গৃহ পরামর্শদাতা লে. জেনারেল (অবসর) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ৪ ফেব্রুয়ারি খালেদা বিভাগের কমিশনার অফিসে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা বৈঠকে কর্মকর্তাবৃন্দ ও নিরাপত্তা কর্মীদেরকে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের সময় সততা বজায় রাখতে এবং জনসাধারণের আস্থা রক্ষা করতে আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে, নইলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার বৈধতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বৈঠকটি বিভাগীয় প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ১৩তম সংসদীয় নির্বাচন ও গণভোটের মসৃণ পরিচালনা নিশ্চিত করা। উপস্থিত কর্মকর্তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।
চৌধুরী উল্লেখ করেন, গত ষোলো বছরে নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার অভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং জাতীয় ও স্থানীয় স্তরে নির্বাচনের কাঠামো ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এই অস্বচ্ছতা ভোটারদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে এবং স্বৈরশাসনমূলক পরিবেশকে উত্সাহিত করেছে।
২০২৪ সালে শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণের বৃহৎ প্রতিবাদকে তিনি ‘ফ্যাসিজম থেকে মুক্তির’ প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ঐ আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এ ধরনের প্রক্রিয়াকে সমর্থনকারী বা পূর্বের অস্বচ্ছ নির্বাচনী ব্যবস্থার সুবিধা নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপের ইঙ্গিত দেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদত্যাগ, কারাদণ্ড এবং আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
জনসাধারণের উচ্চ প্রত্যাশা বিবেচনা করে, তিনি জোর দিয়ে বলেন যে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব এখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের উপর। তাদের ন্যায়সঙ্গত ও নিরপেক্ষ কাজই ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি।
যেকোনো ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম, ভোটপত্রের চুরি বা গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও প্রেসিডিং অফিসারসহ দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন।
গৃহ মন্ত্রণালয় একটি কেন্দ্রীয় আইন ও শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করেছে, যা নির্বাচনের পুরো সময়কালে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং অভিযোগ সংগ্রহের দায়িত্বে থাকবে। এই সেলে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত, যাতে রিয়েল-টাইম তথ্য ভাগাভাগি সম্ভব হয়।
এছাড়া, জাতীয় টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার ‘ইলেকশন প্রোটেকশন অ্যাপ-২০২৬’ চালু করেছে, যা সরাসরি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, নির্বাচনী কর্মকর্তাবৃন্দ এবং মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এই অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ তৎক্ষণাৎ গ্রহণ ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
চৌধুরী কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও আদেশ জারি করার জন্য ত্বরান্বিত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে পর্যাপ্ত তদারকি নিশ্চিত হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সময়মত পদক্ষেপ না নিলে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নের মুখে আনা যাবে।
বিশ্লেষকরা আশা করছেন, এই কঠোর সতর্কতা ও সমন্বিত ব্যবস্থা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বাড়াবে, ফলে ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মজবুত হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রোঅ্যাকটিভ পদক্ষেপ নির্বাচনী সংস্কারকে ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



