কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এক নারী সমাবেশে জামায়াত-এ-ইসলামি কুষ্ঠিয়া-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী মুফতি আমির হামজা দেশের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রূপক তুলনা করেন। তিনি সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকদের সামনে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, আসন্ন ভোটের পরিবেশ অস্ট্রেলিয়া-উগান্ডা ক্রিকেট ম্যাচের মতো উত্তেজনাপূর্ণ হবে।
হামজা সমাবেশে বলেন, অস্ট্রেলিয়া-উগান্ডা ম্যাচের মতোই এই নির্বাচনে বিভিন্ন দল ও ভোটারদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা হবে এবং প্রত্যেককে নিজের অবস্থান থেকে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। তিনি ভোটারদের ‘জাস্ট ওয়েট ফর সি’ দেখার জন্য আহ্বান জানান, যাতে ফলাফল নিরপেক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায়।
কুষ্ঠিয়া সদর তিন নম্বর আসন নিয়ে হামজা আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, এই আসনে দাঁড়িপাল্লা (দাঁড়িপাল্লা ক্ষমতায়) একটি বিশাল বিজয় নিশ্চিত হবে। তিনি এই রকম দৃঢ় মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় ভোটারদের সমর্থন বাড়াতে বিভিন্ন সংখ্যাত্মক তথ্য উপস্থাপন করেন।
হামজা উল্লেখ করেন, দেশের মোট প্রায় ৪ কোটি তরুণ ভোটার রয়েছে এবং এদের মধ্যে ৩৭.৪ শতাংশ মানুষ দাঁড়িপাল্লা ক্ষমতায় আসতে চায়। তদুপরি, ধানের শীষের (ধানের শীষের) সমর্থন ২৭ শতাংশ, আর এনসিপিআই-র সমর্থন ১৭ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তিনি বলেন, তরুণ ভোটারদের পছন্দের ভিত্তিতে ভোটের প্রবণতা গঠন করা সম্ভব।
এনসিপিআই-কে জামায়াত-এ-ইসলামির সঙ্গে ১১ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে হামজা জানান, যদি অন্যান্য দলগুলো বাদ দেয়া হয়, তবে দুই প্রধান দলের তরুণ ভোটারদের সমন্বিত সমর্থন প্রায় ৫৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এই গণনা অনুযায়ী তিনি নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা সম্পর্কে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।
বিএনপি সম্পর্কিত আলোচনায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক দিলারা চৌধুরীর পূর্ববর্তী মন্তব্যের উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি আট মাস আগে বলেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুই বছরের বেশি টিকে থাকতে পারবে না। হামজা এই মন্তব্যকে ‘চিন্তাভাবনা করে বলা হয়েছিল’ বলে ব্যাখ্যা করেন এবং তা রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত-এ-ইসলামির কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হুসাইন, শহর জামায়াতের আমির এনামুল হক এবং জেলা জামায়াতের নেতাকর্মীরা। তারা সকলেই হামজার বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে সমাবেশের পরিবেশকে উচ্ছ্বাসপূর্ণ করে তোলেন।
এই সমাবেশের পরবর্তী পর্যায়ে কুষ্ঠিয়া-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী দলগুলো নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণের জন্য আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করবে বলে আশা করা যায়। দেশের বৃহৎ তরুণ ভোটার গোষ্ঠীর মনোভাব এবং এনসিপিআই-র সঙ্গে জোটের প্রভাব নির্বাচনের ফলাফলে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
অস্ট্রেলিয়া-উগান্ডা ম্যাচের তুলনায় নির্বাচনের উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের প্রত্যাশা এবং দলীয় গঠনও পরিবর্তিত হতে পারে। সকল রাজনৈতিক দলকে এখনো ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এবং তাদের চাহিদা পূরণের জন্য প্রচার চালাতে হবে, যাতে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভোটে সমর্থন অর্জন করা যায়।



