ইমারল্ড ফেনেল তার প্রত্যাশিত ‘উদার হাইটস’ অভিযোজনের প্রথম প্রেস স্ক্রিনিং মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়। ১৮৪৭ সালের ক্লাসিক উপন্যাসের ভিত্তিতে তৈরি এই চলচ্চিত্রটি ১৩ ফেব্রুয়ারি থিয়েটারে মুক্তি পাবে।
ফিল্মটি ইংল্যান্ডের পশ্চিম ইয়র্কশায়ার মেঘাচ্ছন্ন উপত্যকায় স্থাপিত, যেখানে ক্যাথরিন আর্নশো (মারগট রোবি) এবং হিথক্লিফ (জেকব এলোর্ডি) এর তীব্র প্রেম-দ্বন্দ্বের গল্প বুনে। উপন্যাসের মূল থিমগুলোকে আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রধান ভূমিকায় অস্ট্রেলিয়ার দুই জনপ্রিয় অভিনেত্রী মারগট রোবি ও জেকব এলোর্ডি উপস্থিত। রোবি ক্যাথরিনের জটিল আবেগকে চিত্রিত করেন, আর এলোর্ডি হিথক্লিফের উগ্রতা ও আকর্ষণকে মূর্ত করেন। দুজনের পারস্পরিক রসায়নকে দর্শকরা ইতিমধ্যে প্রশংসা করছেন।
সহায়ক ভূমিকায় হং চৌ, শাজাদ লতিফ, অ্যালিসন অলিভার, মার্টিন ক্লুনস এবং ইওয়ান মিচেলসহ বিশিষ্ট শিল্পী যুক্ত। প্রতিটি চরিত্রের জন্য নির্দিষ্ট রঙ ও স্বর যোগ করে ছবির বর্ণনা সমৃদ্ধ হয়েছে।
ফেনেল এই কাজের মাধ্যমে তার তৃতীয় পরিচালনায় পদার্পণ করছেন। পূর্বে তিনি ‘প্রমিসিং ইয়ং ওম্যান’ (২০২০) দিয়ে অস্কার জিতেছিলেন এবং ‘সল্টবার্ন’ (২০২৩) দিয়ে ব্যাফ্টা মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তার স্বতন্ত্র শৈলী ও বর্ণনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি এই রোমান্সে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
‘উদার হাইটস’ বহুবার পর্দায় রূপান্তরিত হয়েছে। ১৯৩৯ সালে উইলিয়াম ওয়াইলার, ১৯৭০ সালে রবার্ট ফুয়েস্ট, ১৯৯২ সালে পিটার কোসমিনস্কি এবং ২০১১ সালে আন্দ্রিয়া আর্নল্ডের সংস্করণগুলো চলচ্চিত্র ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি সংস্করণ নিজস্ব সময়ের সামাজিক ও শিল্পগত রঙে রঙিন।
ওয়ার্নার ব্রদার্স পিকচার্স প্রেসকে সামাজিক মাধ্যমে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া শেয়ার করার অনুমতি দিয়েছে। স্ক্রিনিংয়ের পর অভিনেতা ও পরিচালককে নিয়ে পোস্ট করা মন্তব্যগুলোতে ছবির ভিজ্যুয়াল ও আবেগময় তীব্রতা নিয়ে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে।
প্রথম দর্শকরা ছবির দৃশ্যমান সৌন্দর্যকে প্রশংসা করেছেন; বিশেষ করে উপত্যকার বায়ু ও মেঘের সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা পরিবেশকে ‘মন্ত্রমুগ্ধকর’ বলা হয়েছে। ফেনেল তার ক্যামেরা দিয়ে প্রকৃতির বিশালতা ও চরিত্রের অন্তর্নিহিত সংঘাতকে সূক্ষ্মভাবে ধরেছেন।
সামাজিক মিডিয়ায় শেয়ার করা রিভিউগুলোতে ছবির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী মন্তব্য দেখা যায়। উভয় প্রধান অভিনেতার জনপ্রিয়তা ও ফেনেলের সুনামকে মিলিয়ে, ছবিটি বড় স্ক্রিনে সফলতা অর্জন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রকাশের আগে সমালোচকদের পূর্ণ রিভিউ এখনও নিষিদ্ধ, তবে মিডিয়ার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছবির বাণিজ্যিক ও শিল্পগত উভয় দিকেই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নির্দেশ করে। চলচ্চিত্রটি ১৩ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেলে দর্শকসীমা দ্রুত বাড়বে বলে অনুমান।
‘উদার হাইটস’ শুধু একটি রোমান্স নয়, বরং ক্লাসিক সাহিত্যের আধুনিক রূপান্তর হিসেবে বিবেচিত। ফেনেল ও তার দল এই কাজের মাধ্যমে পুরনো গল্পকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন। চলচ্চিত্রের পর্দা উন্মোচন হলে, এটি বাংলা সিনেমাপ্রেমীর জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা হবে।



