26 C
Dhaka
Wednesday, February 4, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইসরাইলি বোমা হামলায় গাজা শহরে ১৭ জনের মৃত্যু, শিশুরা সহ

ইসরাইলি বোমা হামলায় গাজা শহরে ১৭ জনের মৃত্যু, শিশুরা সহ

সাম্প্রতিক ইসরাইলি বোমা আক্রমণে গাজা অঞ্চলে অন্তত ১৭ জনের প্রাণ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে শিশুরাও অন্তর্ভুক্ত। ঘটনাটি ইসরাইলি সেনাবাহিনীর জানানো তথ্য অনুযায়ী উত্তর গাজা সীমান্তের নিকটে এক সামরিক অপারেশনের সময় ঘটেছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামাসের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠী “সন্ত্রাসী”রা হলুদ রেখা বরাবর গুলি চালায়, যার ফলে একটি ইসরাইলি সৈনিক গুরুতরভাবে আহত হয়। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বর্মবাহী ইউনিট এবং বিমানবাহিনীর মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু এলাকায় সুনির্দিষ্ট বোমা হামলা চালানো হয়, যা তারা চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করেছে।

গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতাল জানায়, পূর্ব জেইতুন ও তুফা পাড়ায় টেন্ট ও বাড়ি লক্ষ্যবস্তু হয়ে ১৩ জনের দেহ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে পাঁচজন শিশু। হাসপাতাল কর্মীরা উল্লেখ করেছে, আঘাতপ্রাপ্তদের মধ্যে বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক, এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত কাঠামোর ধ্বংসাবশেষে দেহগুলো পাওয়া গেছে।

খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালেও চারজনের মৃতদেহ পৌঁছেছে, যার মধ্যে এক শিশু। এই মৃতদেহগুলো দক্ষিণ কিজান রাশওয়ান অঞ্চলে টেন্টে আঘাতের পর সেখানে নিয়ে আসা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, আঘাতের তীব্রতা এবং ধ্বংসের পরিমাণ উভয়ই উচ্চমাত্রায় ছিল।

১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া তিন মাসের সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী এবং হামাস উভয়ই দাবি করে যে তারা ধারাবাহিকভাবে শত্রু পক্ষের আক্রমণকে প্রতিহত করছে, যদিও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বিরোধের তীব্রতা বাড়ার ইঙ্গিত দেখছেন।

হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলি আগ্নেয়াস্ত্রের ফলে অন্তত ৫২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে চারজন ইসরাইলি সৈনিক পালেস্টিনীয় আক্রমণে নিহত হয়েছে। এই পারস্পরিক ক্ষতির সংখ্যা সংঘাতের মানবিক দিককে আরও জটিল করে তুলেছে।

এই যুদ্ধের সূচনা হয় ৭ অক্টোবর ২০২৩-এ হামাসের নেতৃত্বে দক্ষিণ ইসরাইলের ওপর আক্রমণ থেকে, যেখানে প্রায় ১,২০০ জনের মৃত্যু এবং ২৫১ জনের অপহরণ ঘটেছিল। ইসরাইলি প্রতিক্রিয়ায় গাজা অঞ্চলে সামরিক অভিযান শুরু করে, এবং গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৭১,৮০০েরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া তীব্রভাবে প্রকাশিত হয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইসরাইলকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু আক্রমণ সীমিত করার পরামর্শ দিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা সংঘাতের তীব্রতা কমাতে ত্বরান্বিত কূটনৈতিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, বর্তমান আঘাতের পরিমাণ এবং পারস্পরিক অভিযোগের ধারাবাহিকতা সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। যদি উভয় পক্ষই অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে গাজা অঞ্চলের মানবিক সংকট আরও তীব্র হবে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। তাই, তাত্ক্ষণিক কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং মানবিক সাহায্যের দ্রুত প্রবাহই এই সংকটের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments