ওরেগনের লেক ওসওয়েগোতে অবস্থিত লেক থিয়েটার ও ক্যাফে, আমাজন এমজিএমের সাম্প্রতিক ডকুমেন্টারি ‘মেলানিয়া’র প্রদর্শনী বন্ধ করার নির্দেশ পেয়েছে। থিয়েটারটি পূর্বে চলচ্চিত্রের প্রচারসূচিতে হাস্যকর স্লোগান ব্যবহার করায় এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।
থিয়েটারটি সপ্তাহের শুরুতে মারকিতে “মেলানিয়া কি প্রাডা পরেন? শুক্রবার জানুন” এবং সান জুয়ের “শত্রুকে পরাজিত করতে তাকে জানো” উদ্ধৃতি সহ বিজ্ঞাপন দিয়ে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। এই রকম সৃজনশীল প্রচার পদ্ধতি স্থানীয় সিনেমা প্রেমীদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল।
একজন থিয়েটার ব্যবস্থাপক জানান, বুকিং দায়িত্বে থাকা কর্মীকে আমাজনের কোনো প্রতিনিধির ফোনে চলচ্চিত্রটি তৎক্ষণাৎ বন্ধ করার অনুরোধ করা হয়। থিয়েটারটি এই অনুরোধ মেনে চলার সিদ্ধান্ত নেয়।
পরবর্তী দিনে থিয়েটারের মারকিতে পরিবর্তন আনা হয়। নতুন স্লোগানে লেখা ছিল, “আমাজন কল করেছে। আমাদের মারকি তাদের রাগের কারণ। সব ‘মেলানিয়া’ প্রদর্শনী বাতিল।” এরপর “হোয়েল ফুডসে সমর্থন দেখান” এবং “আমাজন প্রাইমে যোগ দিন, ফ্রি দুই দিনের শিপিং” এর মতো বিজ্ঞাপন যুক্ত করা হয়।
থিয়েটারটি ইনস্টাগ্রামে জানিয়েছে, চলচ্চিত্রটি বন্ধ করার আগে থেকেই স্থানীয় দর্শকদের কাছ থেকে প্রচুর ইমেল, ভয়েসমেল এবং অনলাইন রিভিউ পাওয়া গিয়েছিল। অনেক মানুষ প্রশ্ন তুলেছিল কেন এই ডকুমেন্টারি তাদের শহরে প্রদর্শিত হচ্ছে।
ইনস্টাগ্রাম পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু দর্শক চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি জানিয়ে থিয়েটারের বিজ্ঞাপনকে সমালোচনা করেছিল। তদুপরি, কিছু মন্তব্য গুগল ও ইয়েল্প থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।
চলচ্চিত্রটি বন্ধ হওয়ার পর থিয়েটারটি আবারও দর্শকদের সমর্থন চেয়েছে, তবে একই সঙ্গে আমাজনের বিজ্ঞাপনও চালু করেছে। এই দ্বৈত অবস্থান স্থানীয় মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
আমাজন এই বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য প্রদান করেনি। কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি।
থিয়েটার ব্যবস্থাপনা উল্লেখ করেছে, চলচ্চিত্রের বিজ্ঞাপন নিয়ে বিতর্কের ফলে তারা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছিল। যদিও তারা সৃজনশীল প্রচার পদ্ধতি বজায় রাখতে চেয়েছিল, তবু আমাজনের অনুরোধ মেনে চলা শেষমেশ বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়।
স্থানীয় সিনেমা প্রেমীরা এই সিদ্ধান্তে বিভ্রান্তি প্রকাশ করেছে। কিছু দর্শক থিয়েটারের সৃজনশীলতা প্রশংসা করলেও, অন্যরা আমাজনের হস্তক্ষেপকে অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করেছে।
এই ঘটনা ওরেগনের বিনোদন জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। থিয়েটার ও বড় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের মধ্যে বিজ্ঞাপন নীতি ও সৃজনশীল স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
বিনোদন ও লাইফস্টাইল বিভাগে এই বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে, কারণ এটি চলচ্চিত্র প্রচার, দর্শক প্রতিক্রিয়া এবং স্ট্রিমিং সেবার নীতিমালা একসাথে তুলে ধরে।



