21 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ইরানি পরিচালক সেলেহ কাশেফির ‘ওলফগ্যাং’ চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার

ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ইরানি পরিচালক সেলেহ কাশেফির ‘ওলফগ্যাং’ চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার

ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যাম (IFFR) এর ৫৫তম সংস্করণে ইরানি অডিওভিজ্যুয়াল শিল্পী সেলেহ কাশেফি, যিনি Filmsaaz নামেও পরিচিত, তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র ‘ওলফগ্যাং’ উপস্থাপন করেছেন। চলচ্চিত্রটি ‘ব্রাইট ফিউচার’ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে এবং প্যারিসে নির্বাসিত ইরানি শিল্পীর অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে গঠিত।

সেলেহ কাশেফি তেহরানের জন্মগ্রহণকারী এক তরুণ সৃষ্টিকর্তা, যিনি অডিওভিজ্যুয়াল শিল্পের সঙ্গে সঙ্গীতকে একত্রিত করে অনন্য রূপে প্রকাশ করেন। ‘ওলফগ্যাং’ তার প্রথম দিগন্তে পৌঁছানো ফিচার ফিল্ম, যা সীমিত বাজেটেও সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছে।

রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘ব্রাইট ফিউচার’ শিরোনামে নির্বাচিত হওয়ায় এই কাজটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলো পেয়েছে। এই প্রোগ্রামটি উদীয়মান চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাজকে সমর্থন করার উদ্দেশ্যে গঠিত, এবং ‘ওলফগ্যাং’ তার স্বতন্ত্র শৈলীর মাধ্যমে এই লক্ষ্যকে পূরণ করেছে।

চলচ্চিত্রের মূল ধারণা হল ১৭৭৮ সালে প্যারিসে নির্বাসিত ২২ বছর বয়সী মোজার্টের জীবনের কল্পনা করা, এবং তা সমসাময়িক প্যারিসে বসবাসরত ইরানি শিল্পীর জীবনের সঙ্গে সমান্তরাল করা। মোজার্টের মৃত্যুর শোক, তার সৃষ্টিশীল অশান্তি এবং স্বাধীনতার তৃষ্ণা চলচ্চিত্রের কাঠামোতে প্রতিফলিত হয়েছে।

সিনেমার সংক্ষিপ্তসারে উল্লেখ আছে যে, মোজার্টের মা মৃত্যুর শোকের পর তিনি অশ্লীল সুর রচনা করেন এবং স্বাধীনতার অতিরিক্ত আনন্দে নিজেকে নিমজ্জিত করেন। এই শোক ও অশান্তি, সৃষ্টিশীল প্রকাশের সঙ্গে মিশে, চলচ্চিত্রে একধরনের আত্ম-পরিবর্তনের যাত্রা হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

‘ওলফগ্যাং’ লিঙ্গ ও পরিচয়ের সীমানা ভাঙার প্রচেষ্টা করে, যেখানে সময় ও লিঙ্গের সীমা অতিক্রম করে আত্ম-পরিবর্তনের একটি কবিতা রচিত হয়েছে। চলচ্চিত্রটি গৌণ চরিত্রের মাধ্যমে আত্ম-অন্বেষণ, শোকের মোকাবিলা এবং সৃজনশীলতা কীভাবে একে অপরকে প্রভাবিত করে তা চিত্রিত করে।

IFFR ওয়েবসাইটে চলচ্চিত্রটি ‘ধরণা‑বিহীন অডিওভিজ্যুয়াল অপেরা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে মোজার্টের জীবনের গল্পটি ইরানি শিল্পী ওলফগ্যাংয়ের জীবনের দরজা খুলে দেয়। প্যারিসকে স্বপ্নের শহর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে নির্বাসিত শিল্পী তার মাতৃভূমির সেন্সরশিপ থেকে মুক্তি পায়।

চলচ্চিত্রটি রাজনৈতিক নির্বাসনের মধ্যে শিল্প সৃষ্টির জটিলতা ও সূক্ষ্মতা তুলে ধরে, এবং আত্ম-অন্বেষণের পথে শিল্পীর অভিজ্ঞতা কীভাবে রূপান্তরিত হয় তা বিশদভাবে দেখায়। এই দিকটি দর্শকদের জন্য একটি গভীর চিন্তার আহ্বান জানায়।

শৈলীর দিক থেকে ‘ওলফগ্যাং’ বিভিন্ন সঙ্গীতের অডিশন ও আরিয়ার মাধ্যমে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে রঙিন, হ্যালুসিনেশন‑সদৃশ স্বপ্নময় দৃশ্য এবং সাদা-কালো চিত্রকর্মের মিশ্রণ দেখা যায়। এই ভিজ্যুয়াল পদ্ধতি চলচ্চিত্রকে একটি স্বতন্ত্র শিল্পকর্মে রূপান্তরিত করেছে।

ফিল্মসাজের নিজস্ব ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মোজার্টের সুরকে পুনর্গঠন করে আধুনিক রিদম ও সাউন্ডস্কেপে রূপান্তর করা হয়েছে, যা পুরাতন ও নতুনের মেলবন্ধন ঘটিয়ে দর্শকের অনুভূতিকে তীব্র করে। এই সঙ্গীত পুনর্নির্মাণ চলচ্চিত্রের মূল থিমের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

চলচ্চিত্রে গাজাল শোজাই, যিনি নিজেও প্যারিসে নির্বাসিত ইরানি অভিনেত্রী, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার উপস্থিতি চলচ্চিত্রের বাস্তবতা ও আবেগকে আরও গভীর করে তুলেছে, এবং নির্বাসনের অভিজ্ঞতা ব্যক্তিগত স্তরে প্রকাশ করতে সহায়তা করেছে।

‘ওলফগ্যাং’ রটারড্যাম ফেস্টিভ্যালে উপস্থাপিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রপ্রেমী ও শিল্প সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই কাজটি নির্বাসিত শিল্পীর আত্ম-অন্বেষণ, লিঙ্গের সীমানা ভাঙা এবং সঙ্গীতের পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে একটি নতুন ধরণের অডিওভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা প্রদান করে, যা ভবিষ্যতের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – Movies
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments