ম্যাচ গ্রুপের মালিকানাধীন টিন্ডার, ব্যবহারকারীদের স্বাইপ ক্লান্তি কমাতে এআই‑ভিত্তিক নতুন ফিচার ‘কেমিস্ট্রি’ চালু করেছে। এই ফিচারটি গত ত্রৈমাসিকে প্রকাশিত হয় এবং বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় সীমিত পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে, যা কোম্পানির ২০২৬ সালের চতুর্থ ত্রৈমাসিক আয় কলের সময় জানানো হয়।
স্বাইপ ক্লান্তি বলতে বোঝায় ব্যবহারকারীরা একাধিক প্রোফাইল স্ক্রল করে সম্ভাব্য সঙ্গী খুঁজতে ক্লান্ত হয়ে পড়া, ফলে অ্যাপের ব্যবহার কমে যায় এবং ম্যাচের গুণমান হ্রাস পায়। টিন্ডার এই সমস্যার সমাধান হিসেবে কেমিস্ট্রি ফিচারটি উপস্থাপন করেছে।
কেমিস্ট্রি ব্যবহারকারীর সঙ্গে এআই আলাপের মাধ্যমে তাদের পছন্দ ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। ব্যবহারকারীকে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে বলা হয় এবং অনুমতি দিলে অ্যাপের ক্যামেরা রোল থেকে ছবি বিশ্লেষণ করে আগ্রহের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে। এই ডেটা ভিত্তিক এআই ব্যবহারকারীর জন্য আরও উপযুক্ত প্রোফাইল সাজায়।
ম্যাচ গ্রুপের সিইও স্পেন্সার র্যাসকফ ফিচারটি সম্পর্কে বলেন, এটি টিন্ডারের সঙ্গে এআই‑এর নতুন সংযোগের উদাহরণ। ব্যবহারকারী প্রশ্নের উত্তর দিয়ে একাধিক প্রোফাইলের পরিবর্তে এক বা দুইটি সম্ভাব্য ম্যাচ পেতে পারেন, ফলে স্বাইপের পরিমাণ কমে এবং ম্যাচের গুণমান বাড়ে।
র্যাসকফ আরও ইঙ্গিত দেন যে ভবিষ্যতে কেমিস্ট্রি ফিচারটি অন্যান্য পণ্যেও সংযুক্ত করা হবে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পরীক্ষার পর ফলাফল সন্তোষজনক হলে বিশ্বব্যাপী রোলআউটের পরিকল্পনা রয়েছে।
টিন্ডার এবং সমমানের ডেটিং অ্যাপগুলো সাম্প্রতিক সময়ে পেইড সাবস্ক্রাইবারের হ্রাস, ব্যবহারকারী ক্লান্তি এবং নতুন রেজিস্ট্রেশনের পতনের মুখোমুখি। এই প্রবণতা কোম্পানির আয় ও ব্যবহারকারী বেসে প্রভাব ফেলেছে।
কোম্পানির চতুর্থ ত্রৈমাসিক রিপোর্টে দেখা যায়, নতুন রেজিস্ট্রেশন前年 তুলনায় ৫% কমে এবং মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী (MAU) ৯% হ্রাস পেয়েছে। যদিও এই সংখ্যা পূর্বের ত্রৈমাসিকের তুলনায় সামান্য উন্নতি দেখায়, তবু সামগ্রিক হ্রাসের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
টিন্ডার এই পতনের কারণ হিসেবে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করতে এআই‑চালিত সুপারিশ ব্যবস্থা উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে, নারীদের দেখানো প্রোফাইলের ক্রম পরিবর্তন করে আরও প্রাসঙ্গিক ম্যাচ প্রদান করা হচ্ছে। এই ধরনের অ্যালগরিদম আপডেট এবং অন্যান্য পণ্য পরীক্ষার মাধ্যমে ব্যবহারকারী ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ম্যাচ গ্রুপের ২০২৪-২০২৫ কৌশলগত পরিকল্পনায় জেনারেশন জেডের প্রধান সমস্যাগুলো সমাধান করা অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে প্রাসঙ্গিকতা, সত্যিকারের সংযোগ এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানো প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ডেটা ডিসকভারি প্রক্রিয়া পুনর্গঠন এবং পুনরাবৃত্তি কমাতে নতুন ফিচার যুক্ত করা হচ্ছে।
নতুন ডিজাইন করা ডিসকভারি সিস্টেম ব্যবহারকারীকে একই ধরনের প্রোফাইলের ধারাবাহিকতা থেকে মুক্তি দেয়। পাশাপাশি ‘ফেস চেক’ নামে একটি ফেসিয়াল রিকগনিশন ফিচার যুক্ত করা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীর ছবি বিশ্লেষণ করে প্রোফাইলের সত্যতা যাচাই করে এবং নিরাপত্তা বাড়ায়।
সারসংক্ষেপে, টিন্ডার এআই‑চালিত কেমিস্ট্রি ফিচারটি স্বাইপ ক্লান্তি কমিয়ে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করার লক্ষ্যে তৈরি। অস্ট্রেলিয়ায় পরীক্ষার ফলাফল ইতিবাচক হলে, এই প্রযুক্তি বিশ্বব্যাপী ডেটিং অ্যাপের ব্যবহারে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে। ভবিষ্যতে এআই কীভাবে ডেটিং ইকোসিস্টেমকে রূপান্তরিত করবে, তা সময়ই বলবে।



