ঢাকা, হাতিরঝিলে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সভায় ডা. জুবাইদা রহমান, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী, বুধবার গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তিনি বললেন, পার্টির মূল লক্ষ্য হল বৈষম্যের আগে সমতা ও সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করা, যা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা গঠনে মূল ভিত্তি হবে।
সভায় উপস্থিত নগরবাসী ও ভোটারদের উদ্দেশে ডা. জুবাইদা উল্লেখ করেন, প্রত্যেকেরই কোনো না কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, তবে সঠিক পরিকল্পনা ও কৌশল থাকলে সেসব সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপির রাজনীতি পরিকল্পনামূলক এবং দেশের নতুন সূর্যোদয়ের সময়ে গর্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
ডা. জুবাইদা বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হল শ্রমের মর্যাদা রক্ষা, মেধার যথাযথ মূল্যায়ন, মেধাভিত্তিক চাকরি এবং ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করা। শোষণের আগে অধিকার – এটাই আমাদের মূল নীতি।” তিনি এই নীতির ভিত্তিতে পার্টির কর্মসূচি গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “একটি এমন সমাজ গড়তে চাই যেখানে নেতা নয়, জনগণ প্রথমে আসে। আমরা কাজ করব, দেশ গড়ব, এবং সর্বদা বাংলাদেশকে অগ্রগামী রাখব।” এই বক্তব্যে তিনি জনগণের সঙ্গে সমন্বয় ও ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন, যাতে সকলের স্বার্থ রক্ষিত হয়।
সভায় উপস্থিত সাধারণ জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে ডা. জুবাইদা বলেন, আজকের সমাবেশে অংশগ্রহণকারী সবাই একত্রে উপস্থিত হয়ে তাদের মূল্যবান সময় উৎসর্গ করেছেন, পার্টির কথা শোনার এবং তাদের সমস্যাগুলি জানার জন্য। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি তাদের সক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত শোনা ও সমাধান করার চেষ্টা করবে।
জনমত সংগ্রহের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান ও সমতাভিত্তিক, জ্ঞানভিত্তিক ও শ্রমের মর্যাদায় সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে পার্টি কাজ করছে, এ কথায় ডা. জুবাইদা তার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি সুন্দর ও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব।
মতবিনিময় সভার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডি.পি.এ. (ঢাকা-১৭) নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার। তার সঙ্গে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং ঢাকা-১৭ নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকারে কোনো বিরোধী দলের সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে উল্লেখযোগ্য যে আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কাছ থেকে এই সভা ও ডা. জুবাইদার বক্তব্যের কোনো তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া রেকর্ড করা হয়নি।
বিএনপির এই প্রকাশনা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে পার্টির নীতি ও কৌশল স্পষ্ট করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সমতা, শ্রমের মর্যাদা ও মেধাভিত্তিক নীতি জোর দিয়ে পার্টি ভোটারদের কাছে তার ভিশন উপস্থাপন করতে চায়, যা নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ডা. জুবাইদা জোর দিয়ে বলেন, সমান অধিকার ও ন্যায়বিচার অর্জনে সকল সমর্থক ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তিনি আহ্বান করেন, জনগণ একসঙ্গে কাজ করে পার্টির লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দিতে সহযোগিতা করবে।
এই সভা ও ডা. জুবাইদার বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপি তার মৌলিক নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে এবং নির্বাচনের পরবর্তী ধাপে পার্টির কৌশলগত অবস্থান নির্ধারণে সহায়ক হবে।



