শানায়া কাপুর “টু ইয়্যা মেইন” ছবিতে অভিনয় করার জন্য যে প্রস্তুতি নিয়েছেন, তা চলচ্চিত্রের মূল চরিত্রের গভীর বিশ্লেষণকে প্রকাশ করে। এই রোম্যান্টিক থ্রিলারটি বেজয় নিম্বারির পরিচালনায় তৈরি, যেখানে শানায়ার পাশাপাশি আদর্শ গৌরবও প্রধান ভূমিকায় উপস্থিত। ছবিটি ভ্যালেন্টাইন ডে-তে থিয়েটারে মুক্তি পাবে, যা প্রেমিক-প্রেমিকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করবে।
“টু ইয়্যা মেইন” একটি আধুনিক প্রেমের গল্প বলে, যেখানে সামাজিক মিডিয়ার প্রভাব এবং ব্যক্তিগত স্বপ্নের টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে প্লট গড়ে তোলা হয়েছে। বেজয় নিম্বারির স্বাক্ষরধারী ভিজ্যুয়াল স্টাইল এবং তীক্ষ্ণ বর্ণনা এই ছবিতে প্রত্যাশিত, যা বলিউডের নতুন ধারার সূচক হতে পারে। শানায়া কাপুরের চরিত্রটি মূলত একটি কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, যার কাজের প্রকৃতি এবং ব্যক্তিত্বের জটিলতা গল্পের মূল চালিকাশক্তি।
শানায়া প্রথমে জানেন যে তার চরিত্রের পেশা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, যা তাকে বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে চরিত্রটি গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই পেশার সত্যিকারের দিকগুলোকে স্ক্রিনে তুলে ধরতে তিনি গভীর গবেষণা করেছেন। কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের দৈনন্দিন রুটিন, সৃজনশীল প্রক্রিয়া এবং সামাজিক মিডিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ককে বাস্তবিকভাবে উপস্থাপন করা তার প্রধান লক্ষ্য।
অনেক সময় সামাজিক মিডিয়ার ইনফ্লুয়েন্সারদের চিত্রায়ণ একধরনের স্টেরিওটাইপে সীমাবদ্ধ থাকে, যা শানায়া এড়িয়ে চলতে চান। তিনি বলেন, তিনি চরিত্রটিকে সাধারণ গার্লি বা রিল তৈরির প্যাটার্নে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। বরং তিনি চান চরিত্রটি শক্তিশালী, আত্মবিশ্বাসী এবং স্বতন্ত্র স্বরূপে প্রকাশ পায়, যা দর্শকদের নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করবে।
শানায়া কাপুরের মতে, তার চরিত্রটি কোনো রকমের গার্লি জোনে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তিনি তাকে একটি সম্পূর্ণ ‘ব্যাডাস’ হিসেবে উপস্থাপন করতে চান। এই দৃষ্টিভঙ্গি তাকে চরিত্রের শারীরিক ভাষা, কথাবার্তা এবং অভিব্যক্তিতে বিশেষ মনোযোগ দিতে বাধ্য করে। তিনি চরিত্রের আত্মবিশ্বাস এবং শক্তি প্রকাশের জন্য বিভিন্ন শারীরিক ব্যায়াম এবং মাইন্ডফুলনেস অনুশীলন করেছেন।
অভিনয় প্রক্রিয়ায় শানায়া একটি বিশেষ কর্মশালায় অংশ নেন, যেখানে আদর্শ গৌরব এবং আতুল মঙ্গিয়ার নেতৃত্বে ‘অ্যানিমাল স্টাডি’ নামে একটি পদ্ধতি পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এই পদ্ধতি অভিনেতাদের প্রাণীর আচরণ ও বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করে চরিত্রের অভ্যন্তরীণ গুণাবলীকে সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করে। শানায়া প্রথমবারের মতো এই পদ্ধতি ব্যবহার করে তার চরিত্রের সাথে গভীর সংযোগ স্থাপন করেন।
কর্মশালার অংশ হিসেবে শানায়া তার চরিত্রের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সবচেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রাণী হিসেবে ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ নির্বাচন করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ব্ল্যাক প্যান্থারের তীক্ষ্ণ দৃষ্টিভঙ্গি, অদম্য শক্তি এবং মসৃণ গতি তার চরিত্রের গোপনীয়তা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মিলে যায়। এছাড়া, প্যান্থারের সেক্সি ও আকর্ষণীয় স্বভাব তাকে চরিত্রের সুলভতা ও মোহের সঙ্গে যুক্ত করে।
ব্ল্যাক প্যান্থারের বৈশিষ্ট্যগুলোকে নিজের মধ্যে সংহত করতে শানায়া বিভিন্ন ডকুমেন্টারি এবং প্রাণী পর্যবেক্ষণ ভিডিও বিশ্লেষণ করেন। তিনি প্যান্থারের চলাচল, শিকারের পদ্ধতি এবং গোপনীয় আচরণকে নোট করে নিজের শারীরিক ভঙ্গিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। এই অনুশীলন তাকে চরিত্রের আত্মবিশ্বাসপূর্ণ চলাফেরা এবং দৃঢ় দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশে সহায়তা করে।
শানায়া কাপুরের মতে, এই পদ্ধতি তাকে শুধুমাত্র শারীরিক নয়, মানসিকভাবে ও চরিত্রের সঙ্গে একাত্মতা অর্জনে সাহায্য করেছে। তিনি বলেন, ব্ল্যাক প্যান্থারের গোপনীয়তা এবং শক্তি তাকে নিজের মধ্যে নতুন দিক উন্মোচন করতে সহায়তা করেছে, যা স্ক্রিনে স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ পাবে। এই অভিজ্ঞতা তার ভবিষ্যৎ অভিনয় প্রকল্পের জন্যও মূল্যবান রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।
চলচ্চিত্রের মুক্তির তারিখ ভ্যালেন্টাইন ডে, যা প্রেমের থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করবে। শানায়া আশা প্রকাশ করেন, তার চরিত্রের স্বতন্ত্রতা এবং আধুনিক কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের বাস্তবিক চিত্রায়ন দর্শকদের নতুন দৃষ্টিকোণ দেবে। তিনি বলেন, এই ছবিতে তিনি নিজের সৃজনশীলতা এবং শারীরিক প্রস্তুতির সর্বোচ্চ সীমা ছুঁড়ে দিয়েছেন।
বেজয় নিম্বারির নির্দেশনায় তৈরি এই রোম্যান্টিক থ্রিলারটি বলিউডের নতুন ধারার সূচক হতে পারে, যেখানে আধুনিক সামাজিক মিডিয়া এবং ব্যক্তিগত স্বপ্নের সংঘাতকে সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। শানায়া কাপুরের প্রস্তুতি এবং ব্ল্যাক প্যান্থার অনুপ্রেরণা ছবির গুণগত মানকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, “টু ইয়্যা মেইন” শীঘ্রই থিয়েটারে আসবে এবং শানায়া কাপুরের অভিনয়কে নিয়ে দর্শক ও সমালোচকদের প্রত্যাশা বাড়ছে। এই চলচ্চিত্রটি আধুনিক প্রেমের গল্প এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের বাস্তবিক চিত্রায়নের মিশ্রণে নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করবে।



