ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রাক্তন সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসর, ৬৫ বছর বয়সে পূর্ব ইংল্যান্ডের একটি রাজকীয় এস্টেটে চলে গেছেন। তিনি মঙ্গলবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের জানানো অনুযায়ী, উইন্ডসর প্রাসাদের বিলাসবহুল বাসভবন ত্যাগ করে নতুন ঠিকানায় বসতি স্থাপন করেছেন। এই পদক্ষেপটি জেফ্রি এপস্টাইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বাড়তে থাকা তদন্ত ও জনসাধারণের চাপের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে।
অ্যান্ড্রু উইন্ডসর, যাকে মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসর নামেও পরিচিত, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) প্রকাশিত নথিতে এপস্টাইনের সঙ্গে তার সংযোগের নতুন তথ্যের মুখোমুখি হন। ডিওজে নথি অনুযায়ী, এপস্টাইনের অপরাধমূলক কার্যক্রমে অ্যান্ড্রুর উপস্থিতি ও ভূমিকা সম্পর্কে অতিরিক্ত প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, যা তাকে অতিরিক্ত আইনি ও নৈতিক দায়ের মুখে ফেলেছে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্ড্রু সোমবারই রয়্যাল লজ থেকে বেরিয়ে গিয়ে পূর্ব ইংল্যান্ডের নির্দিষ্ট একটি রাজকীয় এস্টেটে স্থানান্তরিত হয়েছেন। রয়্যাল লজ, যা পূর্বে তার প্রধান বাসস্থান ছিল, থেকে এই পদক্ষেপটি তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
ডিওজে প্রকাশিত নথিতে অ্যান্ড্রুর নামের পুনরাবৃত্তি, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে তার সাক্ষ্য দেওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে ব্রিটিশ সরকার ও রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে, কারণ এপস্টাইনের অপরাধ সম্পর্কে অ্যান্ড্রুর জ্ঞান ও জড়িত থাকার সম্ভাবনা এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার বিষয়।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছেন, অ্যান্ড্রু যদি এপস্টাইনের অপরাধ সম্পর্কে কিছু জানেন, তবে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিতে হবে। স্টারমার এই বক্তব্যের মাধ্যমে সরকার এপস্টাইন স্ক্যান্ডালের সঙ্গে যুক্ত সকল ব্যক্তির প্রতি শূন্য সহনশীলতা প্রকাশ করেছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসর বহুবার এপস্টাইনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন যে তিনি কোনো অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন না এবং তার সঙ্গে এপস্টাইনের কোনো অপরাধমূলক সম্পর্ক নেই। তবে ডিওজে নথি ও আন্তর্জাতিক তদন্তের তীব্রতা তাকে পুনরায় ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য করছে।
এই ঘটনার ফলে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সুনাম ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিচ্ছে। রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই হিসেবে অ্যান্ড্রুর অবস্থান, পরিবারিক সম্পর্কের জটিলতা ও জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে, রাজপরিবারের সদস্যদের আইনি দায়িত্ব ও নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় কীভাবে হবে, তা এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, অ্যান্ড্রুর এই স্থানান্তর ও ডিওজে নথির প্রকাশের পরবর্তী ধাপগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে সাক্ষ্যদান, ব্রিটিশ সরকারী তদন্তের বিস্তার এবং সম্ভবত আদালতে মামলা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এ ধরনের আইনি প্রক্রিয়া রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও জনসাধারণের বিশ্বাস পুনর্গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
অধিকন্তু, এই বিষয়টি ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। পার্লামেন্টের কিছু সদস্য অ্যান্ড্রুর অবস্থানকে রাজনৈতিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত করে প্রশ্ন তুলেছেন, আর অন্যরা পরিবারিক গোপনীয়তা রক্ষার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এই বিতর্কের ফলাফল রাজপরিবারের ভূমিকা ও দায়িত্বের পুনঃসংজ্ঞায়ন করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন‑উইন্ডসর উইন্ডসর প্রাসাদ ত্যাগ করে পূর্ব ইংল্যান্ডের একটি রাজকীয় এস্টেটে বসতি স্থাপন করেছেন, যা এপস্টাইন স্ক্যান্ডালের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বাড়তে থাকা আন্তর্জাতিক ও দেশীয় চাপের প্রতিক্রিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের ডিওজে নথি, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের মন্তব্য এবং অ্যান্ড্রুর ধারাবাহিক অস্বীকারের পরিপ্রেক্ষিতে, এই ঘটনা রাজপরিবারের সুনাম, আইনি প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক আলোচনার নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।



