বেলস পার্ক, বরিশাল‑এ আজ অনুষ্ঠিত একটি বৃহৎ সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান জনগণের ক্ষমতা ও রাজনৈতিক দায়িত্বের ওপর জোর দিয়ে বললেন, দেশের অগ্রগতি কেবল তখনই সম্ভব যখন নাগরিকের জীবনমান উন্নত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, “জনগণই আমাদের লক্ষ্য, জনগণই আমাদের উদ্দেশ্য; যদি আমরা মানুষের ভাগ্য বদলাতে পারি, তবে দেশকে এগিয়ে নিতে পারব।”
সমাবেশে উপস্থিত ভক্ত ও কর্মীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জাতীয় গঠন কাজের জন্য সকল স্তরের মানুষকে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেন, “১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর পর্যন্ত আপনাদের কাজ হবে জনগণের পা তলে হাঁটা; যখন কোনো রাজনৈতিক শক্তি জনগণের সমর্থন হারায়, তখন তার পতন স্বাভাবিক।”
তারেক রহমানের বক্তব্যে উল্লেখযোগ্য যে, আগস্ট ৫, ২০২৪‑এর পরের রাজনৈতিক পরিবেশে স্বৈরাচারী নীতি শেষের প্রত্যাশা ছিল, তবে তা পূরণ হয়নি। তিনি দাবি করেন, ঐ সময়ের পর থেকে একটি “গুপ্ত রাজনৈতিক শক্তি” উদয় হয়েছে, যা নতুন দমনকারী হিসেবে দেশের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করছে। এই গোষ্ঠীর কার্যকলাপের প্রতি সতর্কতা বজায় রাখতে তিনি জনগণকে আহ্বান জানান।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি নারী শ্রমিকের অবদানকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, কৃষি ও গার্মেন্টস খাতে পুরুষ ও নারীর সমান অংশগ্রহণ রয়েছে। বিশেষ করে গার্মেন্টস শিল্পে দেশের মায়ের ও বোনের শ্রমই উৎপাদনের ভিত্তি। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি কোনো দল নারীর প্রতি অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করে, তবে সে দেশকে গর্বিত করতে পারে না।”
একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নেতার সাম্প্রতিক মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দিন আগে ওই নেতা পাবলিকভাবে বাংলাদেশি নারীর প্রতি অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করেছেন। তিনি এ ধরনের আচরণকে নারী মর্যাদা ও জাতীয় গৌরবের প্রতি অবহেলা হিসেবে চিহ্নিত করে, সংশ্লিষ্ট দলকে দেশের সম্মান রক্ষা করতে অক্ষম বলে সমালোচনা করেন।
উন্নয়নমূলক কাজের দিক থেকে তারেক রহমান দেশের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নত করার জন্য হাজার হাজার নালা ও জলাশয় খনন করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “বন্যা প্রতিরোধ ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই প্রকল্পগুলো অপরিহার্য।”
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, যদিও নির্দিষ্ট কোনো দল বা নেতার নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পূর্বে জানিয়েছেন যে, গোপনীয় গোষ্ঠীর উত্থান ও স্বৈরাচারী নীতির অব্যাহত থাকা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। এই বিশ্লেষণগুলো তারেক রহমানের সতর্কবার্তাকে সমর্থন করে, যে সময়ের সাথে সাথে জনগণের সমর্থন ছাড়া কোনো রাজনৈতিক শক্তি টিকে থাকতে পারে না।
তারেক রহমানের সমাবেশে উপস্থিত ভক্তদের প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক ছিল; তারা তারেকের কথা শোনার পর উচ্ছ্বাসে চিৎকার করে এবং দেশের উন্নয়নের জন্য একত্রে কাজ করার প্রতিশ্রুতি জানায়। সমাবেশের শেষে তিনি আবারও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, “আপনাদের সমর্থনই আমাদের শক্তি; একসাথে আমরা দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব” বলে সমাপ্তি টানেন।
এই বক্তব্যের পরবর্তী রাজনৈতিক ধাপ হিসেবে, তারেক রহমানের দল আগামী সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন জেলায় সমাবেশের পরিকল্পনা করেছে, যেখানে তিনি উল্লেখিত “গুপ্ত রাজনৈতিক শক্তি”র কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়াতে এবং জনমত গঠন করতে চায়। একই সঙ্গে, সরকারী ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে জলসম্পদ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের জন্য সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বানও প্রত্যাশিত।



