ঢাকার ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ সদর দফতরে আজ (৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) পার্টি তার নতুন ম্যানিফেস্টো প্রকাশ করে, যেখানে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামী নীতির পূর্ণ বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। পার্টির আমীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত হয়ে মূল লক্ষ্যগুলো তুলে ধরেন।
উন্মোচিত ম্যানিফেস্টোতে ইসলামকে কেবল ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, মানব জীবনের সব দিকের জন্য স্পষ্ট নির্দেশিকা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পার্টি দাবি করে যে ইসলামী শাসনব্যবস্থা স্বতন্ত্র বিচারবিভাগ, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং নাগরিক স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করবে।
মুফতি রেজাউল করিম বলেন, যদি ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ শাসনে আসে, তবে এই মৌলিক নীতিগুলো সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শাসনক্ষমতা একটি দায়িত্ব এবং তা সুষ্ঠুভাবে হস্তান্তর করা উচিত।
ম্যানিফেস্টোতে সকল ধর্ম ও জাতিগত গোষ্ঠীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কোনো নাগরিককে ধর্ম বা জাতি ভিত্তিক সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা না করে সমান আচরণ নিশ্চিত করা হবে, এবং সকল ধর্মীয় চর্চার জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।
প্রকাশিত নথিটি “জনসাধারণের প্রত্যাশা” ম্যানিফেস্টো নামে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে: রাষ্ট্র শাসন সংক্রান্ত আটটি পয়েন্ট, রাষ্ট্র সংস্কার সংক্রান্ত ছয়টি পয়েন্ট এবং খাতভিত্তিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত ২৮টি পয়েন্ট।
রাষ্ট্র শাসনের এজেন্ডায় শাসনক্ষমতাকে দায়িত্ব হিসেবে দেখা, ক্ষমতার স্থিতিশীল হস্তান্তর, প্রতিবেশীসহ সকল দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মানজনক ও সহযোগী বৈদেশিক সম্পর্ক বজায় রাখা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, বৈষম্য দূর করতে আইনগত ও সামাজিক ব্যবস্থা গ্রহণ, দুর্নীতি নির্মূল এবং নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা অন্তর্ভুক্ত।
দুর্নীতি মোকাবেলায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক পদ্ধতি গ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নারীর অধিকার সংরক্ষণে ইসলামিক নীতির ভিত্তিতে কর্মসংস্থান, মর্যাদা এবং স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে।
মুফতি রেজাউল করিম উল্লেখ করেন, ইসলাম নারীর কর্মসংস্থান ও অধিকার রক্ষার জন্য সবচেয়ে কার্যকর কাঠামো প্রদান করে, যা দেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই দৃষ্টিকোণ থেকে সকল নীতি প্রণয়ন করা হবে।
রাষ্ট্র সংস্কার সংক্রান্ত অংশে মুক্তিযুদ্ধের আত্মা রক্ষা এবং দেশের মৌলিক স্বাধীনতা নীতি বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জনসেবা উন্নয়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বৈদেশিক নীতি ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশসহ সকল দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে, যা আঞ্চলিক শান্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে পার্টি দাবি করে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ম্যানিফেস্টোর প্রকাশ ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের নির্বাচনী কৌশলে নতুন দিক যোগ করেছে এবং ধর্মীয় ভিত্তিক নীতি সমর্থকদের আকৃষ্ট করতে পারে। তবে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে সমালোচনা প্রত্যাশিত, বিশেষত ধর্মনিরপেক্ষ নীতি ও মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রশ্নে।
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের এই ম্যানিফেস্টো দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করবে, এবং আসন্ন নির্বাচনে পার্টির অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



