শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামি আমির, বুধবার কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে এক্স‑অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং ও গোষ্ঠীর হুমকি সম্পর্কে অভিযোগ করেন। তিনি জানান, চার দিন আগে তার এক্স‑আইডি হ্যাক করা হয় এবং একই সময়ে একটি দল তার পেছনে লেগে গানের মাধ্যমে তাড়া‑নাইরা শুরু করে। সমাবেশের সময় তিনি বলেন, সাইবার টিম দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে হ্যাকারদের ধরা পড়ে এবং মূল ষড়যন্ত্রকারীকে গতকাল পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
শফিকুরের মতে, হ্যাকিংয়ের পর গোষ্ঠী তার গানে হস্তক্ষেপ করে অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করেছে, তবে সাইবার টিমের কঠোর ব্যবস্থা তাদের থামাতে সক্ষম হয়েছে। তিনি যুক্তি দেন, সত্যকে কখনো মেঘের আড়ালে ঢাকা যায় না এবং অবশেষে সত্য উদ্ভাসিত হবে।
কুড়িগ্রামকে দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া অঞ্চল বলে উল্লেখ করে শফিকুর উন্নয়নের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, কুড়িগ্রামকে কৃষি‑শিল্পের রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে এবং কৃষি বিপ্লবের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষকে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে। উন্নয়নকে তার ধর্মীয় দায়িত্ব হিসেবে তিনি উল্লেখ করে বলেন, বঞ্চিতদের আর মিছিলের প্রয়োজন নেই, কাজই যথেষ্ট।
শফিকুরের ভাষ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রামের প্রধান সমস্যার মধ্যে তিনটি বড় নদীর অবনতি রয়েছে, যা তিনি ‘হত্যা’ শব্দে বর্ণনা করেন। তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রের বাজেট থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা চুরি হয়ে বিদেশে পাচার হয়েছে এবং এই টাকা পুনরুদ্ধার করা হবে।
সমাবেশে তিনি রংপুরের শহীদ আবু সাঈদের বীরত্বের কথা স্মরণ করে বলেন, সাঈদের বুকে তিনটি গুলি হিট হয়েছে এবং তার রক্তে নদী লাল হয়ে গিয়েছে। শফিকুর উল্লেখ করেন, সাঈদ, মুগ্ধ, হাদিসহ মোট ১৪০০ শহীদ হয়েছে এবং তাদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা যাবে না। তিনি দেশকে রক্ষা করতে নিজের জীবন উৎসর্গের প্রস্তুতি প্রকাশ করেন।
এ সময় শফিকুর একটি গোষ্ঠীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তারা নারীদের গায়ে হুমকি দিচ্ছে এবং হিজাব খুলে ফেলতে বলছে। তিনি গোষ্ঠীর আচরণকে ‘লজ্জা’ বলে সমালোচনা করেন এবং তাদেরকে নিন্দা করেন।
পুলিশের মতে, হ্যাকিং ও গোষ্ঠীর হুমকি সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে মূল ষড়যন্ত্রকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি, তবে সাইবার টিমের তদন্তে হ্যাকারদের চিহ্নিত করা হয়েছে।
শফিকুরের বক্তব্যে উল্লেখিত ‘সাইবার টিম’ জামায়াত-এ-ইসলামির নিজস্ব নিরাপত্তা বিভাগ, যা হ্যাকিং ঘটনার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে হ্যাকারদের সনাক্ত করেছে। টিমের কাজের ফলে হ্যাকারদের আইনি প্রক্রিয়ায় আনা সম্ভব হয়েছে।
কুড়িগ্রাম সমাবেশে উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকরা শফিকুরের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও শহীদদের স্মরণে উল্লাস করে। তারা তার বক্তৃতা শোনার সময় তালি ও নাড়ি দিয়ে সমর্থন জানায়।
শফিকুরের মন্তব্যে উল্লেখিত ‘বাজেট চুরি’ ও ‘বিদেশে পাচার’ সংক্রান্ত অভিযোগের কোনো সরকারি তদন্তের তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তবে তিনি এই বিষয়গুলোকে রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
সমাবেশের শেষে শফিকুর জামায়াত-এ-ইসলামির ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশল ও কুড়িগ্রাম উন্নয়নের রোডম্যাপ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, কুড়িগ্রামকে কৃষি‑শিল্পের কেন্দ্র করে দেশের অর্থনৈতিক মানচিত্রে নতুন দিক যোগ হবে।
এই সমাবেশ এবং শফিকুরের বক্তব্যের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রভাবের দিকে নজর দেওয়া হবে, বিশেষত কুড়িগ্রামের ভোটারদের মনোভাব ও পার্টির নির্বাচনী কৌশল। সরকারী ও বিরোধী দল উভয়ই কুড়িগ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও হ্যাকিং মামলাকে রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।



