ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) রাজারবাগে আটক করা প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ার আলমের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। শফিকুল ইসলাম, ডিবি অতিরিক্ত কমিশনার, বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রথম আলোর সঙ্গে জানিয়েছেন, “তাঁর হেফাজতে থাকা অব্যাহত, তবে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।”
আলমকে মঙ্গলবার রাত ১২:৩০ টার কাছাকাছি রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটোরিয়ামের পূর্ব পাশে সরকারি কোয়ার্টার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকালে তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
জামায়াত-এ-ইসলামি কর্তৃক করা অভিযোগে বলা হয়েছে, আলম সরকারি ই-মেইল ব্যবহার করে দলের আমির শফিকুর রহমানের এক্স (টুইটার) আইডি হ্যাক করার জন্য ফাইল পাঠিয়েছিলেন। এই ঘটনার পর জামায়াত-এ-ইসলামি হাতিরঝিল থানা থেকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দাখিল করে।
গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠকে হ্যাকিং বিষয়টি আলোচিত হয়। কমিটি সদস্যদের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বিষয়টি তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়। একই সঙ্গে জামায়াত-এ-ইসলামি পক্ষ থেকে আলমকে আইনের আওতায় আনার জন্য চাপও দেওয়া হয়।
ডিবি সূত্রে জানানো হয়েছে, হ্যাকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, আলমের সরকারি ই-মেইল ঠিকানাটি ইতিমধ্যে হ্যাক করা ছিল। তবে এই তথ্যের ভিত্তিতে এখনো তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা তা নির্ধারণ করা হয়নি।
ডিবি কর্মকর্তার মতে, আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত আলমের হেফাজতে থাকা অব্যাহত থাকবে এবং সিদ্ধান্ত হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানানো হবে। বর্তমানে তার হেফাজতে থাকা এবং আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি উভয়ই অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
শফিকুর রহমানের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার পর, জামায়াত-এ-ইসলামি ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শফিকুর রহমানের এক্স হ্যান্ডলে ইংরেজি ভাষায় একটি পোস্টে নারীদের আধুনিকতার নামে ঘরে থেকে বের করা হলে শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হতে পারে এমন ধারণা প্রকাশ করা হয়। পোস্টে নারীদের অধিকার ও সামাজিক অবস্থার ওপর সমালোচনামূলক মন্তব্য করা হয়েছে।
ডিবি এখন পর্যন্ত আলমের হেফাজতে থাকা এবং হ্যাকিং ঘটনার প্রমাণের ভিত্তিতে কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়নি। তদন্ত চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে।



