ব্রিটিশ অভিনেত্রী ক্লেয়ার ফয়, যিনি নেটফ্লিক্সের রয়্যাল ড্রামা ‘দ্য ক্রাউন’‑এ রাণী এলিজাবেথ II‑এর ভূমিকায় পরিচিত, সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন যে তিনি পাঁচ বছর ধরে প্যারাসাইটের সংক্রমণে ভুগছিলেন। তিনি এই সংক্রমণটি সম্ভবত মরক্কো ভ্রমণের সময় পেয়েছেন বলে জানান।
ফয় টেবিল ম্যানার্স পডকাস্টে তার স্বাস্থ্যের সমস্যার কথা শেয়ার করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “অনেক বছর আগে আমার শরীরে প্যারাসাইট ছিল, যা আমার ওজন কমিয়ে দিত এবং আমি বুঝতে পারছিলাম না কী ঘটছে।” ডাক্তারের পরামর্শে তিনি অ্যান্টিবায়োটিকের বদলে ডায়েট পরিবর্তন বেছে নেন।
ডায়েটের অংশ হিসেবে তিনি ক্যাফেইন সম্পূর্ণ বাদ দেন, কারণ তিনি “হালকা অ্যান্টিবায়োটিকের বদলে কঠোর ওষুধ নিতে চাই না” বলে ব্যাখ্যা করেন। ক্যাফেইন ছাড়া জীবনযাপন তার জন্য নতুন অভ্যাস হয়ে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে, ফয় গ্লুটেন ও চিনি গ্রহণেও সীমা আরোপ করেছেন। তিনি জানান, “আমি গ্লুটেন ও চিনি কমিয়ে খাই, কারণ আমার একটি অটোইমিউন রোগ আছে, যা প্রদাহ বাড়াতে পারে।” তিনি উল্লেখ করেন, বাইরে খাবার খাওয়ার সময়ই কখনও কখনও এই খাবারগুলো গ্রহণ করেন, তবে তা তার স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলে না।
ফয় তার ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য সাফল্যও তুলে ধরেন। ‘দ্য ক্রাউন’‑এর পাশাপাশি তিনি বিবিসি-র ঐতিহাসিক নাটক ‘উলফ হল’ এবং ‘এ ভেরি ব্রিটিশ স্ক্যান্ডাল’‑এ কাজ করেছেন। রাণী এলিজাবেথ II‑এর ভূমিকায় তিনি দুইটি এমি এবং একটি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার অর্জন করেন।
অভিনয় জগতে তার সাম্প্রতিক কাজের মধ্যে ২০২২ সালের ‘উমেন টকিং’ চলচ্চিত্র এবং ‘H Is For Hawk’‑এর স্ক্রিন অভিযোজন অন্তর্ভুক্ত। ভবিষ্যতে তিনি দুইটি নতুন ছবিতে দেখা যাবে: এনিড ব্লাইটনের ফ্যান্টাসি ‘দ্য ম্যাজিক ফারাওয়ে ট্রি’ এবং রিচার্ড ই গ্রান্টের সঙ্গে ‘স্যাভেজ হাউস’ নামে ব্ল্যাক কমেডি।
ফয় গত মাসে সানডে টাইমসের সঙ্গে কথোপকথনে উল্লেখ করেন, তার তরুণ বয়সে তিনি ৪০ বছর পার হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন, কারণ স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে তিনি “কখনোই ৪০‑এর পর বেঁচে থাকব না” ভাবতেন। এখন তিনি এই উদ্বেগকে অতিক্রম করে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি আরও যত্নশীল হয়ে উঠেছেন।
প্যারাসাইট সংক্রমণ এবং ডায়েট পরিবর্তনের ফলে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হয়েছে বলে ফয় জানান। তিনি বলেন, “এখন আমি নিজের শরীরের প্রতি বেশি মনোযোগ দিই, যাতে কোনো অস্বাভাবিকতা দ্রুত শনাক্ত করা যায়।”
শ্রোতাদের জন্য তিনি একটি হালকা টোনে মন্তব্য করেন, “এটা যেন ‘দ্য ট্রেইটর্স’‑এর গোপনীয়তা শেয়ার করার মতো, তবে আমি এখনো গ্লুটেন ও চিনি না খাওয়ার গোপনীয়তা ভাগ করছি।”
ক্লেয়ার ফয়ের এই স্বাস্থ্যের অভিজ্ঞতা তার ভক্তদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে পারে। তার গল্প থেকে দেখা যায়, দীর্ঘমেয়াদী অস্বস্তি উপেক্ষা না করে সঠিক ডায়াগনোসিস ও ডায়েট পরিবর্তন কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
ফয় ভবিষ্যতে আরও নতুন প্রকল্পে কাজ চালিয়ে যাবেন, এবং তার স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি তার পেশাগত জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়।



