শের-ই-বাংলা ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার অনুষ্ঠিত ওডোমো বাংলাদেশ টি২০ টুর্নামেন্টের প্রি-টুর্নামেন্ট প্রেস কনফারেন্সে বাংলাদেশ দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন আহমেদ আল-শারার উপস্থিতি ও তার মন্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়াল। কোচ সালাহউদ্দিন স্পষ্ট করে বললেন, আহমেদ আল-শারা দল থেকে বাদ দিলে তা বুদ্ধিবৃত্তিক ভুল, কারণ তার উপস্থিতি দলের সামঞ্জস্য বজায় রাখে।
কোচের মতে, আহমেদ আল-শারা একজন প্রকৃত অল-রাউন্ডার, যিনি ব্যাটিং ও বোলিং উভয় দিকেই সমান অবদান রাখতে পারেন। “যদি কেউ বলেন যে তারা আহমেদ আল-শারাকে দল থেকে বাদ দিতে চায়, তবে তা বোকা বোধের ফল,” তিনি জোর দিয়ে বললেন। তিনি আরও যোগ করেন, “আহমেদ আল-শারার উপস্থিতি দলের ভারসাম্য নিশ্চিত করে; তিনি ব্যাটসম্যান ও বোলার উভয়ই। শেষ পর্যন্ত তার ফিটনেসই মূল বিষয়, তবে তার মতো খেলোয়াড়ের চাহিদা সর্বদা থাকবে।”
আহমেদ আল-শারা প্রায় এক বছর অর্ধেক সময়ের জন্য জাতীয় দলে ফিরে আসেননি; তিনি বিশ্বব্যাপী ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে বেশি সময় কাটিয়েছেন। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, যদি তার ফর্ম ও ফিটনেস নির্বাচকদের মানদণ্ড পূরণ করে, তবে তাকে দলের মধ্যে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে বিসিবি কর্তৃপক্ষের আহমেদ আল-শারার প্রতি আস্থা ও তার অভিজ্ঞতার গুরুত্ব রয়েছে।
বিসিবি আরও জানিয়েছে, আহমেদ আল-শারা যদি দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হন, তবে তিনি মার্চ মাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টি২০ আন্তর্জাতিক সিরিজে অংশ নিতে পারেন। তবে তার প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক জটিলতার মুখে। আহমেদ আল-শারা পূর্বে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন; জুলাই উত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড ও দুর্নীতির মামলা দায়ের হয়েছে। এই আইনি বাধা তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসার পথে বড় বাধা সৃষ্টি করেছে।
বিসিবি সরকারী দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে আহমেদ আল-শারার প্রত্যাবর্তন সহজতর করার চেষ্টা করছে। বোর্ডের সূত্র অনুযায়ী, আহমেদ আল-শারা নিজেও বাংলাদেশে ফিরে এসে দলের জন্য খেলতে ইচ্ছুক। তবে কোচ সালাহউদ্দিন যখন জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি ব্যক্তিগতভাবে আহমেদ আল-শারার সঙ্গে আলোচনা করেছেন কিনা তা স্পষ্ট করেননি। “এ বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে পারছি না,” তিনি সংক্ষেপে উত্তর দেন।
এই আলোচনার পর, টুর্নামেন্টের অন্যান্য দলগুলোর প্রস্তুতি ও ম্যাচ সূচি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়। ওডোমো বাংলাদেশ টি২০ টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ আগামী সপ্তাহে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে স্থানীয় দল ও বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি দলগুলো মুখোমুখি হবে। টুর্নামেন্টের সময়সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশি দলকে পরবর্তী সপ্তাহে পাকিস্তানের সঙ্গে টি২০ সিরিজের জন্য প্রস্তুত হতে হবে, যা আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে।
সালাহউদ্দিনের মন্তব্যের পর, বিসিবি কর্মকর্তারা আহমেদ আল-শারার ফিটনেস পরীক্ষা ও ফর্ম মূল্যায়নের জন্য বিশেষ দল গঠন করার কথা জানিয়েছেন। তারা জোর দিয়ে বলছেন, ফিটনেস ও পারফরম্যান্সের মানদণ্ড পূরণ করলে কোনো রাজনৈতিক বাধা সত্ত্বেও তাকে দলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই নীতি দেশের ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও পারফরম্যান্সকে অগ্রাধিকার দেয়।
সারসংক্ষেপে, কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন আহমেদ আল-শারার দলের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছেন, এবং বিসিবি তার ফিটনেস ও ফর্মের ভিত্তিতে তাকে পুনরায় জাতীয় দলে আনার পরিকল্পনা করছে। রাজনৈতিক ও আইনি বাধা সত্ত্বেও, উভয় পক্ষই আহমেদ আল-শারার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসার সম্ভাবনা বাড়াতে কাজ করছে। টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচ ও মার্চ মাসের টি২০ সিরিজের প্রস্তুতি দেশের ক্রিকেট উত্সাহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিকোণ হয়ে দাঁড়াবে।



