কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায়, শবে বরাতের পবিত্র দিনে, নামাপাড়া গ্রাম অবস্থিত কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দুই হালি ডিমের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। নিলামটি এশার নামাজের আগে, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে শুরু হয়। মসজিদে দুইজন মুসল্লি দানকৃত ডিমের জন্য স্থানীয় জনগণকে একত্রিত করে, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও দাতব্য কাজের সমন্বয় ঘটাতে চেয়েছিলেন।
দানকৃত ডিমগুলো দুইটি আলাদা হালিতে ছিল; একটি হালি দেশি মুরগির ডিম এবং অন্যটি হাঁসের ডিম। উভয় হালি শবে বরাতের শুভেচ্ছা জানাতে, দুজন মুসল্লি মসজিদে উপহার হিসেবে উপস্থাপন করেন। ডিমগুলোকে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে, সংগৃহীত অর্থ মসজিদের উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হয়।
নিলামের প্রথম রাউন্ডে, মানিক নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি এক হালি ডিমের জন্য ৩০০ টাকা প্রদান করেন। তিনি ডিমটি হাতে নেয়ার পর, উপস্থিত অন্যান্য অংশগ্রহণকারীরা তার প্রস্তাব গ্রহণ করে। এই প্রাথমিক দরদারির মাধ্যমে নিলামের গতি বাড়ে এবং আরও উচ্চ মূল্যের প্রত্যাশা তৈরি হয়।
পরবর্তী রাউন্ডে, বাদল নামের আরেক মুসল্লি দুই হালি ডিমের জন্য এক হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করেন। তিনি একবারে দুটো হালি ডিমের মালিকানা অর্জন করে, নিলামের সর্বোচ্চ দরদারির সূচক স্থাপন করেন। এই উচ্চ মূল্য মসজিদে উপস্থিতদের মধ্যে দানের গুরুত্ব ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান বৃদ্ধি করে।
নিলামে মোট দুই হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়, যা মসজিদের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কাজের জন্য ব্যয় করা হবে। মসজিদ কর্তৃপক্ষ এই তহবিলকে মসজিদের কাঠামোগত মেরামত, আলোকসজ্জা ও সম্প্রদায়িক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তহবিলের ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্ট পরিকল্পনা থাকায়, স্থানীয় মানুষদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে।
মসজিদের খতিব রবিউল ইসলাম নিলামের উদ্দেশ্য ও তহবিলের ব্যবহার সম্পর্কে বলেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও দাতব্য কাজের মধ্যে প্রতিযোগিতা না করে, সকলকে সহযোগিতার মাধ্যমে মসজিদকে উন্নত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের নিলাম ধর্মীয় ঐতিহ্যকে সমর্থন করে এবং সম্প্রদায়ের সংহতি বাড়ায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা নিলামকে একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেন, শবে বরাতের মতো পবিত্র দিনে এমন উদ্যোগগুলো ধর্মীয় অনুভূতি জোরদার করে এবং সমাজে দানের সংস্কৃতি প্রচার করে। এছাড়া, ডিমের নিলামকে কিছুটা অপ্রচলিত হলেও, তা সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন দানের পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
শবে বরাতের ঐতিহ্যিক রীতি অনুযায়ী, মসজিদে দান ও নিলামের মাধ্যমে ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব পালন করা হয়। এই নিলাম কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে আধুনিক দাতব্য পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত করার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে মসজিদ ও স্থানীয় সমাজের উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা যায়।



