বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অনুষ্ঠিত জেলা জামায়াত-এ-ইসলামি নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি দলের বর্তমান অবস্থাকে “সব দিক থেকে ব্যর্থ” বলে উল্লেখ করে, এখন জামায়াত-এ-ইসলামির ওপর সাইবার আক্রমণ চালু করার ইঙ্গিত দেন।
সমাবেশটি জামায়াত-এ-ইসলামি স্থানীয় শাখা কর্তৃক সংগঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকরা দলীয় নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শোনার জন্য একত্রিত হয়। মিয়া গোলাম পরওয়ার সমাবেশের মূল বক্তা হিসেবে মঞ্চে উঠে, তার মন্তব্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন মাত্রা প্রকাশ করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “একবার জামায়াত-এ-ইসলামিকে পরীক্ষা করুন। যদি তারা শাসন করে, তবে দেশের মানুষ দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ ও চাঁদাবাজি থেকে মুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ পাবে।” তিনি এই মন্তব্যে জামায়াত-এ-ইসলামির শাসনকালে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।
সরকারের সেবা ক্ষেত্রকে দুর্নীতিমুক্ত করার কথা তিনি জোর দিয়ে বলেন। “ভূমি অফিস, থানা বা অন্য কোনো সরকারি দফতরে সেবা পেতে আর ঘুষ দিতে হবে না,” তিনি উল্লেখ করেন, যা নাগরিকদের সরাসরি উপকারে আসবে বলে তিনি দাবি করেন। এই প্রতিশ্রুতি জামায়াত-এ-ইসলামির শাসনকালে সরকারি সেবার স্বচ্ছতা বাড়াবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারেও তিনি দৃষ্টিপাত করেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “নৈতিকতা ও নীতির সমন্বয়ে আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তি ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে,” যা দেশের মানবসম্পদকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলবে। তিনি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের জন্য নতুন নীতি প্রণয়নের ইঙ্গিত দেন।
দলীয় সদস্যদের ব্যক্তিগত স্বার্থের ওপরও তিনি কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। “যদি জামায়াত-এ-ইসলামি ক্ষমতায় আসে, তবে কোনো সংসদ সদস্য স্বল্পমূল্যে প্লট বা বাড়ি কিনবেন না, ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি বা অন্য কোনো বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করবেন না,” তিনি জোর দিয়ে বলেন। এই প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের এই মন্তব্যগুলো বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে বিএনপি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থতা দেখাচ্ছে, ফলে দলটি নতুন কৌশল গ্রহণের পথে অগ্রসর হচ্ছে। সাইবার আক্রমণের ইঙ্গিতকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি নতুন মাত্রা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি জামায়াত-এ-ইসলামি শাসন পায়, তবে মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখিত নীতি ও প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হতে পারে। তবে রাজনৈতিক পরিবেশের অস্থিরতা ও প্রতিদ্বন্দ্বী দলের কৌশলগত পদক্ষেপগুলোও ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই সমাবেশের পরবর্তী পর্যায়ে উভয় দলের কার্যক্রম ও জনমত গঠন কীভাবে হবে, তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের জন্য মূল বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।



