ফ্লোরিডার ফোর্ট পিয়ার্সে বুধবার স্থানীয় সময়ে রায়ান রাউথের বিরুদ্ধে সাজা নির্ধারণের অধিকার বিচারকের হাতে থাকবে। ৫৯ বছর বয়সী রাউথকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর গুলি চালানোর চেষ্টা করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
প্রসিকিউশন দল বিচারক আইলিন ক্যাননকে রাউথের জন্য আজীবন কারাদণ্ডের আবেদন পেশ করেছে। এই আবেদনটি রাউথের অপরাধের গুরুতরতা এবং পূর্ব পরিকল্পনা বিবেচনা করে করা হয়েছে।
সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে ট্রাম্পের গলফ কোর্সে রাউথ গাছের ছায়ায় লুকিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করে। গুলি চালানোর সময় তিনি গলফ কোর্সের ঘন ঝোপের মধ্যে অবস্থান করছিলেন, যা তাকে দৃশ্যমানতা থেকে দূরে রাখে।
সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা রাউথকে শনাক্ত করার পর তিনি তৎক্ষণাৎ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে দ্রুত অনুসরণে রাউথকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাকে স্থানীয় কারাগারে রাখা হয়।
গত সেপ্টেম্বরের জুরি রাউথকে পাঁচটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে, যার মধ্যে রয়েছে হত্যাচেষ্টা। রাউথ নিজে নিজে আদালতে নিজের পক্ষে মামলা লড়াই করেন, ফলে তিনি নিজেই তার রক্ষা কৌশল উপস্থাপন করেন।
প্রসিকিউশনের মতে, রাউথ বহু মাস ধরে ট্রাম্পের মৃত্যুর পরিকল্পনা করে আসছিলেন এবং তার আচরণে কোনো অনুশোচনা বা পশ্চাত্তাপের চিহ্ন দেখা যায়নি। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তারা রাউথের জন্য কঠোর শাস্তি চায়।
রাউথ আদালতে দাবি করেন যে তার লক্ষ্য ট্রাম্পকে হত্যা করা ছিল না, বরং তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এবং চিকিৎসা প্রয়োজন। তিনি নিজের জন্য ২৭ বছরের কারাদণ্ডের আবেদন করেন, যা তার স্বীকারোক্তি এবং মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে।
বিচারকের সামনে রাউথের আত্মরক্ষার যুক্তি এবং প্রসিকিউশনের কঠোর শাস্তির আবেদন উভয়ই উপস্থাপিত হবে। বিচারক রাউথের পূর্ব অপরাধের রেকর্ড, পরিকল্পনার পরিসর এবং তার স্ব-প্রতিনিধিত্বের প্রভাব বিবেচনা করবেন।
সাজা ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে, এবং রাউথের আইনজীবীরা সম্ভাব্য আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদি রাউথকে আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়, তবে তা তার অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে।
এই মামলাটি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ঘটেছে, যা রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই দ্বিতীয় হত্যাচেষ্টা হিসেবে গণ্য হয়, যা নির্বাচনী প্রচারণার সময় নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রথম হত্যাচেষ্টা ঘটেছিল যখন ট্রাম্পকে দূর থেকে স্নাইপার গুলি করার চেষ্টা করা হয়েছিল, যদিও সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। উভয় ঘটনার মধ্যে লক্ষ্যবস্তু একই হলেও পদ্ধতি ও বাস্তবায়নে পার্থক্য দেখা যায়।
বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায়, রাউথের ভবিষ্যৎ শাস্তি এবং সম্ভাব্য আপিলের ফলাফল দেশের আইনি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে পরীক্ষা করবে। এই মামলায় আদালতের সিদ্ধান্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে থাকবে।



