22 C
Dhaka
Wednesday, February 4, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপি অভিযোগে তাহিরপুরে অনিবন্ধিত স্কুলের ১৪ শিক্ষককে ভোট কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ

বিএনপি অভিযোগে তাহিরপুরে অনিবন্ধিত স্কুলের ১৪ শিক্ষককে ভোট কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন বিএনপি দাবি করেছে যে, জামায়াত-এ-ইসলামি সমর্থিত একটি অনিবন্ধিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে চৌদ্দজন শিক্ষককে ভোট কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগটি উল্লিখিত এলাকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিকের দৃষ্টিগোচরে এসেছে।

তাহিরপুর উপজেলা প্রধান এজেন্ট ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলীর কাছ থেকে এই অভিযোগ পাওয়া যায় এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তিনি বলেন, ধানের শীষ প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট হিসেবে তিনি এই নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সুনামগঞ্জ-১ আসনে জামালগঞ্জ, মধ্যনগর, ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলা অন্তর্ভুক্ত, যেখানে বিএনপি থেকে কামরুজ্জামান কামরুল এবং জামায়াত-এ-ইসলামি থেকে তোফায়েল আহমেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি স্কুলের অভিজ্ঞ শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও একটি কিন্ডারগার্টেন থেকে চৌদ্দজন শিক্ষককে বিশেষভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। “আইডিয়াল ভিশন একাডেমি” নামের এই প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয়ভাবে একটি রাজনৈতিক দলের মতাদর্শিক সংগঠন হিসেবে বিবেচিত।

স্থানীয় মিডিয়ায় জানানো মতে, ঐ কিন্ডারগার্টেনটি জামায়াত-এ-ইসলামির এক স্থানীয় নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত। জুনাব আলী বলেন, “একটি অনিবন্ধিত ও বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ায় বিষয়টি সন্দেহজনক। প্রতিষ্ঠানটি জামায়াতের লোকের, এটা সবাই জানে।” তিনি আরও যোগ করেন, “শত শত সরকারি স্কুলের শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও ওই প্রতিষ্ঠান থেকে লোক নিয়োগ আমাদেরকে ভাবাচ্ছে।”

বাদাঘাট ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিন হুদা উল্লেখ করেন, “এলাকার মানুষ ও প্রশাসন সবাই জানে, এটা জামায়াতের প্রতিষ্ঠান। এমন একটি অখ্যাত ও নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠান থেকে নির্বাচনের জন্য লোক নিয়োগ কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এটি একটি ষড়যন্ত্র। আমরা তাদের বাদ দিয়ে নিরপেক্ষ লোক নিয়োগের দাবি জানাই।”

তাহিরপুর উপজেলার জামায়াত-এ-ইসলামির আমির রুকন উদ্দিন বিষয়টি সম্পর্কে বলেন, “প্রশাসন নির্বাচন পরিচালনার জন্য লোক নিয়োগ করেছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। আমরা চাই নির্বাচন সুষ্ঠু হোক।” তিনি কোনো হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত না দিয়ে কেবল প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা দাবি করেন।

একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জানান, “ওই কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষকরা সরকারি বিধি অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত নয় এবং অনেকেই স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেননি। এমন একটি অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান থেকে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া রহস্যজনক।” তিনি নিয়োগের বৈধতা ও যোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক উল্লেখ করেন, “সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের তালিকা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে সংরক্ষিত আছে এবং তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।” তিনি বলেন, তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই নিয়োগের বিষয়টি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তা ভোটদানের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে, যা উভয় দলই এড়াতে চায়।

বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলমান, এবং এই ধরনের নিয়োগের অভিযোগ নির্বাচনী পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। উভয় পক্ষই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে ভোটারদের আস্থা বজায় থাকে।

অধিক তদন্তের পর ফলাফল প্রকাশিত হলে, নির্বাচনী কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সংশোধনী ব্যবস্থা নিতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই সকল সংশ্লিষ্টকে আইনসঙ্গত ও নৈতিক মানদণ্ড মেনে চলা জরুরি।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments