ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকালে দেশের বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল আব্দুল লতিফ খান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যু সংবাদ ক্রীড়া জগতের পাশাপাশি সাধারণ জনগণেরও দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আব্দুল লতিফের ক্রীড়া সংক্রান্ত ক্যারিয়ার বহু দশক জুড়ে বিস্তৃত। তিনি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থাকাকালীনই ক্রীড়া প্রশাসনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং অবসর গ্রহণের পরও ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
২০০৭ সালে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। একই সময়ে তিনি বোর্ডের গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যেখানে দেশের ক্রিকেটের কাঠামো ও প্রশিক্ষণ পদ্ধতি উন্নয়নে কাজ করেন।
অতীতেও তিনি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের ভ্রমণ, টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি এবং খেলোয়াড়দের সমন্বয় কাজের দায়িত্বে তিনি ছিলেন, যা তার ক্রীড়া পরিচালনা দক্ষতা প্রকাশ করে।
আবদুল লতিফের মৃত্যুর পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একটি বিবৃতি প্রকাশ করে শোক প্রকাশ করে। বোর্ডের প্রকাশ্য মন্তব্যে বলা হয়েছে, তিনি ক্রীড়া উন্নয়নে যে অবদান রেখেছেন তা কখনো ভুলে যাবে না।
শোকসন্ধ্যায় তার পরিবার ও ক্রীড়া জগতের প্রতিনিধিরা একত্রিত হন। বৃহস্পতিবার বারিধারা জামে মসজিদে যোহরের নামাজের পর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং পরে তাকে সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
তার মৃত্যু ক্রীড়া সংস্থার মধ্যে শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। বহু বছর ধরে তিনি ক্রীড়া নীতি গঠন, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং তরুণ খেলোয়াড়দের পথপ্রদর্শনে কাজ করেছেন।
ক্রীড়া প্রশাসনে তার দীর্ঘমেয়াদী সেবা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি তরুণ প্রজন্মের জন্য মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়। তার কাজের ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের কাঠামোতে কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে।
ক্রীড়া সংস্থার বিভিন্ন স্তরে তার নাম এখনো স্মরণীয়। তিনি যে সময়ে গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন দেশীয় ক্রিকেটের ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়।
ক্রীড়া জগতের বহু ব্যক্তিত্ব তার প্রয়াসকে সম্মান জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বার্তা শেয়ার করেছেন। যদিও ব্যক্তিগত মন্তব্যের উল্লেখ করা হয়নি, তবে তার অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
আব্দুল লতিফের মৃত্যু ক্রীড়া সম্প্রদায়ের জন্য এক বড় ক্ষতি, তবে তার কাজ ও নীতি ভবিষ্যৎ ক্রীড়া উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে রয়ে যাবে। তার স্মৃতি এবং ক্রীড়া উন্নয়নে করা অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে থাকবে।
শোকসন্ধ্যা শেষে কবরস্থানে দাফন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পর, ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা এবং তার পরিবার একত্রে তার স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানাবে এবং ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য তার স্বপ্নকে অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করবে।



