়েরই সমর্থক গোষ্ঠী পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিবর্তন নির্বাচনী গতিবিধিতে নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে।
এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়নি। তবে রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তী সপ্তাহে আরও বিবৃতি বা পদক্ষেপের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নির্বাচনী ক্যাম্পেইন তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।



