উবার তার আর্থিক নেতৃত্বে পরিবর্তন আনছে। কৌশলগত অর্থ ও বিনিয়োগ সম্পর্কের উপ-সভাপতি বালাজি কৃষ্ণমূর্তিকে নতুন সিএফও হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা পূর্বের সিএফও প্রাশান্ত মহেন্দ্র-রাজা থেকে পদত্যাগের পরের পদক্ষেপ। এই পরিবর্তন কোম্পানির স্বয়ংচালিত গাড়ি (AV) প্রকল্পের ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা দেখছেন।
বালাজি কৃষ্ণমূর্তির উবারে ছয় বছরের বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তার বেশিরভাগ সময় তিনি বিনিয়োগকারী সম্পর্ক বিভাগে কাজ করেছেন এবং কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়া তিনি স্বয়ংচালিত রাইড-হেইলিং উদ্যোগের প্রতি সক্রিয়ভাবে মতামত প্রকাশ করেন এবং AV স্টার্টআপ ওয়াবি-তে বোর্ড সদস্যের পদে অধিষ্ঠিত।
এই পদোন্নতি উবারের ড্রাইভারবিহীন বিনিয়োগ ও অপারেশন সম্প্রসারণের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কোম্পানির সর্বশেষ ত্রৈমাসিক ফলাফল প্রকাশের সময় বালাজি কৃষ্ণমূর্তি উল্লেখ করেন যে উবার AV সফটওয়্যার পার্টনারদের জন্য মূলধন বরাদ্দ করবে এবং ইকুইটি বা অফটেক চুক্তির মাধ্যমে AV নির্মাতাদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াবে। তিনি আরও বলেন, অবকাঠামো পার্টনারদের সমর্থন করে স্বয়ংচালিত সেবার বিস্তারকে ত্বরান্বিত করা হবে।
উবারের সিইও দারা খোসরোশাহী একই কলের সময় স্বয়ংচালিত গাড়ির সম্ভাব্য বাজারের আকারকে বহু ট্রিলিয়ন ডলারের সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বয়ংচালিত প্রযুক্তি উবারের বিদ্যমান প্ল্যাটফর্মের শক্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং দীর্ঘমেয়াদে আয় বৃদ্ধি করবে।
কোম্পানি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বব্যাপী প্রায় পনেরো শহরে AV সেবা চালু করার লক্ষ্য স্থির করেছে। এই শহরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারের সমান ভাগ থাকবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে। তদুপরি, ২০২৯ সালের মধ্যে উবারকে বিশ্বে সর্ববৃহৎ AV ট্রিপ ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।
আর্থিক দিক থেকে উবারের চতুর্থ ত্রৈমাসিক আয় ১৪.৩৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা পূর্ববছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল খাবার ডেলিভারি সেবার চাহিদা, যা কোভিড-পরবর্তী সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। উবারের নগদ প্রবাহ শক্তিশালী থাকায় ভবিষ্যতে AV প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল নিশ্চিত হয়েছে।
প্রাশান্ত মহেন্দ্র-রাজা, যিনি তিন বছর ধরে উবারের সিএফও পদে ছিলেন, তিনি এই পদত্যাগের মাধ্যমে কোম্পানি থেকে বিদায় নেবেন। তার সময়কালে উবারের আর্থিক কাঠামো ও নগদ ব্যবস্থাপনা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন সিএফও-র নেতৃত্বে উবারের AV কৌশল দ্রুত বাস্তবায়িত হবে, যা রাইড-হেইলিং বাজারে প্রতিযোগীদের ওপর চাপ বাড়াবে। বিনিয়োগকারীরা স্বয়ংচালিত প্রযুক্তিতে উবারের অগ্রগতিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন, তবে একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকির বিষয়েও সতর্কতা প্রকাশ করছেন।
সারসংক্ষেপে, উবারের সিএফও পরিবর্তন এবং স্বয়ংচালিত গাড়িতে তীব্র বিনিয়োগের পরিকল্পনা কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী বৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলবে। তবে বাজারের প্রতিক্রিয়া, প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এবং নিয়ন্ত্রক পরিবেশের পরিবর্তন ভবিষ্যৎ ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। উবারের এই কৌশলগত পদক্ষেপের সাফল্য নির্ভর করবে কীভাবে কার্যকরভাবে AV পার্টনারশিপ এবং অবকাঠামো উন্নয়নকে সংহত করা যায় তার ওপর।



