ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভার প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় নাগরিক দল (JNP) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি উপস্থিত ভক্তদের জানিয়ে বলেন, সরকার যদি জনগণের বিপরীতে যায় তবে ৫ আগস্টের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
এই সভা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী আমজাদ হোসাইন আশরাফীর সমর্থনে আয়োজিত হয়। সমাবেশে উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকগণ উচ্ছ্বাসের সঙ্গে তার বক্তব্য শোনার সুযোগ পান।
হাসনাত আব্দুল্লাহ উল্লেখ করেন, “আপনারা যদি বাংলাদেশ জনগণের বিরুদ্ধে যান তবে আবার ৫ আগস্ট আবার নেমে আসবে”। তিনি সরকারের নীতি যদি জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করে, তবে শাসকরা নিজের সন্তানকে গুলি করে হত্যা করার কথা বলবে, এমন সতর্কতা দেন।
তিনি নিজের দায়িত্বকে জনগণের কাছে সীমাবদ্ধ রাখার কথা জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের দায়বদ্ধতা সাধারণ জনগণের কাছে। আমরা কোনো চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ বা মাদকসম্রাটের কাছ থেকে টাকা খাইনি”। ফলে তিনি বলেন, তারা কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত গোষ্ঠীর কাছে ঋণী নয়।
হাসনাত আরও যোগ করেন, “কিছু করলে আমাদের জনগণের আদালতে দাঁড়াতে হবে”। তিনি অতীতের তিনটি নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে সমালোচনা করে বলেন, ভোটের দিন রাতের মতো হয়ে গিয়েছিল এবং মৃত মানুষও ভোট দিয়েছে। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির ফলস্বরূপ ৫ আগস্টের ফলাফল জনগণই নির্ধারণ করেছে, তিনি উল্লেখ করেন।
অধিকন্তু তিনি অর্থনৈতিক প্রস্তাবের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “পাঁচশ-এক হাজার টাকার বিনিময়ে একদিন ভালো থাকবেন; না-কি পাঁচ বছর দেশের মালিক হবেন”। এই কথায় তিনি স্বল্পমেয়াদী সুবিধা ও দীর্ঘমেয়াদী মালিকানা নিয়ে জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে আহ্বান করেন।
মিডিয়া সম্পর্কে তার মন্তব্য তীব্র ছিল। তিনি কিছু মিডিয়াকে “নির্লজ্জ” বলে সমালোচনা করেন এবং উল্লেখ করেন, কিছু সংবাদমাধ্যম এক দলের পক্ষে কাজ করে আসছে। তিনি বলেন, গত ১৭ বছর একটি দলের প্রশংসা ও বন্দনা করে, তাড়িক জিয়াকে ব্যর্থ হিসেবে চিহ্নিত করে, এবং এখন কখনও কখনও বিএনপির প্রচারণা চালায়।
হাসনাতের মতে, যদি মিডিয়া নিরপেক্ষ না থাকে তবে জনগণ তাদের কাছে “লাল কার্ড” দেখাবে। এই সতর্কতা মিডিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
ভোটের ব্যাপারে তিনি সমর্থকদের সরাসরি আহ্বান জানান। “আপনারা আমার পক্ষে প্রতিদিন অন্তত ১০টি করে ভোট চাইবেন” বলে তিনি জোর দেন এবং আগামী ১২ তারিখকে “উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই ভোট দিতে যাবেন” বলে উল্লেখ করেন।
সমাবেশে উপজেলা জামায়েতে ইসলামের আমির মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে জামায়াতে ইসলামের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমির মো. মোবারক হোসেন প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নেন। এছাড়া জামায়াত-এ-ইসলামির নির্বাহী সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল বাতেন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
হাসনাতের এই উগ্র মন্তব্য ও ভোটের আহ্বান নির্বাচনী পরিবেশকে তীব্র করে তুলেছে। তার সতর্কতা সরকারকে জনগণের অধিকার রক্ষায় আরও সতর্ক হতে বাধ্য করতে পারে এবং জাতীয় নাগরিক দলের সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
অধিকন্তু, মিডিয়া ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র বিতর্কের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে, যা নির্বাচনের পূর্বে জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই জনসভা নির্বাচনী প্রচারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ভোটে অংশগ্রহণের হার বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন দল একত্রে কাজ করছে।
সামগ্রিকভাবে, হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্য সরকারকে জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল হতে এবং মিডিয়াকে নিরপেক্ষ রাখতে আহ্বান জানায়, যা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে নতুন মোড় আনতে পারে।



