গ্রিসের পূর্ব এজিয়ান সাগরে মঙ্গলবার গভীর রাতে একটি টহল নৌকা ও অভিবাসী বহনকারী ছোট নৌকার মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে। এই ঘটনার ফলে অন্তত চৌদ্দজন অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন, আর চব্বিশজনকে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় অভিবাসী নৌকাটি অত্যন্ত ছোট এবং অতিরিক্ত যাত্রীবহুল ছিল। কোস্টগার্ডের দ্রুতগামী টহল নৌকা যখন নৌকাটির দিকে এগিয়ে যায়, তখন দু’টি জাহাজের মধ্যে ধাক্কা লাগে এবং অভিবাসী নৌকাটি তৎক্ষণাৎ ডুবে যায়।
দু’দিনের মধ্যে গ্রিক উদ্ধার দল সমুদ্রের তল থেকে বেঁচে থাকা চব্বিশজনকে তাড়া করে তোলার কাজ সম্পন্ন করে। একই সঙ্গে মৃতদেহের সংখ্যা চৌদ্দে পৌঁছেছে, যা স্থানীয় সময়ে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বেঁচে থাকাদের মধ্যে সাতজন শিশু, একজন গর্ভবতী নারী এবং কোস্টগার্ডের দুজন কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত। বেশিরভাগই গুরুতর আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর বাকি কয়েকজনের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
অভিবাসী নৌকায় কতজন মানুষ ছিল এবং কতজন এখনও নিখোঁজ, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কর্তৃপক্ষের মতে, নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রীবহন করা হয়েছিল, ফলে সঠিক গননা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই গ্রিক কোস্টগার্ড বৃহৎ তল্লাশি অভিযান চালু করে। এতে চারটি কোস্টগার্ড জাহাজ, একটি বেসামরিক ডুবুরি বহনকারী নৌকা এবং একটি হেলিকপ্টার যুক্ত হয়েছে। অনুসন্ধান কাজ এখনও চলমান, এবং সন্ধানকৃত মৃতদেহের সংখ্যা বাড়তে পারে।
গ্রিক সরকার ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে এবং উল্লেখ করে যে, অভিবাসী নৌকাটি নিরাপত্তা মানদণ্ডের চেয়ে অনেক কম ছিল। অতিরিক্ত যাত্রীবহন এবং নৌকার অবস্থা দুর্বল হওয়ায় এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি বাড়ে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতি সমন্বয়কারী সংস্থা ঘটনাটিকে মানবিক সংকটের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং গ্রিসকে সমর্থন জানিয়ে জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (UNHCR)ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাঠানোর কথা জানিয়েছে।
গ্রিসের ভূমিকা ভূমধ্যসাগরের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে দীর্ঘদিন থেকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসে টুর্কি-গ্রিসের মধ্যে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা চলছিল, এবং এই ঘটনা উভয় দেশের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
এ ধরনের নৌকা ডুবে যাওয়া ঘটনা পূর্বে বহুবার ঘটেছে; ২০২২ সালে একই অঞ্চলে একটি অনুরূপ দুর্ঘটনায় ত্রিশের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত যাত্রীবহন এবং নিরাপত্তাহীন নৌকা ব্যবহারই প্রধান কারণ।
একজন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, এই ধরনের ট্র্যাজেডি গ্রিক সরকারের অভিবাসন নীতি ও ইউরোপীয় সমন্বিত সমাধানের চাপ বাড়িয়ে দেবে। তিনি আরও বলেন, সমুদ্রপথে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নৌকা নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
অধিক তদন্তের জন্য গ্রিক কর্তৃপক্ষ নৌকা মালিক ও পরিচালনাকারীদের উপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই ঘটনার পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে সমুদ্র নিরাপত্তা ও শরণার্থী রক্ষার জন্য নতুন নীতি প্রণয়ন করতে পারে।



