21 C
Dhaka
Thursday, February 5, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনেত্রকোনা হাসপাতালের আরএমও বিএনপি সমাবেশে ভোট আহ্বান করে বিতর্কে

নেত্রকোনা হাসপাতালের আরএমও বিএনপি সমাবেশে ভোট আহ্বান করে বিতর্কে

নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের ২৫০-বেডের রেসিডেন্ট মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ মজহারুল আমিনের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। ভিডিওতে তিনি বারহাট্টা উপজেলার বাউসি এলাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপি সমাবেশে ভোটের আহ্বান জানাতে দেখা গেছেন।

ভিডিওটি প্রায় পাঁচ মিনিট চুয়ান্ন সেকেন্ডের, যেখানে ডাঃ মজহারুল স্থানীয় গ্রামবাসীদের সামনে ডাঃ আনওয়ারুল হককে নেত্রকোনা-২ (সদর‑বারহাট্টা) আসনের বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সমর্থন করার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি ভোটকে মৌলিক অধিকার বলে উল্লেখ করে, খাবার, পোশাক, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সঙ্গে তুলনা করেন।

ডাঃ মজহারুল অতীতের আওয়ামী লীগ শাসনকালে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলে, ২০১৮ সালের নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তার বক্তব্যে তিনি মৃত রাষ্ট্রপতি আনিসুর রহমান জিকো, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

তিনি ডাঃ আনওয়ারুলের বাড়ি ও নাবিলা ডায়াগনস্টিক সেন্টার পূর্বে ধ্বংসের শিকার হয়েছে এবং বিভিন্ন মামলার মাধ্যমে হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তবুও ডাঃ আনওয়ারুল জনগণের মঙ্গলের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, এ কথাটিও তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন।

ভিডিওটি নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি কর্মীর রাজনৈতিক প্রচার নিয়ে তীব্র সমালোচনা উত্থাপিত হয়। বিএনপি কেন্দ্রীয় সংগঠক প্রিতম সোহাগ ফেসবুকে পোস্ট করে জানান, সরকারী কর্মী ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে ভোট আহ্বান করতে পারবেন না।

প্রিতম সোহাগ উল্লেখ করেন, এ ধরনের কাজ সরকারি পরিষেবা নিয়ম ও নির্বাচন কোডের লঙ্ঘন এবং যদি ডাঃ মজহারুল রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চান তবে তিনি পাবলিক সার্ভিস থেকে পদত্যাগ করা উচিত।

ডাঃ মজহারুলের সঙ্গে যোগাযোগের পর তিনি স্বীকার করেন, তার রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে এবং পূর্বে তিনি বিএনপি কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। নিজের বাড়ি বারহাট্টায় থাকায় তিনি স্থানীয় সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন এবং বক্তৃতা দেন।

তিনি আরও বলেন, এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে সরকারি পদে থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া নৈতিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যাজনক। তবে তিনি এখনও তার রাজনৈতিক মতাদর্শে অবিচল থাকবেন, এ কথায় তিনি কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে শেষ করেন।

নেত্রকোনা স্বাস্থ্য বিভাগের মুখপাত্র এখন পর্যন্ত ডাঃ মজহারুলের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথা প্রকাশ করেননি, তবে তিনি উল্লেখ করেন যে সংশ্লিষ্ট বিভাগে বিষয়টি তদন্তের অধীনে রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনও এই ধরনের ঘটনা নজরে রাখার কথা জানিয়ে, সরকারি কর্মীর রাজনৈতিক প্রচারকে নির্বাচন কোডের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।

বিএনপি পক্ষ থেকে এখনো ডাঃ মজহারুলের কর্মকাণ্ডের কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে পার্টির স্থানীয় স্তরে তার সমর্থনকারী ও বিরোধী উভয়েরই মতামত ভিন্ন।

এই ঘটনার ফলে নেত্রকোনা-২ আসনের নির্বাচনী পরিবেশে অতিরিক্ত উত্তেজনা দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে ভোটারদের মধ্যে সরকারী কর্মীর রাজনৈতিক পক্ষপাত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি ডাঃ মজহারুল পদত্যাগ না করেন তবে তিনি শাস্তি বা বরখাস্তের মুখোমুখি হতে পারেন, যা পার্টির প্রচার কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।

অবশেষে, এই ঘটনা সরকারি কর্মীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সীমা ও নির্বাচন কোডের প্রয়োগ সম্পর্কে নতুন আলোচনা উত্থাপন করেছে, যা আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments