গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের প্রভাবের মুখে কিছু গুঁড়ি পোকা তাদের ডিমের বিকাশের জন্য নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে ৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সোসাইটি ফর ইন্টিগ্রেটিভ অ্যান্ড কম্পারেটিভ বায়োলজি সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণায় দেখা যায়, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রেইনবো স্কারাব (Phanaeus vindex) নামের টেম্পারেট গুঁড়ি পোকা মাটিতে গভীর গর্ত করে ডিমের আশ্রয়স্থলকে শীতল রাখে। একই সময়ে, উষ্ণমণ্ডলীয় সমজাতীয় পোকাগুলোতে এই আচরণগত নমনীয়তা কম দেখা যায়, ফলে তারা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে বেশি পড়তে পারে।
রেইনবো স্কারাব একটি টানেল গুঁড়ি পোকা, যা বিশাল গুঁড়ি বল ঘুরিয়ে না গড়ে মাটির নিচে গর্ত খুঁড়ে ডিম পাড়ে। গাছের আকারের এই পোকা প্রথমে মাটিতে একটি ছোট গর্ত করে, তাতে গুঁড়ি নিয়ে যায় এবং পরে তা কঠিন বলের আকারে গঠন করে, যার মধ্যে একটিমাত্র ডিম থাকে। এই পদ্ধতি ডিমকে শত্রু ও তাপের প্রভাব থেকে রক্ষা করে, তবে তাপমাত্রা বাড়লে গর্তের গভীরতা বাড়ানো অতিরিক্ত সুরক্ষা দিতে পারে।
গবেষকরা এই আচরণ পরীক্ষা করার জন্য প্লাস্টিকের শঙ্কু আকারের “গ্রীনহাউস” ব্যবহার করেন। শঙ্কুর শীর্ষে একটি ছোট ছিদ্র রেখে, তা মাটিতে গর্তে ঢুকে থাকা বালতি উপরে রাখেন, যাতে সূর্যের তাপ শঙ্কুর ভিতরে কেন্দ্রীভূত হয়। শঙ্কুর ভিতরের তাপমাত্রা পরিবেশের তুলনায় প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হয়, তবে ছিদ্রের মাধ্যমে কিছু তাপমাত্রা পরিবর্তন এখনও প্রবেশ করে, ফলে পোকা স্বাভাবিক পরিবেশের ওঠানামা অনুভব করে।
পরীক্ষার ফলাফল দেখায়, শঙ্কুর নিচে থাকা গুঁড়ি পোকাগুলো শঙ্কুর বাইরে থাকা পোকার তুলনায় বেশি উষ্ণ পরিবেশে কাজ করে, তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি সত্ত্বেও তারা গর্তের গভীরতা বাড়িয়ে ডিমের আশ্রয়স্থলকে শীতল রাখে। গবেষণায় দেখা যায়, শঙ্কুর নিচে ডিম পাড়া মাদার পোকাগুলো গড়ে পাঁচ সেন্টিমিটার বেশি গভীরে ডিম পাড়ে, যা মাটির পৃষ্ঠ থেকে প্রায় একুশ সেন্টিমিটার দূরে। এই অতিরিক্ত গভীরতা ডিমের আশ্রয়স্থলের তাপমাত্রা প্রায় এক ডিগ্রি সেলসিয়াস কমিয়ে দেয়।
প্রাথমিক পর্যায়ে এই ফলাফলগুলোকে নিশ্চিত করতে, গবেষক দল একই পদ্ধতি ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে চালিয়ে আসছে। তবে মাঝের সময়ে বন্যা ঘটায় গবেষণাস্থল নষ্ট হয়ে যায়, ফলে এই আচরণটি প্রকৃতপক্ষে পোকার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ায় কিনা তা স্পষ্ট হয়নি। এই ঘাটতি সত্ত্বেও, ২০২৩ সালে দলটি একই পরীক্ষামূলক নকশা পুনরায় প্রয়োগ করে ফলাফল পুনরায় যাচাই করে।
২০২৩ সালের পুনরাবৃত্তি পরীক্ষায়ও একই ধরণের ডিপ বুরিয়াল আচরণ দেখা যায়, যা নির্দেশ করে যে রেইনবো স্কারাবের ডিমের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য গর্তের গভীরতা বাড়ানোর প্রবণতা স্থায়ী। তবে উষ্ণমণ্ডলীয় গুঁড়ি পোকাগুলোতে একই ধরনের অভিযোজন দেখা যায়নি; তারা তাপমাত্রা পরিবর্তনের সঙ্গে গর্তের গভীরতা বাড়াতে সক্ষম নয়। এই পার্থক্যটি ইঙ্গিত করে যে টেম্পারেট অঞ্চলের পোকাগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি, আর উষ্ণমণ্ডলীয় প্রজাতিগুলো ভবিষ্যতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে বেশি পড়তে পারে।
এই গবেষণার ফলাফল পরিবেশবিজ্ঞানী ও সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত প্রদান করে। গুঁড়ি পোকা মাটির উর্বরতা ও পচনের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; তাদের বেঁচে থাকা সরাসরি কৃষি ও ইকোসিস্টেমের স্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত। যদি উষ্ণমণ্ডলীয় প্রজাতিগুলো তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারে, তবে মাটির গুণগত মানে প্রভাব পড়তে পারে। তাই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের প্রভাব পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ নীতি গড়ে তোলা জরুরি।
অবশেষে, গুঁড়ি পোকার এই আচরণগত অভিযোজন আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে প্রকৃতির কিছু প্রজাতি দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশে বেঁচে থাকার উপায় খুঁজে পায়, তবে সব প্রজাতি একইভাবে মানিয়ে নিতে পারে না। আপনার আশেপাশের কৃষি জমি বা বাগানে গুঁড়ি পোকা দেখতে পেলে, তাদের স্বাভাবিক বাসস্থান রক্ষা করা এবং অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার কমিয়ে তাদের পরিবেশগত ভূমিকা বজায় রাখতে সাহায্য করা যেতে পারে। আপনি কি আপনার বাগানে গুঁড়ি পোকার উপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন, এবং তাদের জন্য কী ধরনের সহায়তা দিতে পারেন?



