হাবিগঞ্জের গোনো অধিকার পরিষদের প্রাক্তন জেলা ইউনিট সভাপতি চৌধুরী আশরাফুল বারী নোমান গত রাত্রি হাবিগঞ্জের আনন্তপুর এলাকায় জামায়াত-এ-ইসলামিতে যোগদান করেন, সঙ্গে প্রায় তিনশো সমর্থক। অনুষ্ঠানটি হাবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও হাবিগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী কাজি মোহসিন আহমেদের নির্বাচনী অফিসে অনুষ্ঠিত হয়। নোমান, যিনি আইনজীবী, পূর্বে গোনো অধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে হাবিগঞ্জ-৩ আসনের জন্য নাম নিবন্ধন করলেও পার্টির সিদ্ধান্ত ও বিএনপির সঙ্গে জোটের পর তার নাম প্রত্যাহার করেন।
নোমান রবিবার গোনো অধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন, কারণ তিনি পার্টির বর্তমান অবস্থার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পার্টি ত্যাগের পর তিনি জামায়াত-এ-ইসলামির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যা তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনকে নির্দেশ করে।
জামায়াতের জেলা আমীর মাওলানা মুখলিসুর রহমান নোমান ও তার সঙ্গে যুক্ত নেতাদের ফুলের গুচ্ছ দিয়ে স্বাগত জানান। এই স্বাগত অনুষ্ঠানটি নতুন সদস্যদের প্রতি পার্টির উন্মুক্ত মনোভাব এবং সংগঠনের শক্তিবৃদ্ধি লক্ষ্যের প্রতিফলন।
জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি কাজি মোহসিন আহমেদ উল্লেখ করেন, নোমান ও তার অনুসারীদের যোগদানের ফলে হাবিগঞ্জে জামায়াতের সংগঠনগত কাঠামো আরও দৃঢ় হবে। তিনি বলেন, এই ধরনের বৃহৎ দলবদ্ধতা পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী লড়াইয়ে সহায়তা করবে।
নোমান নিজে বলেন, তিনি ও তার অনুসারীরা আদর্শভিত্তিক রাজনীতির পথে অগ্রসর হতে এবং জাতির উন্নয়নে অবদান রাখতে চান। তিনি যোগদানের মূল উদ্দেশ্যকে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার হিসেবে তুলে ধরেন।
বিশ্লেষকরা অনুমান করেন, হাবিগঞ্জে গোনো অধিকার পরিষদের প্রাক্তন নেতা এবং তার বিশাল অনুসারী গোষ্ঠীর জামায়াত-এ-ইসলামিতে যোগদান স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিদ্যায় নতুন মাত্রা যোগাবে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনে এই পরিবর্তন পার্টির ভোটভিত্তি সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে।
জামায়াত-এ-ইসলামির স্থানীয় শাখা এখন নোমান ও তার সমর্থকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি পরিকল্পনা করছে, যা সংগঠনের কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, গোনো অধিকার পরিষদ এখন নতুন নেতৃত্বের সন্ধানে রয়েছে, কারণ নোমানের প্রস্থান তাদের সংগঠনের কাঠামোতে একটি শূন্যতা সৃষ্টি করেছে।
এই ঘটনার পর গোনো অধিকার পরিষদের কিছু সদস্য পার্টির অভ্যন্তরীণ সমস্যার কথা উল্লেখ করে পুনর্গঠন দাবি করছেন, তবে এখনও স্পষ্ট কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
হাবিগঞ্জের রাজনৈতিক পরিবেশে এই পরিবর্তনটি দুই প্রধান দলের মধ্যে জোটের গতিবিধিকে প্রভাবিত করতে পারে, কারণ গোনো অধিকার পরিষদ পূর্বে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ ছিল।
জামায়াত-এ-ইসলামি এখন হাবিগঞ্জে তার উপস্থিতি বাড়াতে এবং স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে নতুন কৌশল প্রয়োগের পরিকল্পনা করছে।
নোমান এবং তার অনুসারীরা ভবিষ্যৎ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীকে সমর্থন করার পাশাপাশি পার্টির নীতি ও কর্মসূচি প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।
সারসংক্ষেপে, গোনো অধিকার পরিষদের প্রাক্তন জেলা ইউনিট সভাপতি এবং প্রায় তিনশো সমর্থকের জামায়াত-এ-ইসলামিতে যোগদান হাবিগঞ্জের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন রঙ যোগ করেছে, যা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে পার্টির শক্তি বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।



