পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াত-এ-ইসলামি সংসদ সদস্য প্রার্থী মাসুদ সাঈদী ৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে পিরোজপুর শহরের হোটেল নায়োরীতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে দেশের মুক্তিযুদ্ধের মূল স্রোত হিসেবে স্বীকৃতি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের স্বাধীনতা অর্জনে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত এবং তা কোনো বিতর্কের বিষয় নয়।
সাঈদী একই সময়ে একটি চক্র আমিরের দলকে জামায়াতের বক্তব্য বিকৃত করে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে, আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়ার দাবি তোলেন। তিনি বলেন, এমন কর্মকাণ্ড পার্টির সুনাম ক্ষুন্ন করে এবং জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, জামায়াত-এ-ইসলামির আঞ্চলিক আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি বৃহৎ সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সমাবেশের উদ্দেশ্য হল পার্টির রাজনৈতিক কার্যক্রমকে শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় স্তরে সমর্থন জোগাড় করা।
সংবাদ সম্মেলনে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের আমির ও অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদ লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শুক্রবারের সমাবেশে লক্ষাধিক মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে এবং এটি পার্টির জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাছাড়া, সমাবেশে পার্টির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল উপস্থিত থাকবেন।
সমাবেশের তালিকায় জাতীয় গণতান্ত্রিক দল (জাগপা) মুখপাত্র আল রাশেদ প্রধান, এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব মাহমুদা আক্তার মিতুসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এই নেতারা সমাবেশে পার্টির নীতি ও কর্মসূচি তুলে ধরার পাশাপাশি ভোটার ভিত্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা জানাবেন।
অতিরিক্তভাবে, পিরোজপুর-৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের অংশীদার এনসিপি প্রার্থী ডা. শামীম হামিদী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. জহিরুল হক, পৌর আমির ইসহাক আলী খান এবং খেলাফত মজলিশের জেলা সভাপতি নাসির উদ্দিন ওসমানীও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। এই উপস্থিতি পার্টির বহুমুখী জোট গঠন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সমন্বয়কে নির্দেশ করে।
প্রস্তাবিত সমাবেশের আয়োজকরা উল্লেখ করেন, সমাবেশের মাধ্যমে পার্টি তার ভোটার সংযোগ দৃঢ় করবে এবং আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করবে। সমাবেশের সময়সূচি ও কার্যক্রমের বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত করা বাকি, তবে উপস্থিত নেতারা ইতিমধ্যে মিডিয়ার সামনে তাদের প্রস্তুতি ও লক্ষ্য প্রকাশ করেছেন।
মাসুদ সাঈদীর বক্তব্য ও সমাবেশের পরিকল্পনা পিরোজপুরের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। চক্র আমিরের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ এবং আইনি পদক্ষেপের দাবি পার্টির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আসন্ন শুক্রবারের সমাবেশের ফলাফল পার্টির ভবিষ্যৎ কৌশল ও নির্বাচনী অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



