বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতায়, বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত একটি নতুন তথ্যসেবা ৩৩৩‑৯ নম্বরে চালু করেছে। এই সেবা টোল‑ফ্রি ৩৩৩ নম্বরে কল করে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৯ চাপলে, নাগরিকরা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন। সেবাটি দেশের সব মোবাইল নেটওয়ার্কে সমানভাবে উপলব্ধ, ফলে গ্রামীণ ও শহুরে ভোটার উভয়ই সহজে ব্যবহার করতে পারবেন।
মাধ্যমিক ঘোষণাটি বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, পোস্ট ও টেলিকমিউনিকেশন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ভোটারদের সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ করা, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে, তথ্যের দ্রুত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে ভোটারদের মধ্যে ভুল ধারণা ও গুজবের বিস্তার রোধ করা লক্ষ্য।
৩৩৩‑৯ নম্বরে কল করলে স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম ভোটারকে বিভিন্ন ক্যাটেগরির তথ্য সরবরাহ করে। ভোটের পদ্ধতি, ভোটদান প্রক্রিয়া, ভোটকেন্দ্রের ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত নির্দেশনা ইত্যাদি মৌলিক বিষয়গুলো একক কলেই পাওয়া যায়। সিস্টেমটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় উত্তরদাতা (IVR) ব্যবহার করে, ফলে দীর্ঘ অপেক্ষা সময় ছাড়াই তথ্য প্রদান করা সম্ভব হয়।
এছাড়াও, নির্বাচনকালীন আচরণবিধি, প্রবাসী ভোটারদের জন্য ভোটদান প্রক্রিয়া, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ ও নারী ভোটারদের জন্য বিশেষ সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। জরুরি নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় হটলাইন নম্বরের তথ্যও একই মাধ্যমে প্রদান করা হয়, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা নেওয়া যায়। এই তথ্যগুলো বাংলা ভাষায় সরাসরি শোনা যায়, ফলে ভাষাগত বাধা দূর হয়।
সেবার অংশ হিসেবে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত “Smart Election Management BD” এবং “Postal Vote BD” অ্যাপের ব্যবহার পদ্ধতি সম্পর্কেও তথ্য সরবরাহ করে। এই অ্যাপগুলো ভোটারকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভোট সংক্রান্ত সেবা ব্যবহার করতে সক্ষম করে এবং নির্বাচনের সময় প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে। অ্যাপের ব্যবহার নির্দেশনা ৩৩৩‑৯ নম্বরে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে, ফলে ভোটার একাধিক চ্যানেল থেকে সমন্বিত সেবা পেতে পারেন।
প্রাথমিকভাবে ১৬ জানুয়ারি পাইলট রূপে চালু হওয়ার পর, এখন পর্যন্ত ১,৬৪৩ জন নাগরিক এই সেবা ব্যবহার করে নির্বাচনী তথ্য ও সহায়তা গ্রহণ করেছেন। ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সিস্টেমের কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। পাইলট পর্যায়ে সংগ্রহিত ডেটা ভবিষ্যতে সেবার পরিসর ও বিষয়বস্তু সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
৩৩৩‑৯ নম্বরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ। সম্ভাব্য অস্থিরতা বা জরুরি ঘটনাগুলি দ্রুত সনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো সম্ভব হয়, যা সময়মতো প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করে। এই তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্লেষণ করে, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ৯৯৯ বা সংশ্লিষ্ট সংস্থায় পাঠানো হয়।
তবে, এই নম্বরটি সরাসরি পুলিশ কন্ট্রোল রুমের কাজ করবে না। এটি “Information Intake, Early Warning & Forwarding System” হিসেবে কাজ করে, প্রাপ্ত তথ্য প্রয়োজন অনুসারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়। সুতরাং, ভোটারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য গোপনীয়তা বজায় রেখে যথাযথ সংস্থায় পৌঁছায়, যা তথ্যের অপব্যবহার রোধ করে।
সামগ্রিকভাবে, টোল‑ফ্রি ৩৩৩‑৯ সেবা ভোটারদের তথ্যের প্রবেশাধিকার সহজ করে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়ায় এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করে। সরকার ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এই সেবাকে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার শক্তিশালী সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করছে এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত ডিজিটাল সেবা যোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে, ভুল তথ্যের প্রভাব কমবে এবং নির্বাচনী অংশগ্রহণের হার বাড়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।



