বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বুধবার গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে সম্প্রতি নির্যাতনের শিকার শিশুগৃহকর্মীর শারীরিক অবস্থা পরিদর্শন করেন। শিশুটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সদ্য সাবেক এমডি সাফিকুর রহমানের বাসায় কাজ করছিল এবং গুরুতর আঘাতের পর হাসপাতালে ভর্তি হয়। এই পরিদর্শনটি পরিবারের উদ্বেগ কমাতে এবং চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে করা হয়।
উপদেষ্টা রোগী বিভাগে প্রবেশ করে শিশুর বর্তমান স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন। চিকিৎসক দলের সঙ্গে আলোচনা করে জানেন যে শিশুটি শারীরিক ক্ষতিগ্রস্ত এবং চলমান চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন। তিনি হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে রোগীর নিরাপত্তা ও সেবা মান নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত নির্দেশনা দেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একই দিনে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানায় যে উপদেষ্টা শিশুর চিকিৎসা সংক্রান্ত সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে হাসপাতালকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে সরকারী সংস্থা এই ধরনের অপরাধের শিকারদের জন্য ত্বরিত ও যথাযথ সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শিশুর শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে জরুরি শল্যচিকিৎসা, রক্ত‑পরীক্ষা এবং পুনর্বাসন সেবা প্রদান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া, রোগীর গোপনীয়তা রক্ষা এবং মানসিক সমর্থন নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। উপদেষ্টা এই নির্দেশনা অনুসরণ না করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করেন।
উপদেষ্টা শিশুর পরিবারের সঙ্গে আলাপ করে তাদের উদ্বেগ শোনেন এবং আশ্বস্ত করেন যে সরকারী দিক থেকে যথাযথ সহায়তা প্রদান করা হবে। শিশুর পিতা, যিনি বর্তমানে কর্মহীন, তাকে বিশেষভাবে সমর্থন জানিয়ে ভবিষ্যতে স্থায়ী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। পরিবারকে জানানো হয় যে শিশুর পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সব সহায়তা সরবরাহ করা হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও এমডি হুমায়রা সুলতানা, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন এবং হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। তারা উপদেষ্টার সঙ্গে সমন্বয় করে শিশুর চিকিৎসা পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন। উপস্থিত কর্মকর্তারা সকলের সহযোগিতায় দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
শিশুটি ৩১ জানুয়ারি গুরুতর আঘাতের শিকার হয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ আছে যে শিশুটি গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিল এবং নির্যাতনের ফলে শারীরিক ক্ষতি পেয়েছে। তার অবস্থার ভিত্তিতে জরুরি শল্যচিকিৎসা করা হয় এবং বর্তমানে তীব্র পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
শিশুর নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক এমডি সাফিকুর রহমানকে ২ ফেব্রুয়ারি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারটি শিশুর শারীরিক ক্ষতির তদন্তের অংশ হিসেবে করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে সাফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে গৃহকর্মী নির্যাতন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় প্রমাণ সংগ্রহের জন্য বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। দলটি শিশুর শারীরিক প্রমাণ, হাসপাতালের চিকিৎসা রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের বিবৃতি সংগ্রহ করছে। এছাড়া, গৃহকর্মী নিয়োগের নথি ও কর্মস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন শিশুর বর্তমান চিকিৎসা অবস্থা নিয়ে সন্তোষজনক তথ্য পেয়ে পরিবারকে আশ্বস্ত করেছেন এবং সরকারী দিক থেকে সম্পূর্ণ সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। মামলার পরবর্তী ধাপগুলোতে তদন্তের অগ্রগতি এবং আদালতের রায়ের অপেক্ষা করা হবে।



