বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ থাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী সভায় জামায়াত‑ই‑ইসলামকে ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে ভোটারকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি কিসমত দৌলতপুর গ্রাম, নারগুন ইউনিয়ন, সদর উপজেলা থেকে এই বক্তব্য প্রকাশ করেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেন যে বহু প্রখ্যাত ইসলামি পণ্ডিত স্পষ্টভাবে বলেছেন, জামায়াত‑ই‑ইসলাম ইসলামের নামে কথা বলে মানুষকে গুলিয়ে দেয়। এই পণ্ডিতদের মধ্যে চরমোনাই পীরের নামও উল্লেখযোগ্য, যিনি জামায়াতকে ইসলামিক দল নয় বলে প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের কর্মীরা বিশেষ করে নারী ভোটারদের কাছে মিথ্যা ধর্মীয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটের আহ্বান জানাচ্ছেন। “তারা আমাদের মা, বোনদের বলে, স্কেল চিহ্নে ভোট দিলে স্বর্গে প্রবেশের গ্যারান্টি পাবেন,” মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এভাবে উল্লেখ করেন।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বর্গে প্রবেশের সিদ্ধান্ত আল্লাহর হাতে এবং তা কেবল কাজের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। কোনো রাজনৈতিক প্রতীক বা ভোটের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা যায় না।
বিএনপি থাকুরগাঁও-১ প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার দলের নীতি তুলে ধরেন, রেটোরিক্সের চেয়ে কাজের ওপর গুরুত্ব দিতে। তিনি বলেন, “আমি তাদের প্রার্থী নিয়ে কথা বলব না, তবে এই দলের সম্পর্কে কিছু বলব। তারা একসময় আমাদের সঙ্গে ছিল, আমরা একসাথে কাজ করেছি।”
এখন জামায়াত স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, যা তার অধিকার। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেন, “যে কেউ রাজনীতিতে আসতে পারে, তবে সৎভাবে আসা উচিত। মিথ্যা বলা, গুজব ছড়ানো, একে অপরকে আক্রমণ করা উচিত নয়।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জামায়াত এখনও রাজনৈতিক স্বার্থে ইসলামকে ব্যবহার করে চলেছে, যদিও বহু আলেম-উলেমা স্পষ্টভাবে এ বিষয়টি খারিজ করেছেন। “অনেক আলেম স্পষ্টভাবে বলেছেন, জামায়াত কেবল মানুষকে বিভ্রান্ত করতে ইসলামকে কাজে লাগায়,” তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন।
এরপর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের বশভঙ্গা কালী মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি দুই ধর্মের মানুষকে “একই কান্ডের দুইটি ফুল” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং ঐতিহাসিকভাবে সহাবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “হিন্দু ও মুসলমান একসাথে বহু প্রজন্ম ধরে বসবাস করেছে, তবে এখন কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের মধ্যে ফাঁক তৈরি করছে।” তিনি সকলকে ভয় ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার আহ্বান জানান।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এটি আপনার দেশ, আমার দেশই। আমরা যে অধিকারগুলো উপভোগ করি, সেগুলো সমান।” এভাবে তিনি ধর্মীয় সাদৃশ্য ও জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই মন্তব্যগুলো আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে প্রকাশিত হয়েছে, যা ভোটারদের ধর্মীয় ভিত্তিক প্রভাব থেকে মুক্ত করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি শেষ করে বলেন, “রাজনীতি সৎভাবে চালিয়ে গেলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব, আর ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।”



