গত বছর আগস্টের ৯ তারিখে রাঙ্গপুরের টারাগঞ্জ উপজেলা গ্যাং হামলায় ৪০ বছর বয়সী রুপলাল রোবিদাস এবং তার আত্মীয় প্রদীপ লাল রোবিদাস, ৩৫, প্রাণ হারান। এই ঘটনা স্থানীয় মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে এবং এখনো তদন্তের অধীনে রয়েছে।
মালতি রানি রোবিদাস, রুপলালের বিধবা, এবং তার সন্তান জয়, দুজনের মৃত্যুর পর থেকে শোকের সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক ও মানসিক সমস্যার মুখোমুখি। শোকের পাশাপাশি তারা হুমকির শিকার হয়ে পড়েছেন।
মালতি জানুয়ারি ২৩ তারিখে টারাগঞ্জ থানা-তে একটি অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে রুবেল পাইকার, ৩০, সম্প্রতি জামিন পেয়ে ২২ জানুয়ারি টারাগঞ্জ বাজারে তার এবং তার পুত্রকে হুমকি দিয়ে মামলা প্রত্যাহার করার দাবি করেন। রুবেলকে অভিযোগে ‘হুমকি’ ও ‘দমন’ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ আছে যে সোহাগ ইসলাম, যাকে কখনো গ্রেফতার করা হয়নি, তিনি ধারাবাহিকভাবে পরিবারকে তাড়া করছেন। মালতি বলেন, পুলিশ ও প্রশাসন যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারে, তবে পরিবারকে ওই এলাকার থেকে সরে যেতে বাধ্য হতে পারে।
রুবেল পাইকার অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় বলেন যে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ‘নকশা করা’ এবং তিনি কোনো হুমকি দেননি। তিনি এই অভিযোগকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে নিজের নাম পরিষ্কার করার দাবি করেন।
এই মামলায় এখন পর্যন্ত কতজন অভিযুক্ত গ্রেফতার হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। রুবেল ছাড়া অন্য কয়েকজনের নামও তদন্তের আওতায় রয়েছে, তবে সোহাগ ইসলামের গ্রেফতার এখনও হয়নি। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে যে তারা হুমকি সম্পর্কিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করছে।
মালতি রোবিদাসের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে স্থানীয় প্রশাসন কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা এখনো অনিশ্চিত। পরিবার দাবি করে যে হুমকি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা টারাগঞ্জে বসবাস চালিয়ে যেতে পারবে না।
এই ঘটনার পর থেকে রাঙ্গপুরের অন্যান্য গ্যাং হামলা সম্পর্কেও উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় মানুষ দাবি করছে যে হিংসাত্মক অপরাধের শিকারদের জন্য যথাযথ সুরক্ষা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা দরকার।
আইনি দিক থেকে, মামলাটি এখনো আদালতে অগ্রসর হয়নি। রুবেল পাইকারের জামিনের শর্তাবলী এবং হুমকি অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা পরবর্তী পর্যায়ে স্পষ্ট হবে।
স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই মামলায় নজর রাখছে। তারা জোর দিয়ে বলছে যে হুমকি বা দমনমূলক কাজের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, যাতে শিকার পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।
মালতি রোবিদাসের শোকের সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক সমস্যাও বাড়ছে। তিনি জানিয়েছেন যে হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে কাজের সুযোগ খুঁজে পেতে পারছেন না, ফলে পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে, রাঙ্গপুরের টারাগঞ্জে গ্যাং হামলা ও হিংসা মোকাবিলার জন্য স্থানীয় প্রশাসন কী ধরনের কৌশল গ্রহণ করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে শিকারের পরিবার এবং স্থানীয় জনগণ আশা করে যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দ্রুত এবং ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ নেবে।
মালতি রোবিদাসের অভিযোগের ভিত্তিতে, টারাগঞ্জ থানা-র তদন্ত দল হুমকি সম্পর্কিত সব প্রমাণ সংগ্রহ করছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মামলার অগ্রগতি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পদক্ষেপের ওপর জনগণের নজর থাকবে। শিকারের পরিবার এবং স্থানীয় সমাজের জন্য ন্যায়বিচার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখনই অগ্রাধিকার।



