দিল্লি হাইকোর্টের এক আদেশে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে সেলিনা জৈতলীর বড় ভাই, রিটায়ার্ড মেজর বিক্রান্ত কুমার জৈতলি, যিনি সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক আছেন, তার জন্য একটি আইন সংস্থা নিয়োগের আনুষ্ঠানিক নথি জারি করা হয়। আদালত এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করার পাশাপাশি কোনো বাধা দেখা দিলে মন্ত্রণালয়কে একটি শপথপত্র দাখিল করতে বলেছে।
এই মামলাটি বিচারপতি পুরুষেন্দ্র কুমার কৌরবের সমীপে শোনা হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে বিক্রান্ত জৈতলি যদি প্রস্তাবিত আইন সংস্থার প্রতি আপত্তি না করেন, তবে তাকে আইনগত সহায়তা প্রদান করা উচিত। আদালত এই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী শুনানির তারিখ ফেব্রুয়ারি ১০ নির্ধারণ করেছে।
সেলিনা জৈতলীর আইনজীবী যে আইন সংস্থাটিকে প্রস্তাব করেছেন, তা দুবাই ও আবুধাবিতে বিনামূল্যে (প্রো বোনো) সেবা দিতে ইচ্ছুক। সংস্থাটি ইতিমধ্যে মামলার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং প্রস্তুত রয়েছে। আদালত জানিয়েছে যে এই সংস্থা বিক্রান্ত জৈতলীর পূর্বে প্রস্তাবিত বিকল্পগুলোর মধ্যেও ছিল, ফলে তার স্বীকৃতি পাওয়া সহজ হবে।
বিক্রান্ত জৈতলীর আটক হওয়ার পর থেকে সেলিনা জৈতলি ধারাবাহিকভাবে তার ভাইয়ের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। তিনি কয়েক মাস ধরে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। আদালতের সর্বশেষ নির্দেশনা তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাড়া হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আইনি প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা দ্রুততর করবে এবং মামলার অগ্রগতি ত্বরান্বিত করবে।
দিল্লি হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে মন্ত্রণালয়কে এখন একটি আনুষ্ঠানিক নথি প্রস্তুত করে বিক্রান্ত জৈতলীর জন্য নির্ধারিত আইন সংস্থাকে নিয়োগ করতে হবে। যদি কোনো বাধা দেখা দেয়, তবে শপথপত্রের মাধ্যমে তা স্পষ্ট করা হবে। আদালত এই বিষয়টি দ্রুত সমাধান করার গুরুত্ব তুলে ধরেছে, যাতে দীর্ঘ সময় ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে থাকা এক প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা তার আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেলিনা জৈতলীর পরিবার ও সমর্থকরা আশাবাদী যে, আইনগত সহায়তা পাওয়া মাত্রই বিক্রান্ত জৈতলি তার মামলায় প্রয়োজনীয় রক্ষা পাবে এবং অবশেষে মুক্তি পেতে পারে। আদালতের নির্দেশনা এবং প্রস্তাবিত আইন সংস্থার প্রস্তুতি উভয়ই এই প্রক্রিয়াকে সহজতর করার লক্ষ্যে কাজ করবে।
দিল্লি হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে মন্ত্রণালয়কে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে এবং বিক্রান্ত জৈতলীর জন্য উপযুক্ত আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। আদালতের পরবর্তী শুনানিতে এই বিষয়ের অগ্রগতি ও কোনো নতুন নির্দেশনা প্রকাশিত হবে, যা মামলার শেষ পর্যন্ত কীভাবে এগোবে তা নির্ধারণ করবে।
সেলিনা জৈতলীর ভাইয়ের এই দীর্ঘ সময়ের আটক এবং তার আইনি সুরক্ষার জন্য চলমান প্রচেষ্টার মধ্যে এই আদালতীয় আদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের মামলায় দ্রুত আইনি সহায়তা প্রদান করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও প্রক্রিয়ার উন্নয়নও সম্ভবত আলোচনার বিষয় হয়ে উঠবে।



