বুধবার ঢাকা শহরে মার্কিন দূতাবাসের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা পর্যালোচনা করেন। উভয় পক্ষের আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা।
বৈঠকে জানানো হয় যে, বাংলাদেশ সরকার নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বয় বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও রেঞ্জার মোতায়েন, নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন এবং জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে, সরকার ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের নিরাপত্তা পরীক্ষা, সাইবার হুমকি মোকাবিলার জন্য বিশেষ টিম গঠন এবং তথ্য বিশ্লেষণ কেন্দ্রের কার্যক্রম বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হল ডিজিটাল হ্যাকিং ও তথ্য জালিয়াতি রোধ করা।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বৈঠকে সরকারের এই প্রস্তুতিগুলোকে প্রশংসা করে বলেন, “বাংলাদেশ সরকার নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে উদ্যোগগুলো গ্রহণ করেছে তা প্রশংসনীয় এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি শেয়ার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা। উভয় পক্ষই সীমানা নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম এবং সাইবার নিরাপত্তা ক্ষেত্রে তথ্য বিনিময় বাড়ানোর প্রস্তাব রাখে।
বিশেষ করে সীমানা অঞ্চলে অবৈধ পণ্য ও সন্ত্রাসী প্রবাহ রোধে যৌথ প্রশিক্ষণ ও সমন্বিত পেট্রোলিং চালু করার কথা আলোচনা হয়। এছাড়া, সাইবার হুমকি শনাক্তকরণ ও প্রতিক্রিয়ার জন্য যৌথ সেন্টার গড়ে তোলার সম্ভাবনা উত্থাপিত হয়।
বাংলাদেশ সরকার বৈঠকে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর পক্ষ থেকে উল্লেখ করেন, “নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা কামনা করেন।
মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করা হয় এবং উভয় পক্ষের আলোচনার মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে উভয় দেশই নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহায়তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং ফলাফলকে স্বীকৃতি দেওয়া সহজ হবে। তাই এই ধরনের দ্বিপক্ষীয় সমন্বয় প্রক্রিয়া দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও স্বচ্ছতা সংস্থাগুলোর দৃষ্টিতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নির্বাচনকে বৈধতা প্রদান করে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেতে পারে।
বৈঠকের পরবর্তী ধাপ হিসেবে উভয় দেশই নিয়মিত সংযোগ বজায় রেখে নিরাপত্তা পরিকল্পনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে একটি যৌথ মূল্যায়ন সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া, নির্বাচনের পর ফলাফল বিশ্লেষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যালোচনার জন্য একটি যৌথ রিপোর্ট প্রস্তুত করার প্রস্তাবও করা হয়েছে। এই রিপোর্ট ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।
সামগ্রিকভাবে, বৈঠকটি বাংলাদেশ সরকার ও মার্কিন দূতাবাসের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন মাত্রা উন্মোচন করেছে এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই আলোচনার ফলস্বরূপ, নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। ভবিষ্যতে উভয় দেশের নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বিত কাজ দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



