রাংপুর‑৩ নির্বাচনী এলাকার আলামনগর কলোনির সংকীর্ণ গলিতে বিকাল প্রায় ২টায় স্বাধীনপ্রার্থী রিতা রহমান ঘরোয়া দরজার ফাঁকে ফাঁকে পাতা বিতরণ করে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি আলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি নিজের নির্বাচনী প্রতীক “সানফ্লাওয়ার” তুলে ধরে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়ন, প্রান্তিক ও নারীর অধিকার সংরক্ষণ এবং স্বচ্ছ রাজনীতির লক্ষ্য ঘোষণা করেন।
রিতা রাস্তায় থেমে থাকা বাড়ি ও উঠোনে একত্রিত হওয়া নারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে চার প্রাচীরের বাইরে বেরিয়ে এসে নিজেদের অধিকার রক্ষা করতে এবং সমাজ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, “নারী সক্রিয় না হলে আমাদের সাফল্য অসম্ভব” এবং ভোটার সচেতনতা বাড়াতে এই বার্তাকে তার প্রচারের মূল অংশ হিসেবে ব্যবহার করছেন।
প্রায় ২:৩০ টায় ৩৪ বছর বয়সী ভোটার সুলতানা বেগম রিতার সঙ্গে কথা বলার সময় তার পরিবারের মুখোমুখি সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। রিতা সুলতানার সাহসের প্রশংসা করে বলেন, “নারীদের জাগরণ দরকার, আমাদের সচেতন হতে হবে এবং বাড়ির চার প্রাচীরের বাইরে গিয়ে নিজেদের অধিকার দাবি করতে হবে”। এই কথায় সুলতানা হাসি দিয়ে উত্তর দেন, “আপা, আপনার মতো কেউই আমাদের এতটা সাহস দেয় না”।
এরপর ৭০ বছর বয়সী ভোটার নজর আলি রিতার পিতার কথা স্মরণ করে বলেন, “আপনি আমাদের মন্ত্রী মশিউর রহমান জাদু মিয়ার কন্যা, আপনার বাবা রাংপুরের জন্য অনেক কিছু করেছেন”। রিতা তার প্রার্থনা গ্রহণ করে বলেন, “এই সংগ্রামটি আমার বাবার রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার রক্ষা করার জন্য” এবং তার দরজার-দরজায় ক্যাম্পেইন চালিয়ে যান।
প্রচারণার সময় রিতা বিশেষভাবে নারী ভোটারদের সঙ্গে সময় কাটান, তাদের উদ্বেগ শোনেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি বয়স্ক বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপ করে তাদের মতামত সংগ্রহ করেন, যা তার ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়ক হচ্ছে।
রিতা পূর্বে বিএনপি থেকে মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত সেই পদটি মোঃ শামসুজ্জামান সামুকে দেওয়া হয়। তার পিতা জাদু মিয়া পূর্বে রাংপুরের মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন এবং রিতা তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
নারী ক্ষমতায়নকে তার ক্যাম্পেইনের মূল থিম করে রিতা রাংপুরের বিভিন্ন পাড়া ঘুরে ঘুরে নারীদের স্বাবলম্বী হতে এবং সমাজে সক্রিয় ভূমিকা নিতে আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “নারী না জাগলে আমাদের উন্নয়ন অসম্পূর্ণ থাকবে” এবং এই বার্তাটি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে যুক্ত।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, রিতার এই ধরনের সরাসরি যোগাযোগ এবং নারীদের ওপর জোর দেওয়া রাংপুর‑৩ নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাব পরিবর্তনে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নারীর ভোটারসংখ্যা বেশি হওয়ায় তার এই কৌশল পার্টি ভিত্তিক ভোটারদের থেকে আলাদা সাপোর্ট গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
পরবর্তী সময়ে রিতা আরও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ চালিয়ে যাবেন, তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে এবং রাংপুরের উন্নয়ন ও নারীর স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে। তার ক্যাম্পেইন কিভাবে শেষ পর্যন্ত ফলাফল দেবে তা নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট হবে।



